قَبْلَ هَٰذَا ۖ أَتَنْهَانَا أَن نَّعْبُدَ مَا يَعْبُدُ آبَاؤُنَا وَإِنَّنَا لَفِي شَكٍّ مِّمَّا تَدْعُونَا إِلَيْهِ مُرِيبٍ
“তারা বলল—‘হে সালেহ! ইতিপূর্বে তুমি আমাদের মধ্যে আশার স্থল ছিলে। আমাদের পিতৃপুরুষরা যার ইবাদত করত, তুমি কি আমাদের তার ইবাদত করতে নিষেধ করছো? তুমি আমাদের যে পথের দিকে ডাকছো, সে সম্পর্কে আমরা বিভ্রান্তিকর সন্দেহের মধ্যে রয়েছি’।” [সূরাহ হূদ: ৬২]
নেয়ামতের অপব্যবহার থেকে সতর্কীকরণ
সালেহ (সা.) তাঁদেরকে বাগান, শস্যক্ষেত ও পাহাড় কেটে তৈরি প্রাসাদের বিলাসিতা সম্পর্কে সতর্ক করেন।
أَتُتْرَكُونَ فِي مَا هَاهُنَا آمِنِينَ। فِي جَنَّاتٍ وَعُيُونٍ। وَزُرُوعٍ وَنَخْلٍ طَلْعُهَا هَضِيمٌ। وَتَنْحِتُونَ مِنَ الْجِبَالِ بُيُوتًا فَارِهِينَ
“তোমাদেরকে কি এখানে যা কিছু আছে—তাতে নিরাপদ অবস্থায় ছেড়ে রাখা হবে? এই বাগানসমূহ ও প্রস্রবণসমূহের মধ্যে? আর এই শস্যক্ষেত ও লতানো খেজুর বাগানের মধ্যে? আর তোমরা পাহাড় কেটে অত্যন্ত নিপুণভাবে অট্টালিকা নির্মাণ করছো?” [সূরাহ আশ-শুয়ারা: ১৪৬-১৪৯]
কোনো পারিশ্রমিক না চাওয়ার নিশ্চয়তা
অন্যান্য সকল নবীর মতো সালেহ (সা.)-ও স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন যে, তিনি কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই কাজ করছেন।
وَمَا أَسْأَلُكُمْ عَلَيْهِ مِنْ أَجْرٍ ۖ إِنْ أَجْرِيَ إِلَّا عَلَىٰ رَبِّ الْعَالَمِينَ
“আর আমি এই কাজের জন্য তোমাদের কাছে কোনো পারিশ্রমিক চাই না; আমার পারিশ্রমিক তো কেবল বিশ্বজগতের প্রতিপালকের কাছেই রয়েছে।” [সূরাহ আশ-শুয়ারা: ১৪৫]
নবীগণের দাওয়াতের অভিন্ন লক্ষ্য সম্পর্কে হাদীস
রাসূলুল্লাহ (সা.) সালেহ (সা.) ও অন্যান্য নবীগণের দাওয়াতের মূল ভিত্তি সম্পর্কে বলেন—
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «الأَنْبِيَاءُ إِخْوَةٌ لِعَلاَّتٍ، أُمَّهَاتُهُمْ شَتَّى وَدِينُهُمْ وَاحِدٌ»
“আবূ হুরায়রাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেছেন: ‘নবীগণ হলেন বৈমাত্রেয় ভাইয়ের মতো; তাঁদের মায়েরা (শরীয়তের শাখা-প্রশাখা) ভিন্ন হলেও তাঁদের দ্বীন (মূল তাওহীদ) এক’।” [সহীহুল বুখারী, হাদীস: ৩৪৪৩; সহীহ মুসলিম, হাদীস: ২৩৬৫]
অধ্যায়ের শিক্ষা:
তাওহীদের প্রাধান্য: সকল নবীর প্রধান ও প্রথম দাওয়াত হলো এক আল্লাহর ইবাদত প্রতিষ্ঠা করা।
বিবেকের কাছে প্রশ্ন: সালেহ (সা.) মানুষকে তাঁদের আদি উৎস (মাটি) এবং বর্তমান নেয়ামত (প্রাসাদ ও বাগান) সম্পর্কে চিন্তা করতে উদ্বুদ্ধ করেছেন।
যোগ্যতার কদর: সালেহ (সা.) নবুওয়াত পাওয়ার আগে তাঁর সততা ও মেধার কারণে কওমের কাছে অত্যন্ত প্রিয় ও আশার স্থল ছিলেন। ঈমানদারকে সামাজিকভাবেও সৎ ও যোগ্য হতে হয়।
পিতৃপুরুষের অন্ধ অনুকরণ: সত্যের
