সিলেটি সাগা

« <
/ 10
> »

বলে ‘বেটির কাণ্ড দেখ!’ তখন যে অর্থ ধরে। এখন পাঠক বুঝুন, সেই খুবসুরত তরুণীকে বেটি বললে কোন রস সৃষ্টি হয়।

লন্ডনিরা প্রতি বছর সিলেটে কত টাকা পাঠায় তার হিসাব কেউ দিতে পারে না। কারণ এরা কালোবাজারে খুব ভালো রেট পায় বলে এদের পাঠানো টাকার খুব বড় একটা হিস্যের কোনও সন্ধানই কেউ জানে না। শুনেছি কোনও এক বিশেষ সম্প্রদায়ের লোক কালোবাজারে লন্ডনিদের কাছ থেকে পাউন্ড কিনে তাদের নারায়ণগঞ্জস্থ আপন পাট গুদাম জুট মিলকে কোড-এ হুকুম দেয়— অমুক সিলেটিকে অত টাকা পাঠাবে। আরও শুনেছি, তার পর ওই পাউন্ড দিয়ে বিলিতি জিনিস কিনে, কিছুটা আইনত, বেশিরভাগ কালোয় প্রাচ্যে পাচার করে।

কত টাকা লন্ডনিরা পাঠায় তার হিসাব না জানা থাকলেও সিলেট জেলাতে সে টাকার সুদূরপ্রসারী গভীর প্রভাব সর্ব সিলেটির চোখে যেন ঘুষি মেরে আপন মাহাত্ম্য অহরহ প্রচার করে। সস্তা সেকেন্ডহ্যান্ড বিদেশি ট্রানজিস্টর, পারকার কলম, ক্যামেরা ইত্যাদির কথা বাদ দিচ্ছি— একমাত্র সিলেট শহরেই নাকি গণ্ডা দুই সরকার কর্তৃক স্বীকৃত ট্রাভেল এজেন্সি আছে— কল্পনা করতে পারেন এ-জিনিস বর্ধমানে? মহকুমা শহরের কথা বাদ দিন, বড় বড় থানায় বিশেষত যেসব পকেটে লন্ডনিদের আদি নিবাস পর্যন্ত বড় বড় ব্যাংকের ব্রাঞ্চ অফিস খোলা হয়েছে। আর ডাকঘরের তো কথাই নেই। যে-ডাকঘরে দিনে তিনখানা চিঠিও আসে কি না, সেখানে আসে পাঁচশো-হাজার টাকার মানিঅর্ডার। কিন্তু এহ বাহ্য। যে সিলেট শহরের বন্দর-বাজারে মাছের কখনও অভাব হয়নি সেই বাজারে দর আগুন এবং শৌখিন মাছ বিরল। আমার এক মুরুব্বি বললেন, “আসবে কোত্থেকে? লন্ডনির পাঠানো টাকাতে এখন গাঁয়ের লোক মাছ খায়। জেলে তকলিফ বরদাস্ত করে শহরে আসবে কেন।” বললে প্রত্যয় যাবে কি, পাঁচখানা গাঁয়ের মাঝখানে যে-হাট, সেটা এই কয়েক বছর আগে পর্যন্ত বসত সপ্তাহে একদিন একবেলা। এখন বসে রোজ, প্রতিদিন, দুবেলা।

এটা আবার কনফার্ম করল আমার এক বোন। গাঁয়ের জমিদারবাড়িতে তার বিয়ে হয়েছে এবং লন্ডনিরা যখন দেশে আসে তখন প্রায়ই ব্যাংকের চিঠিপত্রাদি পড়াবার জন্য জমিদারবাড়িতে আসে। বোন বলল, এক লন্ডনি দেশে এসেছে ঈদ করতে। মাছ কিনতে গেছে ভিন গাঁয়ের হাটে। একটা ভালো মাছ দেখে দাম শুধাল। জেলে বলল ওটা বিক্রি হয়ে গিয়েছে। সেটা কিনেছে ওই গাঁয়েরই এক লন্ডনি, এবং দুই গাঁয়ে দারুণ আড়াআড়ি। ভিন গাঁয়ের লন্ডনির এক দোস্ত প্রথম লন্ডনিকে খোঁচা দিয়ে যা বলল তার অর্থ— তোমাদের গাঁয়ে এ-মাছ খাবার মতো রেস্ত আছে কার? প্রথম লন্ডনি বড় নিরীহ, কোনও উত্তর দিল না। কিন্তু তার গাঁয়ের সঙ্গী-সাথীরা চটে গিয়ে তাকে বলল,

« <
/ 10
> »