বিয়ন্ড ডেমোক্রেসি

« <
/ 11
> »

সূত্রপাত অতিরিক্ত স্বাধীনতা থেকে, অতিরিক্ত গণতন্ত্রায়ন থেকে নয়। প্রোগ্রেসিভ এবং কনজারভেটিভদের মাঝে বর্তমানে একমাত্র পার্থক্য হচ্ছে—প্রথম দল অতিরিক্ত অর্থনৈতিক স্বাধীনতায় নাখোশ, দ্বিতীয় দল উদ্বিগ্ন লাগামহীন সামাজিক স্বাধীনতা নিয়ে। কিন্তু আমরা যে সর্বগ্রাসী ট্যাক্স আর সর্বব্যাপী আইনের অধীনে বসবাস করছি সে কথাটা বলছেন না। যদি অতিরিক্ত অর্থনৈতিক স্বাধীনতা থেকে থাকে, তবে কেন আমাদের স্মরণকালের সবচেয়ে বেশি কর দিতে হচ্ছে? যদি লাগামহীন সামাজিক স্বাধীনতাই ভোগ করি, তবে এত এত আইনের গ্যাড়াকল কোত্থেকে এলো?

আসল কথা হচ্ছে খোদ গণতন্ত্রের সমালোচনা পশ্চিমা সমাজে ট্যাবু, অচলায়তন। এখানে আঘাত করা যাবে না। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের কীরকম ভুল প্রয়োগ হচ্ছে তা নিয়ে যতখুশি বলতে পারেন, রাজনৈতিক নেতাদের ধুয়ে দিতে পারেন। কিন্তু খোদ গণতান্ত্রিক ‘মূল্যবোধ’ নিয়ে প্রশ্ন? নো, নেভার। এটি বললে মোটেও অতিউক্তি হবে না যে গণতন্ত্র এখন ধর্ম হয়ে উঠেছে—আধুনিক, সেক্যুলার ধর্ম! বরং আপনি বলতে পারেন ভূপৃষ্ঠের সর্ববৃহৎ ধর্ম। মিয়ানমার, সুইজারল্যান্ড, ভ্যাটিকান সিটি এবং কিছু আরব রাষ্ট্র-সহ মোট ১১টি দেশ ছাড়া পৃথিবীর সকল রাষ্ট্র এই ধর্মানুসারী, অন্তত নামে হলেও। ‘গণতান্ত্রিক খোদায়’ বিশ্বাস মো্টাদাগে গণতান্ত্রিক জাতিরাষ্ট্রপূজার সাথে সম্পৃক্ত, ১৯ শতকের ঘটনাপ্রবাহে যার জন্ম। প্রভু এবং চার্চ

প্রতিষ্ঠিত হয়েছে রাষ্ট্র এবং পবিত্রতম জাতির পিতাদের মাধ্যমে। চাকরি, বাসস্থান, স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপত্তা এবং শিক্ষালাভের আশায় আমরা গণতান্ত্রিক নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্রবেদিতে পূজাপাট সম্পন্ন করে থাকি। আমাদের সর্বোচ্চ ঈমান গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে। আমরা বিশ্বাস করি এই প্রভু সর্বজনের হিতকরকরণ ও মঙ্গলসাধনে সক্ষম। ‘তিনি’ পুরস্কার দাতা, তিনি বিচারক, তিনি সর্বজ্ঞ, তিনি সর্বশক্তিমান। এবং আমরা মনেপ্রাণে কামনা করি ‘তিনি’ আমাদের ব্যক্তিগত ও সামাজিক সকল সমস্যার সমাধান করে দেবেন।

গণতান্ত্রিক প্রভুর সৌন্দর্য হচ্ছে তিনি আমাদেরকে সবকিছু দান করেন, কোনো ধরনের স্বার্থচিন্তা ছাড়াই। প্রভুর মতো রাষ্ট্রেরও কোনো স্বার্থ নেই, ব্যক্তিস্বার্থ। তিনি জনকল্যাণের নিখাদ, নিঃস্বার্থ অভিভাবক। এমনকি তিনি কোনো বিনিময়ও চান না। মুক্তহস্তে তিনি আমাদের রুটি, রুজি, মাছ, মাংস এবং অন্যান্য আহার্যের জোগান দিয়ে থাকেন। অন্তত জনগণ এভাবেই দেখে থাকে। বেশিরভাগ মানুষ সরকারপ্রদত্ত সুযোগ-সুবিধাই বিবেচনা করে। এর জন্য কী মূল্য পরিশোধ করতে হয়, তা দেখে না। কারণ হচ্ছে সরকার এত ধুরন্ধরতার সাথে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে, পরোক্ষভাবে ট্যাক্স সংগ্রহ করে যে আমজনতা বুঝতেই পারে না তাদের আয়ের ঠিক কতটুকু সরকার খেয়ে দেয়। যেমন

« <
/ 11
> »