অপরাধ স্বীকার ও ক্ষমা প্রার্থনা
ইউসুফ (সা.)-এর মহানুভবতা ও আল্লাহর দেওয়া শ্রেষ্ঠত্ব দেখে ভাইয়েরা নিজেদের অপরাধ অকপটে স্বীকার করে নিলেন।
قَالُوا تَاللَّهِ لَقَدْ آثَرَكَ اللَّهُ عَلَيْنَا وَإِن كُنَّا لَخَاطِئِينَ
“তাঁরা বলল—‘আল্লাহর কসম! আল্লাহ অবশ্যই আপনাকে আমাদের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন এবং আমরা অবশ্যই অপরাধী ছিলাম’।” [সূরাহ ইউসুফ: ৯১]
ইউসুফ (সা.)-এর ঐতিহাসিক ক্ষমা ঘোষণা
ইউসুফ (সা.) তাঁদের প্রতি কোনো বিদ্বেষ না রেখে তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষমা করে দিলেন এবং তাঁদের জন্য আল্লাহর কাছেও ক্ষমা চাইলেন।
قَالَ لَا تَثْرِيبَ عَلَيْكُمُ الْيَوْمَ ۖ يَغْفِرُ اللَّهُ لَكُمْ ۖ وَهُوَ أَرْحَمُ الرَّاحِمِينَ
“সে বলল—‘আজ তোমাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই; আল্লাহ তোমাদের ক্ষমা করুন এবং তিনি দয়ালুদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ দয়ালু’।” [সূরাহ ইউসুফ: ৯২]
ক্ষমা ও মহত্ত্ব সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর হাদীস
প্রতিশোধ নেওয়ার ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও ক্ষমা করে দেওয়া যে কত বড় গুণ, তা রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর বাণীতে প্রকাশ পেয়েছে। এমনকি মক্কা বিজয়ের দিন তিনি মক্কার কাফিরদের উদ্দেশ্যে এই আয়াতটিই তেলাওয়াত করেছিলেন।
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «مَا نَقَصَتْ صَدَقَةٌ مِنْ مَالٍ، وَمَا زَادَ اللَّهُ عَبْدًا بِعَفْوٍ إِلَّا عِزًّا، وَمَا تَوَاضَعَ أَحَدٌ لِلَّهِ إِلَّا رَفَعَهُ اللَّهُ»
“আবূ হুরায়রাহ (রা.) থেকে বর্ণিত—রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: ‘সাদাক্বাহ করলে মালের ঘাটতি হয় না; আর ক্ষমা করার কারণে আল্লাহ কোনো বান্দার সম্মানই বৃদ্ধি করেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য বিনয়ী হয়, আল্লাহ তাঁর মর্যাদা উন্নত করে দেন’।” [সহীহ মুসলিম, হাদীস: ২৫৮৮]
পিতার দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাওয়ার ব্যবস্থা
ইউসুফ (সা.) তাঁর জামাটি ভাইদের দিয়ে পাঠালেন যেন তা পিতার চোখের ওপর রাখা হয় এবং তাঁর দৃষ্টিশক্তি ফিরে আসে।
اذْهَبُوا بِقَمِيصِي هَٰذَا فَأَلْقُوهُ عَلَىٰ وَجْهِ أَبِي يَأْتِ بَصِيرًا وَأْتُونِي بِأَهْلِكُمْ أَجْمَعِينَ
“তোমরা আমার এই জামাটি নিয়ে যাও এবং এটি আমার পিতার মুখের ওপর রেখো, তাহলে তাঁর দৃষ্টিশক্তি ফিরে আসবে; আর তোমাদের পরিবারের সকলকে নিয়ে আমার কাছে এসো’।” [সূরাহ ইউসুফ: ৯৩]
অধ্যায়ের শিক্ষা:
ক্ষমার মহত্ত্ব: প্রকৃত বীর সেই ব্যক্তি, যে প্রতিশোধ নেওয়ার সুযোগ পেয়েও ক্ষমা করে দিতে পারে। ইউসুফ (সা.) ভাইদের কোনো অপদস্থ করেননি।
তাক্বওয়ার প্রতিফলন: ইউসুফ (সা.) তাঁর সাফল্যের কৃতিত্ব নিজের বলে দাবি করেননি, বরং আল্লাহর অনুগ্রহ এবং সবরের
