২. ঘোড়ার রেস, কুকুরের রেস, এমনকি কড়ি খর্চা করে ফুটবল খেলা দেখতে যায় না, মদে পয়সা ওড়ায় না এবং কোনওপ্রকারের জুয়োও খেলে না বলে বউ স্বচ্ছন্দে সংসার চালাবার জন্য স্বামীর মাইনের একটা বড় হিস্যে পায়।
বিয়ের পূর্বে বা পরে সে অন্য মেয়ের সঙ্গে পরকীয়া করে না— সে তো ধলা মেম পেয়েই খুশ! এ দুটো সিকিউরিটি পৃথিবীর সর্বত্রই রমণীমাত্রই খোঁজে। এবং কেউ কেউ তৃতীয় সিকিউরিটিও দিতে পারে— আপন পয়সায় কোনও নিজস্ব কটেজ। আমার পরিচিত এক চৌধুরীর ছেলে তো নটিংহামে তিনখানা চেন হোটেল-রেস্তোরাঁর মালিক (আজকাল সিলেটি মুসলমানদের উচ্চশ্রেণির লোকও নানা ধান্দায় লন্ডনি হচ্ছেন)। তিনি তো অনায়াসে তৃতীয় সিকিউরিটি দিতে পারেন। এছাড়া ছোটখাটো আরও অনেক আরাম-আয়েস আছে। বাচ্চা রাত্রে কেঁদে খাস-সাহেব মজুরের ঘুম ভাঙালে সে ধমক দিয়ে বউকে বাচ্চাসহ রান্নাঘরে খেদায়; লন্ডনি গায়ে পড়ে বাচ্চাটাকে কোলে নিয়ে ঠান্ডা করে। দেশে ছেলেবেলা থেকেই সে কত ভাতিজা-ভাতিজি ঠান্ডা করেছে।… পাব-এ যায় না বলে প্রায়ই তার ফুরসত থাকে এবং বউকে প্রেম করে বলে প্র্যাম-এ করে বাচ্চাকে হাওয়াও খাওয়ায়।
০৩.
“অ ভাই, জলদি আও, বেটিয়ে ডাকে।”
একদম ন-সিকে খাঁটি সিলেটি উচ্চারণ। অবশ্য আমি খুব-একটা হকচকিয়ে উঠিনি, কারণ ঢাকার এয়ারপোর্টে হরহামেশাই সিলেটি উচ্চারণ শোনা যায়। কিন্তু যে প্রৌঢ় লোকটি এই মধুর আহ্বান শোনালেন, তার পরনে দেখি উত্তম বিলিতি কাট-এ অত্যুত্তম ১০০% বিলিতি উলের নেভি ব্লু স্যুট। ওদিকে গলকম্বল মানমুনিয়া চাপদাড়ি। যাকে ডাকছিলেন তারও ওই বেশ, তবে বয়সে যুবক। কিন্তু ওই ‘বেটিয়ে ডাকে’ অর্থাৎ মেয়েছেলে ডাকছে— এর বিগলিতার্থটা কী? তখন এয়ারপোর্টের প্রধান লাউঞ্জে ঢুকে দেখি একপাল লোক; প্রায় সক্কলেরই পরনে একই ধরনের নেভি ব্লু স্যুট। বুঝে গেলুম এরা লন্ডনি। বাড়িতে এসে দাদাকে তাবৎ হালত বয়ান করলুম।
দাদা বলল, “লন্ডনিরা ঈদের পরবে প্লেন চার্টার করে দেশে যায়। সে ঢাউস প্লেন সিলেটে নামতে পারে না বলে ঢাকা অবধি এসে থেমে যায়। তার পর সাধারণ সার্ভিসে আপন আপন মোকামে যায়। শ্রীমঙ্গল, শমসেরনগরের মতো ছোট ছোট জায়গায়ও প্রধানত এদেরই জন্য এয়ার স্ট্রিপ করা হয়েছে। আর ওই যে চাপদাড়ি-ওলা লোকটাকে দেখলি সে খুব সম্ভব লন্ডনিদের বিলেতের মসজিদের ইমাম। এ-ই এদের বিলেত থেকে আপন আপন মোকাম অবধি দেখভাল করে পৌঁছিয়ে দেয়।” এদেরই একজন বোধহয় ছিটকে পড়েছিল; ইতোমধ্যে তরুণী অ্যানাউন্সার মাইকে বলেছে সিলেটগামী প্লেন এখখুনি ছাড়বে। তাই ইমাম হাঁকছিল, “বেটিয়ে ডাকে, জলদি আও।” সিলেটি মাত্রই জানেন, সে-ভাষায় ‘বেটি’ ঠিক দুহিতা বা মেয়েছেলে নয়। বরঞ্চ মেয়েমানুষ এমনকি মাগি অর্থেও ধরে। পশ্চিমবঙ্গে যখন কেউ
