কুরআনে বর্ণিত নবীদের জীবনী

« <
/ 118
> »

تَأْوِيلُ رُؤْيَايَ مِن قَبْلُ قَدْ جَعَلَهَا رَبِّي حَقًّا

“আর সে তাঁর পিতা-মাতাকে উচ্চাসনে বসাল এবং তাঁরা সবাই তাঁর সম্মানে সিজদাবনত হলো। সে বলল—‘হে আমার প্রিয় পিতা! এটিই হলো আমার আগের সেই স্বপ্নের বাস্তবায়ন; আমার প্রতিপালক একে সত্যে পরিণত করেছেন’।” [সূরাহ ইউসুফ: ১০০]

ইউসুফ (সা.)-এর কৃতজ্ঞতা ও পরকালের দোয়া

এত বড় সাফল্যের পরও ইউসুফ (সা.) গর্বিত না হয়ে আল্লাহর কাছে ঈমানের সাথে মৃত্যুর দোয়া করেছিলেন।

رَبِّ قَدْ آتَيْتَنِي مِنَ الْمُلْكِ وَعَلَّمْتَنِي مِن تَأْوِيلِ الْأَحَادِيثِ ۚ فَاطِرَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ أَنتَ وَلِيِّي فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ ۖ تَوَفَّنِي مُسْلِمًا وَأَلْحِقْنِي بِالصَّالِحِينَ

“হে আমার প্রতিপালক! আপনি আমাকে রাজত্ব দান করেছেন এবং স্বপ্নের ব্যাখ্যা শিক্ষা দিয়েছেন। হে আসমান ও জমিনের স্রষ্টা! দুনিয়া ও আখেরাতে আপনিই আমার অভিভাবক; আপনি আমাকে ‘মুসলিম’ হিসেবে মৃত্যু দান করুন এবং আমাকে সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত করুন’।” [সূরাহ ইউসুফ: ১০১]

ইয়াতিম ও মজলুমের প্রতি আল্লাহর রহমত সম্পর্কে হাদীস

ইউসুফ (সা.)-এর এই বিজয় প্রমাণ করে যে, যার কেউ নেই তার আল্লাহ আছেন। নবী (সা.) এর একটি হাদীস এখানে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক—

عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «…وَاعْلَمْ أَنَّ النَّصْرَ مَعَ الصَّبْرِ، وَأَنَّ الفَرَجَ مَعَ الكَرْبِ، وَأَنَّ مَعَ العُسْرِ يُسْرًا»

“ইবনু আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত—নবী (সা.) বলেছেন: ‘…জেনে রেখো, ধৈর্যের সাথেই সাহায্য আসে এবং কষ্টের সাথেই মুক্তি আসে; আর নিশ্চয়ই কাঠিন্যের সাথেই স্বস্তি আসে’।” [মুসনাদে আহমাদ, হাদীস: ২৮০৩; সহীহ জামে‘ আস-সগীর, হাদীস: ৬৮০৬]

অধ্যায়ের শিক্ষা:

আল্লাহর প্রতিশ্রুতি সত্য: আল্লাহ ইউসুফ (সা.)-কে শৈশবে যে স্বপ্নের মাধ্যমে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় তা অক্ষরে অক্ষরে পূর্ণ হয়েছে।

বিনয় ও শুকরিয়া: ক্ষমতার শীর্ষে পৌঁছেও ইউসুফ (সা.) নিজেকে আল্লাহর ‘বান্দা’ হিসেবে পেশ করেছেন এবং মৃত্যুর সময় মুসলিম থাকার তামান্না করেছেন।

বিপদের শেষ আছে: ইয়াক্বূব (সা.)-এর দীর্ঘ চল্লিশ বছরের (মতান্তরে) বিলাপ ও অন্ধত্ব দূর হলো এক নিমিষে। ধৈর্য ধরলে কষ্টের পর সুখ আসবেই।

পারিবারিক ক্ষমা: ইউসুফ (সা.) ভাইদের দোষারোপ না করে বরং শয়তানকে দায়ী করেছেন, যা পারিবারিক শান্তি বজায় রাখার শ্রেষ্ঠ উপায়।

সম্মান আল্লাহর হাতে: যাকে জেলখানায় বন্দী করা হয়েছিল, আল্লাহ তাঁকে মিশরের রাজসিংহাসনে সবার জন্য আদর্শ বানিয়ে দিলেন।

অধ্যায়- ১: আইয়ূব (সা.)-এর পরিচয়

« <
/ 118
> »