বিদ্বেষ, হানাহানি, অনধিকারচর্চা, জড়তা, আড়ষ্টতা এবং অপচয়ের চালিকাশক্তি। দায়িত্ব পালনে রাজনৈতিক ব্যক্তिवিশেষের ব্যর্থতা, ভুল দলের ক্ষমতা গ্রহণ বা অন্য কোনো কারণে নয়; বরং এজন্য যে খোদ শর্তেই রয়েছে ভূত। গণতান্ত্রিক সিস্টেম যেভাবে কাজ করে, সেটিই ত্রুটিপূর্ণ।
গণতন্ত্রের প্রধান পরিচয়চিহ্ন হচ্ছে—সমাজ পরিচালিত হবে জনগণ সিদ্ধান্তে। তাদের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। ভিন্ন ভাষায়, আমাদের সবকিছু আমরাই সিদ্ধান্ত নেব, যৌথভাবে। কী পরিমাণ ট্যাক্স উসুল করা হবে, চাইল্ডকেয়ারে কত ব্যয় হবে, বৃদ্ধাশ্রমে যাবে কত, কত বছর বয়স হলে মদ গিলতে শুরু করবে, নিয়োগদাতারা কর্মচারীদের কতটুকু পেনশন দেবে, পণ্যের ওপর কী লেবেল লাগানো হবে, স্কুলে শিক্ষার্থীরা কী শিখবে, উন্নয়নখাতে কত টাকা ব্যয় হবে, নবায়নযোগ্য এনার্জি বা খেলাধুলার বাজেট কত হবে, নাচগান আর বাদ্যদলে কত যাবে, বার মালিক তার মদের বার কীভাবে চালাবে, গেস্টরা ভেতরে বসে সিগারেট ফুঁকতে পারবে কি না, ঘরবাড়ি কীভাবে নির্মিত হবে, সুধারের কতটুকু হবে, অর্থনীতিতে কী পরিমাণ অর্থ
সার্কুলেশন হবে, ব্যাংকগুলো দেউলিয়া হয়ে গেলে করদাতাদের পয়সায় বেইল আউট করা হবে কি না, কে নিজেকে ডাক্তার বলে পরিচয় দিতে পারবে, কে হাসপাতাল চালানোর যোগ্য, জীবনের ঘানি টানতে টানতে ক্লান্ত হয়ে গেলে মানুষ নিজেকে মেরে ফেলার অধিকার থাকবে কি না, কখন এবং কী শর্তে রাষ্ট্র যুদ্ধে জড়াবে—সব আমরা সিদ্ধান্ত নেব। সম্মিলিতভাবে, মিলেমিশে। গণতন্ত্রে এই সবগুলো এবং এরকম আরও হাজারো সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জনগণ।
ফলে দেখা যাচ্ছে সংজ্ঞা অনুযায়ী গণতন্ত্র একটি ‘সর্বসংহতিমূলক’ বা কালেক্টভিস্ট সিস্টেম। পেছনের দরজা দিয়ে দেখলে এটিই সোশ্যালিজম। গণতন্ত্রের পেছনে মূল ধারণাটা হচ্ছে শারীরিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক সমস্ত কর্মকাণ্ডের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো জনগণের মাধ্যমে সম্মিলিতভাবে গ্রহণ করা ভালো এবং এটিই কাম্য। জনগণ তাদের পক্ষ থেকে সংসদে প্রতিনিধি প্রেরণ করে, ভিন্ন অর্থে রাষ্ট্রকে তাদের পক্ষ হয়ে এই সমস্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের দায়িত্ব প্রদান করে। অর্থাৎ গণতন্ত্রে গোটা সমাজব্যবস্থা রাষ্ট্রমুখী। সে ক্ষেত্রে গণতন্ত্র মানবজাতির রাজনৈতিক বিবর্তনের অনিবার্য ও সর্বোচ্চ চূড়া—এটি একটি বিভ্রান্তিকর দাবি। বরং গণতন্ত্রের অতি সংকীর্ণ রাজনৈতিক প্রকাশ লুকিয়ে রাখার জন্য প্রচারিত নিছক প্রোপাগান্ডা, মিথ্যা ছদ্মাবরণ। এই রাজনৈতিক ব্যবস্থার পর্যাপ্ত যৌক্তিক বিকল্প রয়েছে। বিকল্পগুলোর একটি হচ্ছে ফ্রিডম। ভিন্নশব্দে লিবারেসিজম। শব্দের ক্ল্যাসিক্যাল অর্থ অনুযায়ী। বর্তমানে পশ্চিমে লিবারেলিজম সম্পূর্ণ ভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হচ্ছে।
এই ফ্রিডম বা স্বাধীনতা গণতন্ত্রের মতো
