খেয়েছিলুম সেগুলো যেন রিটার্ন টিকিট নিয়ে গিয়েছিল; এখন ফিরি ফিরি করছে। উপস্থিত থাক। বরঞ্চ খাটের পাশে দু-খানা স্যান্ডউইচ রেখে দিয়ো। ক্ষিদে পেলে খেয়ে নেব।”
মেনুটার ওপর চোখ বুলিয়ে যাচ্ছিলুম, খেয়াল না করে, মালিককে ভদ্রতা দেখাবার জন্য, আলতো আলতো ভাবে। বিরিয়ানি, কোরমা, কালিয়া, কাবাব, কোফতা, চিকেনকারি গয়রহ গয়রহ। এ তো ডালভাত— কিন্তু শব্দার্থে বলছি না। আই মিন, এগুলো তো এরকম ফ্যাশনেবল রেস্তোরাঁতে থাকবেই। ইংরেজিতে যাকে বলে ‘Musts’। কিন্তু কী একটা মামুলি আইটেমের দাম দেখতে গিয়ে আমি যেন আমার চোখকে বিশ্বাস করতে পারলুম না। বলে কী? দশ শিলিং! মানে? দশ টাকা! তখন মেনুর ডান দিকে তাকিয়ে দেখি, সব মালেরই প্রায় ওই দাম। অর্থাৎ, দু-পদী আহারাদির জন্য আপনার খসে যাবে পাউন্ড খানিক। পনেরো, বিশ, পঁচিশ টাকা! ও! তাই ইন্ডিয়ানরা আসেনি। ওদের বেশিরভাগই তো ছাত্রসম্প্রদায়। ওদের জেবে অত রেস্ত কোথায়?… মনে পড়ল, চল্লিশ বছর পূর্বে সিক্স পেন্সে (পাঁচ আনাতে) রাইসকারি পাওয়া যেত টিলবারি ডকে।
পরে খবর নিয়ে শুনলুম, গঙ্গার ভাও মোটেই আক্রা নয়। এটাই নরমাল। এমনকি, ওই পাড়ার চীনা, হাঙ্গেরিয়ান, স্প্যানিশ রেস্তোরাঁতে আহারাদি আরও আক্রা। আর এর পর খাস বিলিতি ডাগর ডাগর রেস্তোরাঁতে কী ভাও, সেটা শুধোবার মতো হিম্মত আমার জিগর-কলিজায় ছিল না, সেটা আমার হাফ-সিঙ্গল-চা, দুটো-ফলস-পিনেওলা বেরাদর পাঠক নিশ্চয়ই দিব্য-দৃষ্টিতে দেখে ফেলেছেন।
কিন্তু এহ বাহ্য। কোন দেশে কোন বস্তুর কী দর, বিভিন্ন দেশের রেস্তোরাঁর তুলনাত্মক দরদাম সম্বন্ধে ডক্টরেট থিসিস লিখে ধৈর্যশীল পাঠককে, এ-অধম নিপীড়িত করতে সাতিশয় অনিচ্ছুক! তবে কেন?
সেটা পরে হবে।
