বলল—‘নিশ্চয়ই তিনি যে বাণী নিয়ে প্রেরিত হয়েছেন আমরা তাতে বিশ্বাসী’। অহংকারী নেতারা বলল—‘তোমরা যে বিষয়ে ঈমান এনেছ আমরা তাকে অস্বীকারকারী’।” [সূরাহ আল-আ‘রাফ: ৭৫-৭৬]
অলৌকিক নিদর্শনের (উটনীর) দাবি
হঠকারিতার চূড়ান্ত পর্যায়ে তারা সালেহ (সা.)-কে অসাধ্য কিছু করে দেখানোর চ্যালেঞ্জ দেয়।
قَالُوا يَا صَالِحُ ائْتِنَا بِمَا تَعِدُنَا إِن كُنتَ مِنَ الْمُرْسَلِينَ
“তারা বলল—‘হে সালেহ! তুমি যদি সত্যিই রাসূলদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে থাকো, তবে তুমি আমাদের যার (আযাবের) ভয় দেখাচ্ছো তা নিয়ে আসো’।” [সূরাহ আল-আ‘রাফ: ৭৭]
ফাসাদ সৃষ্টিকারী নয়জন নেতা
ছামূদ জাতির ভেতরে একটি বিশেষ সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ছিল যারা মানুষের মধ্যে অশান্তি ও ফাসাদ ছড়াত।
وَكَانَ فِي الْمَدِينَةِ تِسْعَةُ رَهْطٍ يُفْسِدُونَ فِي الْأَرْضِ وَلَا يُصْلِحُونَ
“আর সেই শহরে নয়জন ব্যক্তি ছিল যারা জমিনে ফাসাদ সৃষ্টি করত এবং কোনো সংশোধনমূলক কাজ করত না।” [সূরাহ আন-নামল: ৪৮]
অধ্যায়ের শিক্ষা:
সত্যের পথে অপবাদ: যখনই কোনো সত্যের আহ্বান আসে, কাফিররা দাঈকে ‘পাগল’ বা ‘যাদুকর’ বলে আক্রমণ করে যেন সাধারণ মানুষ তাঁর কাছ থেকে দূরে থাকে।
বিপদকে মুমিনের ঘাড়ে চাপানো: অমঙ্গলের বিশ্বাস বা কুসংস্কার কাফিরদের পুরনো অভ্যাস। মুমিনরা কখনো কুলক্ষণ বা অমঙ্গলে বিশ্বাস করে না।
ধনী বনাম দরিদ্রের সংঘাত: নবিদের অনুসারী সাধারণত দুর্বল ও দরিদ্ররা হয়ে থাকে, আর তাদের বিরোধিতায় নামে সমাজের অহংকারী ধনিক শ্রেণি।
হঠকারিতার সীমা: সত্য স্পষ্ট হওয়ার পরেও তা কেবল অহংকারের বশবর্তী হয়ে অস্বীকার করা ধ্বংসের মূল কারণ।
সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর প্রভাব: সমাজে মুষ্টিমেয় পাপাচারী লোক যদি শক্তিশালী হয় এবং সাধারণ মানুষ তাদের বাধা না দেয়, তবে পুরো জাতির ওপর আল্লাহর আযাব নেমে আসে।
অধ্যায়- ৪: নবী ভালোভাবে বুঝালেন ও মু‘জিযা দেখালেন
ছামূদ জাতি সালেহ (সা.)-এর কাছে দাবি করেছিল যে, তিনি যদি সত্যিই নবী হন তবে যেন এই নিরেট পাহাড়ের ভেতর থেকে একটি গর্ভবতী ও স্বাস্থ্যবতী উটনী বের করে দেখান। সালেহ (সা.) তাঁদের কাছ থেকে অঙ্গীকার নিলেন যে, যদি এই মু‘জিযা দেখানো হয় তবে তারা ঈমান আনবে কি না। তারা রাজি হওয়ার পর আল্লাহর হুকুমে পাহাড় ফেটে এক বিশালকায় অলৌকিক উটনী বের হয়ে এল। সালেহ (সা.) তাঁদেরকে অত্যন্ত নরম ভাষায় বোঝালেন যে, এটি সাধারণ কোনো প্রাণী নয় বরং এটি ‘নাজাতুল্লাহ’ বা আল্লাহর উটনী। তিনি তাঁদেরকে পানি পান
