বিয়ন্ড ডেমোক্রেসি

« <
/ 11
> »

শাসক দল ক্রমাগত জনগণকে ভোট দিতে উৎসাহিত করে। ভাবখানা এমন যে ভোটের মাধ্যমে তারা সরকারগঠন এবং সরকারের নীতি নির্ধারণে খুব আহামরি প্রভাব ফেলতে সক্ষম। আসল কথা হচ্ছে জনগণের ভোট, ভোটপ্রদানের উচ্চ হার রাজনীতিবিদদের হাতে স্ট্যাম্প তুলে দেবে, জনগণকে শাসন করার নৈতিক ও বৈধ অধিকার দেবে। স্বার্থ রাজনীতিবিদদের, জনগণের না। অনেকের বিশ্বাস নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা জনগণের নৈতিক দায়িত্ব। কখনো এমনও বলার চেষ্টা করা হয় যে যদি আপনি ভোট না দেন, তবে পাবলিক ডিবেটে আপনার মত প্রকাশের অধিকার নেই, রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়েও উচ্চবাচ্য করার সুযোগ নেই। যেহেতু আপনি ব্যালট বাক্সে ভোট দেননি, আপনার মতামত গোনায় আসবে না।

এই মতের প্রবক্তারা হয়তো দেখতে অক্ষম যে এখন এমন অনেক মানুষ রয়েছে যারা গণতন্ত্রের ফেরিওয়ালাদের বিকৃত ‘ভোটে মাধ্যমে প্রভাববিস্তারের’ কল্পিত গল্পে খাচ্ছে না। এরা স্টকহোম সিন্ড্রোমে আক্রান্ত। তারা তাদের বন্দিকারীদের প্রেমে মত্ত। এটা বুঝতেও পারছে না যে রাজনীতিবিদ আর প্রশাসকদের ক্ষমতার জন্য সে নিজের স্বাধীনতা জলাঞ্জলি দিচ্ছে।[1]

« <
/ 11
> »

  1. স্টকহোম সিন্ড্রোম একটি সাইকোলজিক্যাল অবস্থান যেখানে বন্দি বন্দিকারীর প্রতি অনুরাগ অনুভব করে। তার এজেন্ডা নিজের এজেন্ডা বলে মনে করে। ১৯৭৩ সালে সুইডেনের স্টকহোমে এক ব্যাংক ডাকাতুর সময় ডাকাতদল চারজন বন্দিকে ছয়দিন ধরে ব্যাংকের ভল্টে বন্দি করে রাখে। এসময় বন্দিদের সাথে ডাকাতদের সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। বন্দিদেৱ একজন ফোনে সুইদিশ প্রধানমন্ত্রীকে বলে যে সে ডাকাতদের বিশ্বাস করে, কিন্তু পুলিশকে করে না। পুলিশি অভিযানে সে নিহত হওয়ার আশঙ্কা করছে। এ থেকেই স্টকহোম সিন্ড্রোমের উৎপত্তি।—অনুবাদবক এনসাইক্লোপিডিয়া অব ব্রিটানিকা দ্রষ্টব্য : https://www.britannica.com/science/Stockholm-syndrome ↩