মধ্যেও দেখা যায়, যারা ইসলামী দাওয়াহর কাজের সাথে যুক্ত। সাধারণত দাওয়াহর ময়দানে যারা কাজ করেন, তাদের মধ্যে ইসলামের বিধি-বিধান, মূল্যবোধ এবং শিষ্টাচার সম্পর্কে একটি প্রখর অনুভূতি ও গভীর বোধ থাকার কথা। কিন্তু প্রচণ্ড ব্যস্ততা, অসতর্কতা কিংবা নিছক উদাসীনতার কারণে এই দ্বীনদার মানুষগুলোও অবচেতনভাবে এমন কিছু ছোটখাটো ভুল বা অসঙ্গতি করে বসেন, যা তাদের ব্যক্তিত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
একজন মুসলিমের ব্যক্তিত্ব যেমন হওয়া উচিত, তাকে সেভাবে উপস্থাপনের এই তাড়না থেকেই আমি মানুষ ও তার গঠন-প্রক্রিয়া সম্পর্কিত ইসলামের সমস্ত দিকনির্দেশনা এবং মূল পাঠগুলো (নুসূস) সংগ্রহ করতে শুরু করি। আমার উদ্দেশ্য ছিল—মুসলিম উম্মাহ, বিশেষ করে দ্বীনের কর্মীদের সামনে একটি পূর্ণাঙ্গ ও বিস্তৃত গবেষণা তুলে ধরা; যা একজন মুসলিমের আদর্শ ব্যক্তিত্বের বৈশিষ্ট্য, স্বভাব এবং নৈতিকতাকে স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তুলবে। এটি সেইসব মানুষের জন্য আলোকবর্তিকা হিসেবে কাজ করবে যারা জীবনের কোনো না কোনো ক্ষেত্রে পিছিয়ে আছেন, যাতে তারা নিজেদের সংশোধন করে সেই মহিমান্বিত সুউচ্চ শিখরে আরোহণ করতে পারেন, যা এই দ্বীন তাদের জন্য নির্ধারণ করেছে।
গবেষণা করতে গিয়ে আমি যা দেখলাম, তাতে আমি রীতিমতো বিস্মিত হলাম! ইসলাম একজন মুসলিমকে যে উচ্চতায় দেখতে চেয়েছে আর অধিকাংশ মুসলিম নিজেদের যেখানে নামিয়ে এনেছে—এই দুইয়ের মধ্যবর্তী ব্যবধান আকাশ-পাতাল। অবশ্য তাদের কথা ভিন্ন, যাদের আকীদা বিশুদ্ধ, হৃদয় স্বচ্ছ, আত্মা উন্নত এবং হিম্মত ও সংকল্প সুদৃঢ়। তারা অত্যন্ত নিষ্ঠা ও ব্যাকুলতার সাথে দ্বীনের পথে এগিয়ে এসেছেন, দ্বীনের স্বচ্ছ ঝরনাধারা থেকে তৃষ্ণা মিটিয়েছেন এবং প্রতিদিন রাসুল (সা.)-এর জ্যোতির্ময় হেদায়েতের আলোয় নিজেদের সমৃদ্ধ করছেন।
আল্লাহর কিতাব এবং রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর হাদীসের উৎসগুলো যারা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করবেন, তারা মানুষের জন্য প্রেরিত এই হেদায়েতের প্রাচুর্য ও ব্যাপকতা দেখে অভিভূত না হয়ে পারবেন না। মানুষের সাথে তার রবের সম্পর্ক,
