দাওয়াত গ্রহণ না করার সবচেয়ে বড় অজুহাত হলো—‘আমাদের পূর্বপুরুষরা যা করত তা ছাড়া কিছু বুঝব না’। এটি একটি শয়তানী ধোঁকা।
নিষ্কাম সেবা: একজন দ্বীনের দাঈ কখনোই মানুষের কাছে প্রতিদান প্রত্যাশা করবে না; তার যাবতীয় চাওয়া-পাওয়া কেবল আল্লাহর কাছেই সমর্পিত থাকবে।
অধ্যায়- ৩: নবীর সাথে জাতির আচরণ
সালেহ (সা.) ছিলেন ছামূদ জাতির অন্যতম সেরা মানুষ, যাঁকে নবুওয়াতের আগে তাঁর জাতি অত্যন্ত সম্মান করত। কিন্তু তিনি যখন তাঁদের ভুল পথ থেকে সরে আসার আহ্বান জানালেন, তখন সেই সম্মান ঘৃণায় রূপ নিল। তারা তাঁকে ‘যাদুকর’ ও ‘মিথ্যাবাদী’ অপবাদ দিল। এমনকি তারা তাঁকে এবং তাঁর অনুসারীদের অলক্ষুণে ও অমঙ্গলের প্রতীক বলে প্রচার করতে লাগল। ছামূদ জাতির অহংকার এতটাই প্রকট ছিল যে, তারা নিজেদের বুদ্ধি ও শক্তির দম্ভে আল্লাহর নবীকে নিয়ে উপহাস করতে দ্বিধাবোধ করেনি।
‘যাদুকর’ ও ‘মিথ্যাবাদী’ হওয়ার অপবাদ
ছামূদ জাতি সালেহ (সা.)-এর দাওয়াত শুনে তাঁকে মারাত্মকভাবে আক্রমণ করে এবং তাঁকে যাদুগস্ত বলে আখ্যা দেয়।
قَالُوا إِنَّمَا أَنتَ مِنَ الْمُسَحَّرِينَ। مَا أَنتَ إِلَّا بَشَرٌ مِّثْلُنَا فَأْتِ بِآيَةٍ إِن كُنتَ مِنَ الصَّادِقِينَ
“তারা বলল—‘তুমি তো কেবল যাদুগস্তদের একজন। তুমি আমাদের মতোই একজন মানুষ ছাড়া আর কিছু নও; সুতরাং তুমি যদি সত্যবাদী হও তবে কোনো নিদর্শন নিয়ে আসো’।” [সূরাহ আশ-শুয়ারা: ১৫৩-১৫৪]
নবীকে অমঙ্গলের প্রতীক সাব্যস্ত করা
যখনই তাঁদের ওপর কোনো বিপদ আসত, তারা সালেহ (সা.) ও মুমিনদের ওপর তার দায় চাপিয়ে দিত।
قَالُوا اطَّيَّرْنَا بِكَ وَبِمَن مَّعَكَ ۚ قَالَ طَائِرُكُمْ عِندَ اللَّهِ ۖ بَلْ أَنتُمْ قَوْمٌ تُفْتَنُونَ
“তারা বলল—‘তোমাকে ও তোমার সাথে যারা আছে তাঁদেরকে আমরা আমাদের জন্য অমঙ্গলের কারণ মনে করি’। সালেহ বলল—‘তোমাদের মঙ্গলামঙ্গল আল্লাহর নিয়ন্ত্রণে; বরং তোমরা এমন এক কওম যাঁদের পরীক্ষা করা হচ্ছে’।” [সূরাহ আন-নামল: ৪৭]
অহংকারী নেতাদের হঠকারিতা
সমাজের প্রভাবশালীরা সালেহ (সা.)-এর অনুসারী দুর্বল মুমিনদের ঈমান নিয়ে উপহাস করত।
قَالَ الْمَلأُ الَّذِينَ اسْتَكْبَرُوا مِن قَوْمِهِ لِلَّذِينَ اسْتُضْعِفُوا لِمَنْ آمَنَ مِنْهُمْ أَتَعْلَمُونَ أَنَّ صَالِحًا مُّرْسَلٌ مِّن رَّبِّهِ ۚ قَالُوا إِنَّا بِمَا أُرْسِلَ بِهِ مُؤْمِنُونَ। قَالَ الَّذِينَ اسْتَكْبَرُوا إِنَّا بِالَّذِي آمَنتُم بِهِ كَافِرُونَ
“তাঁর কওমের অহংকারী নেতারা ঈমানদার দুর্বলদের লক্ষ্য করে বলল—‘তোমরা কি সত্যিই জানো যে সালেহ তাঁর প্রতিপালকের পক্ষ থেকে প্রেরিত হয়েছে?’ তারা
