বিয়ন্ড ডেমোক্রেসি

« <
/ 11
> »

সাময়িকভাবে ব্যয়হ্রাসের উদ্যোগ নিলেও ভোটাররা ‘জেগে’ ওঠে। তাদের বিশ্বাস এটি তাদের ‘অধিকারে’ হস্তক্ষেপ! ফলে বাস্তবে কোনো ধরনের ব্যয়নিয়ন্ত্রণ অসম্ভব। অপরদিকে ব্যয়হ্রাসের সত্ত্বেও প্রায় সব গণতান্ত্রিক দেশেই ক্রমবর্ধমান উচ্চ-বেকারত্ব সমস্যায় জর্জরিত। জনগণের বৃন্দাংশ অপাঙ্‌ক্তেয়। বয়স্ক জনগোষ্ঠীর জন্যও কোনো গণতান্ত্রিক দেশেই পর্যাপ্ত নীতি প্রণয়ন করতে পারেনি।

এটি বললে মোটেও অতিবক্তি হবে না যে গণতন্ত্র বর্তমানে একটি ধর্ম হয়ে উঠেছে—আধুনিক সেক্যুলার ধর্ম।

প্রায় সব গণতান্ত্রিক দেশেই মাত্রাতিরিক্ত আমলাতন্ত্র আর ‘নিয়ন্ত্রণতন্ত্র’ ভারে ন্যুজ। রাষ্ট্রের হাত প্রত্যেকের জীবন কুক্ষিগত করে রেখেছে। সূর্যালোকের অধীন প্রতিটি বস্তুই রাষ্ট্রীয় আইন ও নিয়ন্ত্রণাধীন। প্রকৃত সমাধানের পরিবর্তে সবকিছুকে অধিকতর আইন ও নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে কুক্ষিগত করতেই রাষ্ট্রের আগ্রহ বেশি। কিন্তু নিজের প্রধান দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ এবং অনীহ; শৃঙ্খলা ও আইনের শাসন। অথচ আইনের শাসন এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখাই জনগণের দৃষ্টিতে রাষ্ট্রের মূল কাজ।

অপরাধ আর লুটপাট লাগামহীন। পুলিশ এবং বিচারব্যবস্থা অনির্বযোগ্য, অর্থর্ব এবং ক্ষেত্রবিশেষে দুর্নীতিতে জর্জরিত। জনসংখ্যার অনুপাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি বন্দি রয়েছে। তাদের অনেকেই বন্দি নিতান্ত গোবেচারা টাইপ কাজের ‘অপরাধে’। বহু গবেষণায় প্রমাণিত যে নির্বাচিত রাজনীতিবিদদের ওপর জনগণের আস্থা তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে, ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে। সরকার, রাজনৈতিক শাসক, এলিটশ্রেণি এবং আন্তর্জাতিক এজেন্সী-সহ আরও যারা নিজেদেরকে আইনের ঊর্ধ্বে ভাবতে পছন্দ করে তাদের ব্যাপারে জনমনে গুরুতর অবিশ্বাস রয়েছে। বহু মানুষ ভবিষ্যৎ নিয়ে হতাশগ্রস্ত। তারা আশঙ্কা করছেন তাদের সন্তানদের অধিকতর শোচনীয় পরিস্থিতিতে পড়তে হবে। অভিবাসীদের ‘আক্রমণে’ নিজস্ব সংস্কৃতি হুমকির মুখে পড়বে। বরং ইতিমধ্যে জল বহুদূর গড়িয়ে গেছে।


গণতান্ত্রিক বিশ্বাস

যদিও গণতন্ত্রের সমস্যাবলি এখন সর্বজনস্বীকৃত, কিন্তু খোদ গণতন্ত্র এবং গণতান্ত্রিক পদ্ধতির তেমন কোনো সমালোচনা নেই বললেই চলে। আমরা যেসব সমস্যায় ভুগছি, সেগুলোর জন্য কেউই গণতন্ত্রকে দায়ী করছে না। কেউ বলছে না গণতন্ত্রই এসব সমস্যার প্রজননকেন্দ্র। বরং সব ঘরানার রাজনীতিকরাই— ডান, বাম, মধ্যপন্থী, আমাদের সমস্যাগুলো সমাধানের আশ্বাস দিচ্ছে, অধিকতর গণতন্ত্রায়নের মাধ্যমে!

জনগণের কথা শুনবে মর্মে অঙ্গীকারাবদ্ধ হচ্ছে, জনকল্যাণকে ব্যক্তিগত স্বার্থের ওপর প্রাধান্য দেবে বলে আশ্বাস দিচ্ছে। আমলাতন্ত্রের ক্ষমতা খর্ব করবে, অধিকতর স্বচ্ছতা আনয়ন করবে, আরও উন্নত সেবা প্রদান করবে, সিস্টেমকে পুনরায় কর্মোপযোগী করে তুলবে। কিন্তু তাদের কেউই খোদ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার সম্ভাব্যতার নিয়ে প্রশ্ন তুলছে না। তারা বরং তর্ক করছেন যে আমাদের সমস্যার

« <
/ 11
> »