কুরআনে বর্ণিত নবীদের জীবনী

« <
/ 118
> »

ফল হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

বিবাদ মিটিয়ে ফেলা: শয়তান মানুষের মধ্যে বিচ্ছেদ সৃষ্টি করে, কিন্তু ক্ষমা সেই বিচ্ছেদ দূর করে ভালোবাসার সেতু তৈরি করে।

সাফল্যের মূলমন্ত্র: তাক্বওয়া (আল্লাহর ভয়) এবং সবর (ধৈর্য)—এই দুটি গুণ থাকলে আল্লাহ দুনিয়া ও আখেরাতে মানুষকে উচ্চ মর্যাদা দান করেন।

পারিবারিক ভ্রাতৃত্ব: ভাইয়েরা যতই ভুল করুক না কেন, তাঁদের সংশোধনের সুযোগ দেওয়া এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা ইসলামের নির্দেশ।

অধ্যায়- ১৫: ইউসুফ (সা.) এর স্বপ্ন বাস্তবায়ন

ইউসুফ (সা.)-এর পাঠানো জামাটি যখন কেনানে পৌঁছাল এবং ইয়াক্বূব (সা.)-এর চোখের ওপর রাখা হলো, তখন অলৌকিকভাবে তাঁর দৃষ্টিশক্তি ফিরে এল। এরপর ইয়াক্বূব (সা.) তাঁর পুরো পরিবার নিয়ে কেনান থেকে মিশরের উদ্দেশ্যে রওনা হলেন। মিশরের সীমান্তে পৌঁছালে ইউসুফ (সা.) রাজকীয় মর্যাদায় তাঁদের অভ্যর্থনা জানান। যখন পিতা-মাতা ও এগারো ভাই ইউসুফ (সা.)-এর সামনে উপস্থিত হলেন, তখন তাঁরা কৃতজ্ঞতায় এবং সম্মানে তাঁর সামনে অবনত হলেন। এভাবেই দীর্ঘ বছর আগে শৈশবে দেখা সেই স্বপ্নের (সূর্য, চন্দ্র ও এগারোটি নক্ষত্রের সিজদা করা) চূড়ান্ত বাস্তবায়ন ঘটল।

ইয়াক্বূব (সা.)-এর দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাওয়া

সুসংবাদ বহনকারী ভাই যখন ইউসুফের জামা নিয়ে পৌঁছাল, তখন ইয়াক্বূব (সা.) আল্লাহর রহমতের প্রমাণ পেলেন।

فَلَمَّا أَن جَاءَ الْبَشِيرُ أَلْقَاهُ عَلَىٰ وَجْهِهِ فَارْتَدَّ بَصِيرًا ۖ قَالَ أَلَمْ أَقُل لَّكُمْ إِنِّي أَعْلَمُ مِنَ اللَّهِ مَا لَا تَعْلَمُونَ

“অতঃপর যখন সুসংবাদদাতা এল, সে জামাটি তাঁর (ইয়াক্বূবের) মুখের ওপর রাখল এবং সাথে সাথেই তিনি দৃষ্টিশক্তি ফিরে পেলেন। তিনি বললেন—‘আমি কি তোমাদের বলিনি যে, আমি আল্লাহর পক্ষ থেকে এমন কিছু জানি যা তোমরা জানো না’?” [সূরাহ ইউসুফ: ৯৬]

মিশরে রাজকীয় অভ্যর্থনা ও পরিবারের মিলন

ইউসুফ (সা.) তাঁর পিতা-মাতাকে রাজসিংহাসনে বসালেন এবং অত্যন্ত সম্মানের সাথে তাঁদের মিশরে স্বাগত জানালেন।

فَلَمَّا دَخَلُوا عَلَىٰ يُوسُفَ آوَىٰ إِلَيْهِ أَبَوَيْهِ وَقَالَ ادْخُلُوا مِصْرَ إِن شَاءَ اللَّهُ آمِنِينَ

“অতঃপর তাঁরা যখন ইউসুফের কাছে প্রবেশ করল, সে তাঁর পিতা-মাতাকে নিজের কাছে রাখল এবং বলল—‘আল্লাহর ইচ্ছায় আপনারা মিশরে নিরাপদে প্রবেশ করুন’।” [সূরাহ ইউসুফ: ৯৯]

স্বপ্নের পূর্ণতা ও সম্মানের সিজদা

ইউসুফ (সা.)-এর পরিবারের সদস্যরা তাঁর মর্যাদার সামনে সিজদাবনত হলেন (যা তৎকালীন শরী‘আতে সম্মানের নিদর্শন হিসেবে বৈধ ছিল)।

وَرَفَعَ أَبَوَيْهِ عَلَى الْعَرْشِ وَخَرُّوا لَهُ سُجَّدًا ۖ وَقَالَ يَا أَبَتِ هَٰذَا

« <
/ 118
> »