তাঁর প্রশংসা করেছেন এবং তাঁকে এক উচ্চ মর্যাদায় সমাসীন করার কথা উল্লেখ করেছেন। ঐতিহাসিকভাবে তাঁকে কলম দিয়ে লেখার সূচনা কারী এবং জ্যোতির্বিজ্ঞান ও স্থাপত্যবিদ্যার পথিকৃৎ হিসেবে গণ্য করা হয়। তিনি মানুষকে আল্লাহর ইবাদতের পাশাপাশি জ্ঞান-বিজ্ঞান ও উন্নত জীবনযাপনের শিক্ষা দিয়েছিলেন।
সত্যবাদী নবী হিসেবে কুরআনে স্বীকৃতি
আল্লাহ তা‘আলা ইদ্রীস (আ.)-কে তাঁর সিদ্দীক বা পরম সত্যবাদী নবী হিসেবে অভিহিত করেছেন।
وَاذْكُرْ فِي الْكِتَابِ إِدْرِيسَ ۚ إِنَّهُ كَانَ صِدِّيقًا نَّبِيًّا
“আর এই কিতাবে ইদ্রীসের কথা বর্ণনা করো; নিশ্চয়ই সে ছিল একজন পরম সত্যবাদী নবী।” [সূরাহ মারয়াম: ৫৬]
সুউচ্চ মর্যাদায় আরোহণ
আল্লাহ তাঁকে এমন এক উচ্চ স্থানে তুলে নিয়েছিলেন, যা তাঁর বিশেষ শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ।
وَرَفَعْنَاهُ مَكَانًا عَلِيًّا
“আর আমি তাঁকে এক সুউচ্চ স্থানে উন্নীত করেছিলাম।” [সূরাহ মারয়াম: ৫৭]
ধৈর্যশীল ও আল্লাহর রহমতপ্রাপ্ত
ইসমা‘ঈল (আ.) ও যুল-কিফল (আ.)-এর সাথে ইদ্রীস (আ.)-এর ধৈর্য ও নেককার হওয়ার সাক্ষ্য আল্লাহ দিয়েছেন।
وَإِسْمَاعِيلَ وَإِدْرِيسَ وَذَا الْكِفْلِ ۖ كُلٌّ مِّنَ الصَّابِرِينَ। وَأَدْخَلْنَاهُمْ فِي رَحْمَتِنَا ۖ إِنَّهُم مِّنَ الصَّالِحِينَ
“আর ইসমা‘ঈল, ইদ্রীস ও যুল-কিফলের কথা স্মরণ করো; তাঁরা সবাই ছিলেন ধৈর্যশীল। আর আমি তাঁদেরকে আমার রহমতের অন্তর্ভুক্ত করেছিলাম; নিশ্চয়ই তাঁরা ছিলেন সৎকর্মপরায়ণদের অন্তর্ভুক্ত।” [সূরাহ আল-আম্বিয়া: ৮৫-৮৬]
মিরাজের রাতে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সাথে সাক্ষাৎ
রাসূলুল্লাহ (সা.) যখন মিরাজে গমন করেন, তখন চতুর্থ আসমানে ইদ্রীস (আ.)-এর সাথে তাঁর সাক্ষাৎ হয়েছিল।
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ فِي حَدِيثِ المِعْرَاجِ: «…ثُمَّ عُرِجَ بِنَا إِلَى السَّمَاءِ الرَّابِعَةِ فَاسْتَفْتَحَ جِبْرِيلُ… فَلَمَّا خَلَصْتُ فَإِذَا إِدْرِيسُ، قَالَ: هَذَا إِدْرِيسُ فَسَلِّمْ عَلَيْهِ، فَسَلَّمْتُ عَلَيْهِ، فَرَدَّ ثُمَّ قَالَ: مَرْحَبًا بِالأَخِ الصَّالِحِ وَالنَّبِيِّ الصَّالِحِ»
“আনাস ইবনু মালিক (রা.) থেকে মিরাজের দীর্ঘ হাদীসে বর্ণিত: ‘…অতঃপর আমাদের চতুর্থ আসমানে নিয়ে যাওয়া হলো এবং জিবরীল (আ.) দরজা খুলতে বললেন। …যখন আমি ভেতরে গেলাম, সেখানে ইদ্রীস (আ.)-কে দেখতে পেলাম। জিবরীল বললেন—ইনি ইদ্রীস, তাঁকে সালাম দিন। আমি তাঁকে সালাম দিলাম। তিনি সালামের উত্তর দিলেন এবং বললেন—স্বাগতম হে নেককার ভাই ও নেককার নবী’।” [সহীহুল বুখারী, হাদীস: ৩৪৯০; সহীহ মুসলিম, হাদীস: ১৬৪]
প্রথম কলম ব্যবহারকারী ও জ্ঞানী নবী
তফসীরবিদগণ এবং ঐতিহাসিক বর্ণনা মতে, ইদ্রীস (আ.) ছিলেন প্রথম ব্যক্তি যিনি কলম দিয়ে লেখার সূচনা করেছিলেন।
عَنْ أَبِي ذَرٍّ رَضِيَ
