ইবরাহীম (সা.)-এর দাওয়াতের প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল অত্যন্ত নম্র ভাষা এবং গভীর মমত্ববোধ। তিনি যখন তাঁর পিতা আযরকে দাওয়াত দিয়েছিলেন, তখন বারবার ‘হে আমার প্রিয় পিতা’ (ইয়া আবাতি) সম্বোধন করে তাঁকে শিরকের ভয়াবহতা বুঝিয়েছেন। আবার যখন তিনি নমরূদের দরবারে গিয়েছিলেন, তখন রাজকীয় প্রতাপের ভয় না করে অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে স্রষ্টার একত্ববাদ প্রমাণ করেছেন। তিনি মানুষকে কেবল অন্ধ বিশ্বাস নয়, বরং সৃষ্টির নিগূঢ় রহস্য পর্যবেক্ষণ করে প্রকৃত মালিককে চেনার আহ্বান জানিয়েছিলেন। এই অধ্যায়ে আমরা ইবরাহীম (সা.)-এর দাওয়াতী পদ্ধতি এবং বিভিন্ন স্তরের মানুষের কাছে তাঁর তাওহীদী পয়গামের বিবরণ জানব।
পিতাকে অত্যন্ত দরদমাখা কণ্ঠে দাওয়াত
ইবরাহীম (সা.) তাঁর পিতাকে মূর্তিপূজা ত্যাগ করার জন্য অত্যন্ত বিনয়ের সাথে অনুরোধ করেছিলেন।
يَا أَبَتِ لِمَ تَعْبُدُ مَا لَا يَسْمَعُ وَلَا يُبْصِرُ وَلَا يُغْنِي عَنكَ شَيْئًا। يَا أَبَتِ إِنِّي قَدْ جَاءَنِي مِنَ الْعِلْمِ مَا لَمْ يَأْتِكَ فَاتَّبِعْنِي أَهْدِكَ صِرَاطًا سَوِيًّا
“হে আমার প্রিয় পিতা! আপনি কেন এমন কিছুর ইবাদত করেন যা শোনে না, দেখে না এবং আপনার কোনো কাজেই আসে না? হে আমার প্রিয় পিতা! আমার কাছে এমন জ্ঞান এসেছে যা আপনার কাছে আসেনি; সুতরাং আপনি আমার অনুসরণ করুন, আমি আপনাকে সঠিক পথ দেখিয়ে দেব।” [সূরাহ মারয়াম: ৪২-৪৩]
শয়তানের দাসত্ব থেকে সতর্কীকরণ
তিনি তাঁর পিতাকে সতর্ক করেছিলেন যে, মূর্তিপূজা মূলত শয়তানেরই আনুগত্য।
يَا أَبَتِ لَا تَعْبُدِ الشَّيْطَانَ ۖ إِنَّ الشَّيْطَانَ كَانَ لِلرَّحْمَٰنِ عَصِيًّا
“হে আমার প্রিয় পিতা! আপনি শয়তানের ইবাদত করবেন না; নিশ্চয়ই শয়তান পরম দয়াময় (আল্লাহর) অবাধ্য।” [সূরাহ মারয়াম: ৪৪]
শাসক নমরূদের সামনে সাহসিকতাপূর্ণ দাওয়াত
নমরূদ যখন নিজেকে রব দাবি করল, তখন ইবরাহীম (সা.) তাকে স্রষ্টার প্রকৃত ক্ষমতা দেখিয়ে লাজবাব করে দিয়েছিলেন।
إِذْ قَالَ إِبْرَاهِيمُ رَبِّيَ الَّذِي يُحْيِي وَيُمِيتُ قَالَ أَنَا أُحْيِي وَأُمِيتُ ۖ قَالَ إِبْرَاهِيمُ فَإِنَّ اللَّهَ يَأْتِي بِالشَّمْسِ مِنَ الْمَشْرِقِ فَأْتِ بِهَا مِنَ الْمَغْرِبِ فَبُهِتَ الَّذِي كَفَرَ
“যখন ইবরাহীম বলল—‘আমার প্রতিপালক তিনিই, যিনি জীবন দান করেন এবং মৃত্যু ঘটান’। সে বলল—‘আমিও তো জীবন দান করি ও মৃত্যু ঘটাই’। ইবরাহীম বলল—‘নিশ্চয়ই আল্লাহ সূর্যকে পূর্ব দিক থেকে উদিত করেন, আপনি একে পশ্চিম দিক থেকে উদিত করুন’। এতে সেই কাফিরটি হতভম্ব হয়ে গেল।” [সূরাহ আল-বাক্বারাহ: ২৫৮]
সমাজ ও কওমের
