বিয়ন্ড ডেমোক্রেসি

« <
/ 11
> »

ব্যবসাতিষ্ঠানগুলোকে মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) আহরণের দায়িত্ব দেওয়া হয়, নিয়োগদাতাদের দায়িত্ব দেওয়া হয় সামাজিক নিরাপত্তাঙ্কর আদায়ের, অর্থবাজার থেকে সরকারের গৃহীত ঋণ যার শেষ বোঝাটা কর আদায়কারীদের ঘাড়েই চাপে, একদিন না একদিন এটি তাদেরই পরিশোধ করতে হয়। কখনো জনগণের অর্থ হাতিয়ে নেয় ইনফ্লেশনের মাধ্যমে। এভাবে জনগণের কী পরিমাণ সম্পদ সরকার বাজেয়াপ্ত করে দিচ্ছে তা টেরিই পাওয়া যায় না।

এই বিশ্বাসের দ্বিতীয় কারণ হচ্ছে সরকারের কর্মকাণ্ডের ফলাফল দৃশ্যমান ও ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য। কিন্তু যদি সরকার জনগণের অর্থগুলো হাতিয়ে না নিত, তবে কী ঘটত, তা অদৃশ্য। সেই টাকাগুলো দিয়ে কী কী করা যেত বা করা উচিত, সেসব অনালোচিত। জনগণের পয়সায় নির্মিত জেট ফাইটার বিমানগুলো তো দৃশ্যমান, কিন্তু যুদ্ধবিমানে বিনিয়োগ করতে গিয়ে আরও কী কী গুরুত্বপূর্ণ খাতে অর্থব্যয় করা যায়নি, তা দৃশ্যপটে অনুপস্থিত।

গণতান্ত্রিক বিশ্বাস এত দৃঢ়ভাবে শিকড় গেড়ে বসেছে যে, গণতন্ত্র এখন রাজনৈতিকভাবে সঠিক ও নৈতিক সবকিছুর প্রতিশব্দে পরিণত হয়েছে। গণতন্ত্র মানে স্বাধীনতা (ভোট প্রদানের স্বাধীনতা), সমতা (সবার ভোট সমান মূল্যধারণ করে), সাম্য (সবাই সমান), ঐক্য (আমরা সবাই মিলে ভোটের মাধ্যমে ঐক্যবদ্ধভাবে সিদ্ধান্ত নিচ্ছি) ও শান্তি (গণতন্ত্র কখনোই অনৈতিক-অন্যায্য যুদ্ধ শুরু করে না)! এ ক্ষেত্রে গণতন্ত্রের বিপরীত হচ্ছে স্বৈরতন্ত্র বা একনায়কতন্ত্র। দুনিয়ায় যা-কিছু নন্দনীয়, সবকিছুর জন্য স্বৈরতন্ত্র দায়ী; স্বাধীনতার অভাব, অসাম্য, যুদ্ধ এবং অবিচার।

১৯৮৯ সালে নিও-কনজারভেটিভ চিন্তক ফ্রান্সিস ফুকুইয়ামা তো তার বিখ্যাত রচনা ‘দ্য অ্যান্ড অব হিস্টরি’তে দাবি করে বসেছেন যে আধুনিক পশ্চিমা গণতান্ত্রিক পদ্ধতি হচ্ছে মানবজাতির রাজনৈতিক বিবর্তনের সর্বোচ্চ চূড়া! তার ভাষায়—‘মানব-সরকার বা হিউম্যান গভর্নমেন্টের চূড়ান্ত রূপ হিসেবে বর্তমানে আমরা পশ্চিমা লিবারেল ডেমোক্রেসির (উদারনৈতিক গণতন্ত্র) বিশ্বায়ন দেখতে পাচ্ছি!’ একমাত্র শয়তানের চ্যালারাই এরকম পবিত্র বিশ্বাসের বিরুদ্ধে কথা বলার দুঃসাহস দেখায়; সন্ত্রাসী, চরমপন্থী এবং ফ্যাসির্টরা।

গণতন্ত্র : সর্বসংহতিবাদ (কালেক্টিভিজম)

এই বইয়ে আমরা মূলত গণতান্ত্রিক খোদার (গড অব ডেমোক্রেসি) বিরুদ্ধে কথা বলব, বিশেষত জাতীয় সংসদীয় গণতন্ত্র। ছোট কমিউনিটি, ছোট ছোট অ্যাসোসিয়েশন-সহ কিছু ক্ষেত্রে গণতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া যদিও উপকারী, কিন্তু জাতীয় সংসদীয় গণতন্ত্র যত না উপকারী তার চেয়ে ঢের বেশি ক্ষতিকর। অথচ পশ্চিমা প্রায় সব দেশেই সংসদীয় গণতান্ত্রিক। আমাদের যুক্তিতর্কের মূল পয়েন্ট হচ্ছে—সংসদীয় গণতন্ত্র অনৈতিক। আমলাতন্ত্র ও স্থবিরতার বাহক। স্বাধীনতা, সাবলম্বন ও উদ্যমতা ব্যাহতকারী। এটি অনিবার্যভাবেই

« <
/ 11
> »