اللَّهُ عَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «يَا أَبَا ذَرٍّ… وَأَوَّلُ مَنْ خَطَّ بِالْقَلَمِ إِدْرِيسُ»
“আবূ যার (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেছেন: ‘হে আবূ যার! …ইদ্রীসই প্রথম ব্যক্তি যিনি কলম দিয়ে লিখেছিলেন’।” [সহীহ ইবনু হিব্বান, হাদীস: ৩৬১]
জান্নাতে ইদ্রীস (আ.)-এর অবস্থান
হাদীস ও সীরাত গ্রন্থসমূহে বর্ণিত হয়েছে যে, ইদ্রীস (আ.)-এর জান্নাত দর্শনের তীব্র আকাঙ্ক্ষা ছিল এবং আল্লাহ তাঁর সেই ইচ্ছা পূরণ করেছেন। তিনি জান্নাতের নি‘য়ামতসমূহ প্রত্যক্ষ করেছেন এবং সেখানে তাঁর স্থায়ী অবস্থান নির্ধারিত হয়েছে।
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ فِي قَوْلِهِ تَعَالَى: {وَرَفَعْنَاهُ مَكَانًا عَلِيًّا} قَالَ: رُفِعَ إِلَى السَّمَاءِ السَّادِسَةِ فَمَاتَ بِهَا
আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রা.) থেকে আল্লাহর বাণী ‘আমি তাঁকে উচ্চ স্থানে উন্নীত করেছি’ এর ব্যাখ্যায় বর্ণিত হয়েছে: “তাঁকে ষষ্ঠ আসমানে উত্তোলন করা হয়েছিল এবং সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয় (কিংবা অবস্থান নির্ধারিত হয়)।” [তাফসীরুল তাবারী; ইবনু কাসীর]
জান্নাতের নি‘য়ামত প্রথম প্রত্যক্ষকারী নবীগণের অন্যতম
বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও ইসরাঈলী বর্ণনা (যা ইসলামের মূলনীতির বিরোধী নয়) অনুযায়ী, ইদ্রীস (আ.) মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণের পর আল্লাহর অনুমতিতে জান্নাত ভ্রমণ করেন এবং সেখানে প্রবেশের পর আর বের হতে চাননি। তিনি জান্নাতের শান্তি ও নিরাবত্তা দেখে সেখানেই থেকে যাওয়ার আরজি জানিয়েছিলেন।
أَنَّ إِدْرِيسَ كَانَ لَهُ صَدِيقٌ مِنَ الْمَلَائِكَةِ فَسَأَلَهُ أَنْ يُرِيَهُ الْجَنَّةَ، فَأَدْخَلَهُ إِيَّاهَا…
আনাস ইবনু মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত আছে যে: “ইদ্রীস (আ.)-এর এক ফেরেশতা বন্ধু ছিল। তিনি তাঁর কাছে জান্নাত দেখার অনুরোধ করেন। অতঃপর ফেরেশতা তাঁকে জান্নাতে প্রবেশ করান (আল্লাহর হুকুমে) এবং তিনি জান্নাতের বিস্ময়কর সৌন্দর্য প্রত্যক্ষ করেন।” [আদ-দুররুল মানসূর]
অধ্যায়ের শিক্ষা:
সত্যবাদিতার পুরস্কার: ইদ্রীস (আ.)-এর প্রধান গুণ ছিল সত্যবাদিতা (সিদক), যা তাঁকে আল্লাহর কাছে অত্যন্ত প্রিয় করে তুলেছিল।
ধৈর্যের গুরুত্ব: দ্বীনের পথে বাধা বিপত্তি আসবেই, তবে নবিদের মতো ধৈর্য ধরলে আল্লাহর রহমত পাওয়া নিশ্চিত।
জ্ঞান ও প্রযুক্তির মর্যাদা: দ্বীনের কাজের পাশাপাশি লেখালেখি, বিজ্ঞান ও জাগতিক কল্যাণকর বিদ্যার চর্চা নবীদেরই সুন্নাহ।
মর্যাদা আল্লাহর হাতে: আল্লাহ যাকে ইচ্ছা দুনিয়া ও আখেরাতে সুউচ্চ স্থানে উন্নীত করেন। ইদ্রীস (আ.)-এর চতুর্থ আসমানে অবস্থান তাঁর বিশাল মর্যাদার প্রতিফলন।
নেককারদের সাহচর্য: নবীগণের পারস্পরিক অভিবাদন ও সম্মান আমাদের শেখায় যে, নেককার মানুষেরা একে অপরের প্রতি সদয় ও শ্রদ্ধাশীল
