اللَّهُ عَنْهُمَا أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «الكَرِيمُ، ابْنُ الكَرِيمِ، ابْنِ الكَرِيمِ، ابْنِ الكَرِيمِ يُوسُفُ بْنُ يَعْقُوبَ بْنِ إِسْحَاقَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ عَلَيْهِمُ السَّلاَمُ»
“ইবনু উমর (রা.) থেকে বর্ণিত—রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: ‘সম্মানিত ব্যক্তির পুত্র, তাঁর পুত্র সম্মানিত, তাঁর পুত্রও সম্মানিত; তিনি হলেন—ইউসুফ ইবনু ইয়াক্বূব ইবনু ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (সা.)’।” [সহীহুল বুখারী, হাদীস: ৩৩৯০]
ইবরাহীম (সা.)-এর শোকরিয়া
দুই পুত্র—ইসমা‘ঈল ও ইসহাককে পেয়ে ইবরাহীম (সা.) আল্লাহর দরবারে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছিলেন।
الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي وَهَبَ لِي عَلَى الْكِبَرِ إِسْمَاعِيلَ وَإِسْحَاقَ ۚ إِنَّ رَبِّي لَسَمِيعُ الدُّعَاءِ
“সব প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাকে বৃদ্ধ বয়সে ইসমা‘ঈল ও ইসহাককে দান করেছেন; নিশ্চয়ই আমার প্রতিপালক প্রার্থনা শ্রবণকারী।” [সূরাহ ইবরাহীম: ৩৯]
অধ্যায়ের শিক্ষা:
আল্লাহর ক্ষমতার ওপর বিশ্বাস: বয়স বা শারীরিক অবস্থা যাই হোক না কেন, আল্লাহ চাইলে যেকোনো অসম্ভবকে সম্ভব করতে পারেন।
ইলমের মর্যাদা: আল্লাহ ইসহাক (সা.)-কে ‘আলিম’ বলে প্রশংসা করেছেন, যা জ্ঞান অর্জনের গুরুত্ব বহন করে।
নেককার সন্তানের সুসংবাদ: ইসহাক (সা.) কেবল সন্তানই ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন একজন ‘নবী’ ও ‘সালেহ’ (সৎকর্মশীল)। সন্তানের জন্য নেককার হওয়ার দোয়া করা মুমিনের বৈশিষ্ট্য।
বংশীয় ধারা: ইসহাক (সা.)-এর মাধ্যমে বনী ইসরাঈলের নবুওয়াতের ধারা শুরু হয়, যা আল্লাহর এক বিশেষ নেয়ামত।
ধৈর্যের ফল: বিবি সারাহ সারাজীবন নিঃসন্তান থাকার পর বার্ধক্যে যে সন্তান পেলেন, তা ছিল তাঁর দীর্ঘদিনের সবরের এক শ্রেষ্ঠ পুরস্কার।
ইয়াক্বূব (সা.)
ইয়াক্বূব (সা.) এর পরিচয় ও মর্যাদা
হযরত ইয়াক্বূব (সা.) ছিলেন ইসলামের ইতিহাসে এক অনন্য ধৈর্যের প্রতীক। তিনি যেমন মহান নবিদের বংশধর ছিলেন, তেমনি তাঁর সন্তানদের মধ্য থেকেও আল্লাহ তা‘আলা ইউসুফ (সা.)-এর মতো শ্রেষ্ঠ নবী নির্বাচন করেছিলেন। ইয়াক্বূব (সা.)-এর জীবন ছিল পরীক্ষায় ঘেরা, বিশেষ করে প্রিয় পুত্র ইউসুফ (সা.)-কে হারানোর বিরহ তাঁকে দীর্ঘকাল ব্যথিত রেখেছিল। কিন্তু এই কঠিন সময়েও তিনি ‘সবরুন জামীল’ বা ‘সুন্দর ধৈর্য’ ধারণের এক অতুলনীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। আল্লাহ তা‘আলা তাঁকে প্রখর দৃষ্টিসম্পন্ন এবং কর্মঠ হিসেবে কুরআনে প্রশংসা করেছেন।
জন্মের সুসংবাদ ও নবী হিসেবে মর্যাদা
ইসহাক (সা.)-এর জন্মের সুসংবাদের সাথেই তাঁর পুত্র ইয়াক্বূব (সা.)-এর আগমনের সংবাদ ফেরেশতারা ইবরাহীম (সা.)-কে দিয়েছিলেন।
فَبَشَّرْنَاهَا بِإِسْحَاقَ وَمِن وَرَاءِ إِسْحَاقَ يَعْقُوبَ
“অতঃপর আমি তাঁকে (সারাহকে) ইসহাকের এবং ইসহাকের পরবর্তী
