হন।
হূদ (আ.)
আ‘দ জাতির পরিচয় ও তাদের অহংকার
নূহ (আ.)-এর মহাপ্লাবনের পর পৃথিবীতে যে জাতিগুলো শক্তিশালী হয়ে উঠেছিল, তাদের মধ্যে অন্যতম ছিল আ‘দ জাতি। তারা যেমন ছিল দীর্ঘদেহী ও শক্তিশালী, তেমনি স্থাপত্যকলা ও সম্পদেও ছিল অনন্য। কিন্তু এই শক্তি ও প্রাচুর্য তাদের কৃতজ্ঞ করার পরিবর্তে চরম অহংকারী ও উদ্ধত করে তুলেছিল। তারা আল্লাহকে ভুলে মূর্তিপূজায় লিপ্ত হয় এবং পৃথিবীতে নিজেদের অজেয় মনে করতে শুরু করে। আল্লাহ তা‘আলা তাঁদের হেদায়েতের জন্য তাঁদেরই ভাই হূদ (আ.)-কে প্রেরণ করেন।
আ‘দ জাতির শক্তিমত্তা ও অজেয় ভাব
আ‘দ জাতি ছিল অত্যন্ত দীর্ঘদেহী এবং শক্তিশালী। তারা মনে করত পৃথিবীতে তাদের চেয়ে শক্তিশালী আর কেউ নেই।
فَأَمَّا عَادٌ فَاسْتَكْبَرُوا فِي الْأَرْضِ بِغَيْرِ الْحَقِّ وَقَالُوا مَنْ أَشَدُّ مِنَّا قُوَّةً
“অতঃপর আ‘দ জাতি পৃথিবীতে অন্যায়ভাবে অহংকার করল এবং বলল—‘আমাদের চেয়ে অধিক শক্তিশালী আর কে আছে?’” [সূরাহ ফুসসিলাত: ১৫]
ইরাম এবং তাদের স্থাপত্যশৈলী
তারা সুউচ্চ অট্টালিকা ও থামবিশিষ্ট ইরাম শহর নির্মাণ করেছিল, যার উদাহরণ তৎকালীন বিশ্বে ছিল না।
أَلَمْ تَرَ كَيْفَ فَعَلَ رَبُّكَ بِعَادٍ. إِرَمَ ذَاتِ الْعِمَادِ. الَّتِي لَمْ يُخْلَقْ مِثْلُهَا فِي الْبِلَادِ
“তুমি কি লক্ষ্য করোনি তোমার প্রতিপালক আ‘দ জাতির সাথে কী করেছিলেন? যারা ছিল সুউচ্চ স্তম্ভবিশিষ্ট ইরামের অধিবাসী। যাদের সমতুল্য কোনো জাতি কোনো দেশে সৃষ্টি করা হয়নি।” [সূরাহ আল-ফজর: ৬-৮]
হূদ (আ.)-এর একনিষ্ঠ দাওয়াত
হূদ (আ.) তাঁদেরকে মূর্তিপূজা ছেড়ে এক আল্লাহর ইবাদতের এবং তাঁর শাস্তির ভয় দেখানোর দাওয়াত দিলেন।
وَإِلَىٰ عَادٍ أَخَاهُمْ هُودًا ۗ قَالَ يَا قَوْمِ اعْبُدُوا اللَّهَ مَا لَكُم مِّنْ إِلَٰهٍ غَيْرُهُ ۖ أَفَلَا تَتَّقُونَ
“আর আ‘দ জাতির কাছে আমি তাঁদের ভাই হূদকে পাঠিয়েছিলাম। সে বলেছিল—‘হে আমার কওম! তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো, তিনি ছাড়া তোমাদের অন্য কোনো সত্য উপাস্য নেই; তবুও কি তোমরা ভয় করবে না’?” [সূরাহ আল-আ‘রাফ: ৬৫]
অকারণে সুউচ্চ অট্টালিকা নির্মাণের নিন্দা
হূদ (আ.) তাঁদেরকে নিছক অহংকার প্রদর্শনের জন্য অট্টালিকা নির্মাণ ও চিরকাল বেঁচে থাকার ভ্রান্ত ধারণা থেকে সতর্ক করেন।
أَتَبْنُونَ بِكُلِّ رِيعٍ آيَةً تَعْبَثُونَ. وَتَتَّخِذُونَ مَصَانِعَ لَعَلَّكُمْ تَخْلُدُونَ
“তোমরা কি প্রতিটি উচ্চ স্থানে অনর্থক স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করছো? আর তোমরা বড় বড় প্রাসাদ নির্মাণ করছো—যেন তোমরা চিরস্থায়ী হবে?” [সূরাহ আশ-শুয়ারা: ১২৮-১২৯]
আ‘দ জাতির
