কুরআনে বর্ণিত নবীদের জীবনী

« <
/ 118
> »

বনাম নশ্বরতা: পাহাড় কেটে ঘর বানিয়েও কেউ অমর হতে পারে না। প্রকৃত নিরাপত্তা পাথর বা অট্টালিকায় নয়, বরং আল্লাহর আনুগত্যের মধ্যে নিহিত।

ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি: ছামূদ জাতি আদ জাতির পরিণতি জানত, তবুও তারা একই পাপে লিপ্ত হলো। এটি মানুষের সীমাহীন হঠকারিতার প্রমাণ।

নেয়ামতের আমানত: সম্পদ ও দক্ষতা আল্লাহর আমানত। একে যুলুম বা অহংকারের কাজে ব্যবহার করা ধ্বংসের পথ প্রশস্ত করে।

ধ্বংসপ্রাপ্ত স্থান থেকে শিক্ষা: আযাবপ্রাপ্ত জাতির ধ্বংসাবশেষ কেবল পর্যটন কেন্দ্র নয়, বরং তা থেকে অশ্রুসজল চোখে শিক্ষা নেওয়া মুমিনের কাজ।

প্রকৃতি ও সমৃদ্ধি: বাগান ও ঝর্ণার প্রাচুর্য যেন মানুষকে আখেরাত ভুলিয়ে না দেয়, কারণ আল্লাহ মুহূর্তেই তা কেড়ে নিতে পারেন।

অধ্যায়- ২: নবীর দাওয়াত প্রদান

সালেহ (সা.) ছিলেন ছামূদ জাতিরই একজন অত্যন্ত সম্মানিত ও বুদ্ধিমান ব্যক্তি। নবুওয়াত লাভের আগে তাঁর কওমের লোকেরা তাঁকে অনেক বড় বড় স্বপ্নের আধার মনে করত। কিন্তু তিনি যখন তাঁদেরকে মূর্তিপূজা ছেড়ে এক আল্লাহর আনুগত্যের দাওয়াত দিলেন, তখন তারা তাঁর চরম বিরোধিতায় লিপ্ত হলো। সালেহ (সা.) অত্যন্ত প্রজ্ঞার সাথে তাঁদেরকে আল্লাহর দেওয়া নেয়ামতসমূহ স্মরণ করিয়ে দিয়ে তাওবাহর গুরুত্ব বোঝাতে থাকেন। তিনি তাঁদেরকে এই সত্যটি হৃদয়ঙ্গম করাতে চেয়েছিলেন যে, পাথুরে পাহাড় খোদাই করে নির্মিত এই মজবুত অট্টালিকাগুলো তাঁদেরকে আল্লাহর পাকড়াও থেকে রক্ষা করতে পারবে না।

তাওহীদ ও সৃষ্টির মূল তত্ত্বের দাওয়াত

সালেহ (সা.) তাঁর জাতিকে মাটি থেকে সৃষ্টির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে এক আল্লাহর ইবাদতের আহ্বান জানান।

وَإِلَىٰ ثَمُودَ أَخَاهُمْ صَالِحًا ۚ قَالَ يَا قَوْمِ اعْبُدُوا اللَّهَ مَا لَكُم مِّنْ إِلَٰهٍ غَيْرُهُ ۖ هُوَ أَنشَأَكُم مِّنَ الْأَرْضِ وَاسْتَعْمَرَكُمْ فِيهَا فَاسْتَغْفِرُوهُ ثُمَّ تُوبُوا إِلَيْهِ

“আর ছামূদ জাতির কাছে আমি তাঁদের ভাই সালেহকে পাঠিয়েছিলাম। সে বলল—‘হে আমার কওম! তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো, তিনি ছাড়া তোমাদের অন্য কোনো সত্য উপাস্য নেই। তিনিই তোমাদেরকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তোমাদেরকে সেখানে আবাদ করেছেন; সুতরাং তোমরা তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো, তারপর তাঁরই দিকে ফিরে আসো (তাওবাহ করো)’।” [সূরাহ হূদ: ৬১]

দাওয়াতের জবাবে জাতির হতাশা ও সন্দেহ

সালেহ (সা.)-এর দাওয়াত শুনে তাঁর কওমের লোকেরা অবাক হয়ে গেল, কারণ তারা তাঁর কাছ থেকে বৈষয়িক নেতৃত্বের আশা করেছিল।

قَالُوا يَا صَالِحُ قَدْ كُنتَ فِينَا مَرْجُوًّا

« <
/ 118
> »