অধিকাংশ পশ্চিমা রাষ্ট্রে গণতন্ত্রের জন্ম হয়। তখন যে কারণেই জন্ম হয়ে থাকুক না কেন, এখনো সংসদীয় গণতন্ত্রের ঘানি টানার কোনো যৌক্তিকতা নেই। এটি এখন আর কাজ করছে না। নতুন করে ভাবার সময় এসেছে। উৎপাদনশীলতা এবং সংহতি গণতান্ত্রিক স্বৈরতন্ত্রের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ না করে, জনগণের পারস্পরিক স্বতঃস্ফূর্ত সম্পর্কের মাধ্যমে নির্ণীত হওয়া দরকার।
মিথস অব ডেমোক্রেসি: প্রথম মিথ
সব ভোট গণনা হয়
নির্বাচন এলে হরহামেশাই আমরা কথাটি শুনতে পাই। আমার ভোট গোনায় আসে। এটা সত্য। তবে একশ মিলিয়নের এক ভাগ। যদি একশ মিলিয়ন জনগণের মাঝে আপনার একটি ভোট থাকে, তবে ফলাফল বা সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া আপনার মতামতের ভিত্তিতে নির্ণীত হওয়ার সম্ভাবনা ০.০০০০০১%! বাস্তবে যা শূন্যই। কে জিতবে সেই সিদ্ধান্তে আপনার প্রভাব শূন্য, আপনার মতামতের ভিত্তিতে জয়-পরাজয়ের সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে।[1]
সমস্যা এখানেই শেষ নয়। বাস্তবতা আরও জটিল। আপনি সুনির্দিষ্ট কোনো সিদ্ধান্তের পক্ষে-বিপক্ষে ভোট দিচ্ছেন না। দিচ্ছেন নির্ধারিত প্রার্থী বা দলের পক্ষে, যারা আপনার হয়ে সব সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। ফলে বাস্তবে যখন সেই ব্যক্তি বা দল সিদ্ধান্ত নেবে, তাতে আপনার কোনো প্রভাবই নেই। আপনি তাদেরকে নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা নেই। হয়তো আপনার পক্ষ থেকে এমন সিদ্ধান্ত নিচ্ছে যাতে আপনার সম্মতি নেই। কিন্তু আপনার সম্মতি নেই এই কথাটা বলার সুযোগও নেই! পাঁচ বছরের জন্য তারা লাগামহীন, যা চায় করবে, সে ক্ষেত্রে আপনার কিছু বলার নেই। আপনি হয়তো ইমেইল বোম্বিং করতে পারবেন, তাদের সামনে নতজানু হয়ে কাকুতি করতে পারবেন, মিছিল মিটিং করতে পারবেন, তাদেরকে শাপশাপান্ত করে নরকবাসী করে দিতে পারবেন—কিন্তু দিনশেষে সিদ্ধান্ত নেবে তারাই। আপনি না।
প্রতিবছর সরকার হাজার হাজার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। সে ক্ষেত্রে এমন ব্যক্তিকে আপনার প্রদত্ত একখানা ভোট—যে পুনরায় আপনার মতামত গ্রহণ ব্যতীতই সব সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ভোগ করে—কার্যত কোনো প্রভাবই রাখে না।
ঘটনা এখানেই শেষ নয়। আপনি যে ভোটটা দেন, সেটা আপনার প্রকৃত পছন্দ নয়! পছন্দের অভিনয়মাত্র। কারণ দেশে নিশ্চয়ই এমন কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তি বা দল নেই যার সাথে আপনি সর্বতোভাবে একমত।
ভোটপ্রদান প্রক্রিয়া
- লেখক আমেরিকার কথা বলেছেন। দশকটি ভোটারদের হিসেব দেখিয়েছেন। বাংলাদেশের জনসংখ্যা ১৬ কোটি। ভোটার সংখ্যা ১১ কোটি ১.৭ লাখের উপর। ফলে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া প্রভাবিত করার সম্ভাবনা আরও কমে আসে।—অনুবাদবক। ↩
