বিয়ন্ড ডেমোক্রেসি

« <
/ 11
> »

নয় এবং তা অদৃষ্টপূর্বও নয়। ধরুন, কেউ তার কাপড়চোপড়ের জন্য কত টাকা ব্যয় করবে এটি কি আমরা বসে ‘গণতান্ত্রিকভাবে’ সিদ্ধান্ত নিই? আমি কোন সুপারমার্কেটে যাব? অবশ্যই নয়। সবাই যার যার পছন্দমতো সিদ্ধান্ত নেয়। এবং এই ফ্রিডম অব চয়েজ খুব ভালোভাবে কাজ করছে। তাহলে যেসব সিদ্ধান্তগুলো গণতান্ত্রিকভাবে নিচ্ছি সে ক্ষেত্রে কেন এটি কাজ করবে না? আমাদের কাজের ক্ষেত্র, স্বাস্থ্যসেবা, পেনশন থেকে শুরু করে অন্যান্য বিষয় কেন গণতান্ত্রিকভাবে সিদ্ধান্ত নিতে হবে?

এমন কি হতে পারে না যে গণতান্ত্রিকভাবে আমরা যেসব সিদ্ধান্ত নিচ্ছি, অর্থনৈতিক-সামাজিক সব সিদ্ধান্তই রাষ্ট্র কর্তৃক বা রাষ্ট্রের মাধ্যমে নেওয়া হচ্ছে, এটি আমাদের সমাজের সব অসুস্থতার জন্য দায়ী? এটি সবকিছুর অন্তর্নিহিত কারণ হতে পারে না? আমলাতন্ত্র, সরকারের অনধিকারচর্চা, পরজীবিতা, অপরাধ, দুর্নীতি, বেকারত্ব, মুদ্রাস্ফীতি, শিক্ষার নিম্নমান ইত্যাদি গণতন্ত্রের অভাবে তৈরি হয়নি; বরং গণতন্ত্রের কারণে তৈরি হয়েছে—এটা কি অসম্ভব কিছু?

এই বইতে এটিই আমরা আপনাকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিতে আগ্রহী।

বইটি তিনভাগে বিভক্ত। প্রথম ভাগে আমরা ‘সংসদীয় গণতান্ত্রিক খোদার’ ওপর আমাদের আস্থা ও বিশ্বাস নিয়ে আলোচনা করেছি। আর ১০টা ধর্মের মতোই গণতন্ত্রের কিছু নিজস্ব ‘বিশ্বাস’ রয়েছে। রয়েছে কিছু অন্ধবিশ্বাস; যা সবাই বিনা প্রশ্নে, বিনা দ্বিধায় অমোঘ সত্য বলে মেনে নিয়েছে। গণতন্ত্রের ১৩টি মিথ বা কুসংস্কারের আদলে আমরা তা পেশ করব।

দ্বিতীয় ভাগে গণতান্ত্রিক পদ্ধতির বাস্তব, ব্যবহারিক ও প্রায়োগিক কুফল নিয়ে আলোচনা করব। আমরা দেখিয়ে দেব কেন গণতন্ত্রের অনিবার্য গন্তব্য—স্থবিরতা, অদক্ষতা এবং অবিচার। তৃতীয় ধাপে আলোচনা করব গণতন্ত্রের বিকল্প নিয়ে। স্বায়ত্তশাসন, বিকেন্দ্রীকরণ, স্থানীয় সরকার ও ভিন্নতার ওপর ভিত্তি করে নতুন সিস্টেম দাঁড় করাব।

বর্তমান সংসদীয় গণতান্ত্রিক পদ্ধতির সমালোচনা সত্ত্বেও আমরা ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী। যারা হতাশাবাদী, তাদের হতাশার একটি কারণ হচ্ছে তারা বর্তমান সিস্টেমকে চিরস্থায়ী বিবেচনা করছে, আকর্ষণীয় বিকল্প দাঁড় করানোর কথা ভাবছে না। তারা দেখছে—সরকার তাদের জীবন নিয়ন্ত্রণ করছে, তারা সরকারকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না। তাদের সামনে একমাত্র বিকল্প হচ্ছে চাইনিজ মডেলের ডিক্টেটরশিপ বা একনায়কতন্ত্র, জাতীয়তাবাদ কিংবা চরমপন্থা। এখানেই তারা ভুল করছে। গণতন্ত্র কোনোভাবেই স্বাধীনতা নয়। এটি নিছক স্বৈরের ভিন্নরূপ; সংখ্যাগুরু এবং রাষ্ট্রীয় স্বৈরতন্ত্র। এটি সুশাসন, সমতা, সংহতি এবং শান্তির প্রতিশব্দ নয়। জাস্ট ধোঁকা।

আজ থেকে মাত্র ১৫০ বছর পূর্বে নানা কারণে

« <
/ 11
> »