আদর্শ মুসলিম
ড. মুহাম্মাদ আলী আল-হাশেমী
ভুমিকা
হামদ ও সালাতের পর—
ইসলাম একজন মুসলিমের ব্যক্তিত্বকে ঠিক যেভাবে দেখতে চেয়েছে, তা স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলার প্রতি আমার এই আগ্রহ আজ নতুন নয়; বরং অন্তত দশ বছর আগের। দীর্ঘ সময় ধরে আমি লক্ষ্য করেছি যে, অনেক মুসলিমের মধ্যেই দ্বীনের কোনো একটি দিকে অতি আগ্রহ থাকলেও অন্য দিকে চরম উদাসীনতা রয়েছে। কেউ কেউ নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ে খুব মনোযোগী হলেও অন্যান্য বিষয়ে বেশ শিথিল।
যেমন—কাউকে হয়তো দেখবেন প্রথম কাতারে সালাত আদায়ের জন্য ভীষণ ব্যাকুল, কিন্তু নিজের মুখ থেকে আসা দুর্গন্ধ কিংবা পোশাকের উৎকট ঘামের গন্ধের ব্যাপারে তার কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই। আবার কাউকে দেখবেন আল্লাহর অনুগত, বিনীত ও বিগলিত হৃদয়ের অধিকারী, অথচ আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষার ক্ষেত্রে তিনি ভীষণ ত্রুটিপূর্ণ। কাউকে পাবেন ইবাদত-বন্দেগি আর জ্ঞানার্জনে নিমগ্ন, কিন্তু নিজ সন্তানদের লালন-পালনের ব্যাপারে তিনি চরম গাফেল; তারা কী পড়ছে কিংবা কাদের সাথে মিশছে, সে খবরও তার কাছে নেই।
আবার কেউ হয়তো সন্তানদের ব্যাপারে খুব সচেতন, কিন্তু নিজের মা-বাবার অবাধ্য কিংবা তাঁদের সাথে রূঢ় আচরণ করেন। কাউকে পাবেন মা-বাবার প্রতি খুব অনুগত, অথচ নিজ স্ত্রীর প্রতি তিনি অন্যায় করেন এবং তার সাথে অসদাচরণ করেন। কেউ আবার স্ত্রী-সন্তানদের সাথে খুব চমৎকার সময় কাটান, কিন্তু প্রতিবেশীর সাথে মন্দ ব্যবহার করেন। আবার কাউকে দেখা যায় নিজের ব্যক্তিগত কাজ এবং স্বার্থ নিয়ে খুব ব্যস্ত, অথচ সামাজিক দায়বদ্ধতা কিংবা মুসলিম উম্মাহর সামগ্রিক বিষয়ে তার কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই। এমনকি এমন অনেক নেককার ও দ্বীনদার মানুষকেও দেখা যায়, যারা সালাম আদান-প্রদান, পানাহার কিংবা মানুষের সাথে মেলামেশা ও কথাবার্তার মতো সাধারণ ‘ইসলামী আদব’ বা শিষ্টাচারের ব্যাপারেও বেশ শিথিল।
সবচেয়ে বিস্ময়কর ব্যাপার হলো, এই ত্রুটিগুলো কখনো কখনো এমন ব্যক্তিদের
