বিয়ন্ড ডেমোক্রেসি

« <
/ 11
> »

হচ্ছে স্বাধীনতাহরণের বিনিময়ে প্রাপ্ত ক্ষমতার ভ্রান্তিবিলাস।

ধরুন, আপনি চান না আপনার টাকা তৃতীয় বিশ্বের উন্নয়নে ব্যয় হোক, কিংবা আফগানিস্তান যুদ্ধে। ফলে আপনি এমন একটি দলকে ভোট দিলেন, যারা এগুলোর বিরোধী। কিন্তু সেই একই দল রিটারয়ারমেন্টের বয়স বৃদ্ধির পক্ষে, আপনি আবার এর বিপক্ষে। সবচেয়ে নিকৃষ্ট পরিস্থিতি হচ্ছে যখন আপনার ভোটপ্রাপ্ত ব্যক্তি বা দল তাদের প্রদত্ত অঙ্গীকার ভঙ্গ করে। অবশ্য তারা এতে সিদ্ধহস্ত, প্রায়শই করে থাকে। সে ক্ষেত্রে আপনি কী করতে পারেন? হয়তো অতি উন্নত দেশে আপনি আদালতে মামলা করতে পারবেন, কিন্তু এই ঝামেলায় কেউ জড়াতে ইচ্ছুক না। একমাত্র উপায় হচ্ছে পাঁচ বছর অপেক্ষা করা। ভিন্নদলকে ভোট দেওয়া। এবং তারপর? একই ঘটনার পুনরাবৃত্তির অপেক্ষা করা!

ভোট হচ্ছে স্বাধীনতা ক্ষুণ্নকরণের বিনিময়ে প্রাপ্ত ক্ষমতাচার্র বিভ্রম। টম এবং জন দাঁড়িয়ে আছে ব্যালট বাক্সের সামনে। সেখানে দাঁড়িয়ে ভোটের মাধ্যমে দেশের ভবিষ্যৎ গতিপ্রকৃতি নির্ধারণের খোয়াব দেখছে। অতি ক্ষুদ্র পরিসরে যদিও তা সত্য। কিন্তু তার চেয়েও বড় সত্য হচ্ছে একই সময়ে ৯৯.১৯৯৯% ভোটার দেশ তো দেশ, খোদ টম আর জনের জীবনধারা নির্ধারণ করে দিচ্ছে। নিজের জীবনের গতিপথ নির্ধারণের ক্ষমতাই যখন তাদের নেই, তাদের জীবন অন্যরা গড়ে দিচ্ছে, সে ক্ষেত্রে তারা খোয়াব দেখছে অন্যদের জীবনকেও ‘प्रभावিত’ করার! সব ভোটার একই প্রতারণার শিকার। তারা যদি নিজেদের সিদ্ধান্ত নিজেরা নিত, তবে এর চেয়ে ঢের বেশি স্বাধীনতা ভোগ করত। উদাহরণত—বেতন পাওয়ার পরপরই নানা ট্যাক্সের ফাঁদে অর্ধেক টাকা সরকারের হাতে গচ্চা দেওয়ার পরিবর্তে যদি নিজের টাকা কোথায় ব্যয় করবে সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা তাদের হাতে থাকত।

আরেকটি উদাহরণ দেখা যাক। আমাদের গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে শিক্ষাব্যবস্থার ওপর মানুষের নিয়ন্ত্রণ অতি ক্ষীণ। যদি তারা শিক্ষাব্যবস্থা পরিবর্তন করতে চায় তবে শুধু ব্যালট বাক্সে কাজ হবে না, তাদের ভিন্নপথ ধরতে হবে। হয়তো লবিস্ট গ্রুপের শরণাপন্ন হতে হবে, মহামহিম রাজনীতিবিদদের সমীপে

আর্জি দাখিল করতে হবে, কিংবা সরকারি ভবনের সামনে গিয়ে মিছিল-মিটিং-প্রতিবাদ করতে হবে। আমাদের দেশে অভিভাবকদের বহু সংস্থা আছে, তারা আমাদের শিক্ষানীতি প্রভাবিত করতে চাচ্ছে। দীর্ঘ সময় ধরে বহু শ্রমব্যয়ের পর ফলাফল প্রায় শূন্য। যদি রাষ্ট্রপ্রভু শিক্ষাব্যবস্থায় বাগড়া না দিত, তবে কাজটা কিন্তু অনেক সহজ ছিল। শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকরা নিজেদের সিদ্ধান্ত নিজেরা নিতে পারত। ব্যক্তিগত এবং যৌথ; দুভাবেই।

« <
/ 11
> »