বেহেশতী জেওর

« <
/ 6
> »

نحمده ونصلى على رسوله الكريم

আরয

হাম্দ ও ছালাতের পর বাংলা ভাষাভাষী মুসলিম ভ্রাতৃবৃন্দের নিকট অধীনের বিনীত আরয এই যে, মুজাদ্দেদে যমান, কুতত্বে দাওরান, পাক-ভারতের সর্বশ্রেষ্ঠ আলেম এবং সর্বশ্রেষ্ঠ বুযুর্গ হযরত মাওলানা আশ্রাফ আলী থানভী (রহমতুল্লাহি আলাইহি) স্বীয় সম্পূর্ণ জীবনটি ইসলাম এবং মুসলিম সমাজের খেদমতে উৎসর্গ করিয়া গিয়াছেন। তিনি প্রায় এক হাজার কিতাব লিখিয়া গিয়াছেন। তন্মধ্যে কোন কোন কিতাব ১০/১২ জিদেরও আছে। কিন্তু এইসব কিতাবের কপি রাইট তিনি রাখেন নাই বা কোন একখানি কিতাব হইতে বিনিময় স্বরূপ একটি পয়সাও তিনি উপার্জন করেন নাই। শুধু আল্লাহর ওয়াস্তে দ্বীন ইসলামের খেদমতে ও মুসলিম সমাজের উন্নতির জন্য লিখিয়া গিয়াছেন।
তাঁহার লিখিত কিতাবের মধ্যে ১১ জিল্ল্সে সমাপ্ত বেহেশতী জেওর একখানা বিশেষ যরূরী কিতাব। সমগ্র পাক-ভারতের কোন ঘর বোধ হয় বেহেশতী জেওর হইতে খালি নাই এবং এমন মুসলমান হয়ত খুব বিরল, যে বেহেশতী জেওরের নাম শুনে নাই। বেহেশতী জেওর আসলে লেখা হইয়াছিল শুধু স্ত্রীলোকদের জন্য; কিন্তু কিতাবখানা এত সর্বাঙ্গীন সুন্দর ও এত ব্যাপক হইয়াছে যে, পুরুষেরা এমন কি আলেমগণও এই কিতাবখানা হইতে অনেক কিছু শিক্ষা পাইতেছেন।
বহুদিন যাবৎ এই আহ্কারের ইচ্ছা ছিল যে, কিতাবখানার মর্ম বাংলা ভাষায় লিখিয়া বঙ্গীয় মুসলিম ভাই-ভগ্নীদিগের ইহ-পরকালের উপকারের পথ করিয়া দেই এবং নিজের জন্যও আখেরাতের নাজাতের কিছু উছীলা করি; কিন্তু কিতাব অনেক বড়, নিজের স্বাস্থ্য ও শরীর অতি খারাপ, শক্তিহীন; তাই এত বড় বিরাট কাজ অতি শীঘ্র ভাগ্যে জুটিয়া উঠে নাই। এখন আল্লাহ্ পাকের মেহেরবানীতে মুসলিম সমাজের খেদমতে ইহা পেশ করিতে প্রয়াস পাইতেছি। মক্কা শরীফের হাতীমে বসিয়া এবং মদীনা শরীফের রওযায়ে-আক্বদাসে বসিয়াও কিছু লিখিয়াছি। ‘আল্লাহ্ পাক এই কিতাবখানা কবুল করুন এই আমার দো’আ এবং আশা করি, প্রিয় পাঠক-পাঠিকাগণও দো’আ করিতে ভুলিবেন না। এই পুস্তকে আমার বা আমার ওয়ারিশানের কোন স্বত্ব নাই ও থাকিবে না।
মূল কিতাবে প্রত্যেক মাসআলার সঙ্গেই উহার দলীল এবং হাওয়ালা দেওয়া হইয়াছে। কিন্তু উর্দু বেহেশতী জেওর কিতাব সব জায়গায়ই পাওয়া যায় এবং উর্দু ভাষাও প্রায় লোকেই বুঝে, এই কারণে আমি দলীল বা হাওয়ালার উল্লেখ করি নাই। যদি আবশ্যক বোধ হয়, পরবর্তী সংস্করণে দলীল ও হাওয়ালা দেওয়া হইবে। আমি একেবারে শব্দে শব্দে অনুবাদ করি নাই, খোলাছা মতলব লইয়া মূল কথাটি বাংলা ভাষায় বুঝাইয়া দিয়াছি। দুই একটি মাসআলা আমাদের দেশে গায়ের যরূরী মনে করিয়া ক্ষেত্র বিশেষে তাহা পরিত্যাগ করিয়াছি এবং কিছু মাসআলা যরূরত মনে করিয়া অন্য কিতাব হইতে সংযোজিত করিয়াছি। তাছাড়া বেহেশতী গওহরের সমস্ত মাসআলা বেহেশতী জেওরের মধ্যেই বিভিন্ন খণ্ডে ঢুকাইয়া দিয়াছি। কাহারও সন্দেহ হইতে পারে বিধায় বিষয়টি জানাইয়া দিলাম

 

আরযগুযার

শামসুল হক

৩১/৭/৮৬ হিজরী

« <
/ 6
> »