বিয়ন্ড ডেমোক্রেসি

« <
/ 11
> »

ইসলামে শাসনের বৈধতা ও বিশ্বস্ততা দুটিই গুরুত্বপূর্ণ। এবং ‘ব্যালট থেকে উৎসারিড’ বৈধতার চেয়ে বিশ্বস্ততার মূল্য বেশি। এ নিয়ে পশ্চিম ও পশ্চিম প্রভাবিত চিন্তকদের দুশ্চিন্তার অন্ত নেই। ওদিকে ব্যালট ফেলা কাগজের সংখ্যাবলে সমাজের সবচেয়ে নীচু ও নীতিহীন শ্রেণিগুলো যে ক্ষমতার উচ্চাসন দখল করছে, সে নিয়ে অবশ্য উচ্চবাচ্য নেই। এটি গণতন্ত্রের একটি মৌলিক সংকট। নীতিবান শাসক ছাড়া সুশাসন কীভাবে সম্ভব?

আমাদের মতো খেটে খাওয়া, নিম্নবিত্ত দেশের মানুষ গণতন্ত্রের সমালোচনা করলে সেটা প্রত্যাখ্যাত হবে—স্বাভাবিক। প্রভুভক্তি বলে একটা জিনিস এখনো কলোনাইজড পিপলদের মগজে রয়ে গেছে। তাই সাদা দেশ, প্রভু দেশের চিন্তকদের ভিন্নচিন্তার সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে এই ক্ষুদ্র প্রয়াস।

রাকিবুল হাসান

তাকমিল; মাদ্রাসা বাইতুল উলুম তালকানগর

শিক্ষার্থী; আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ১৩/৬/২০২২ খ্রি.


ভূমিকা

গণতন্ত্র : অন্তিম অচলায়তন

‘বর্তমানে যদি গণতন্ত্রের কোনো সংকট থেকে থাকে, শুধু অধিকতর গণতন্ত্রের মাধ্যমেই তা নিরাময় করা সম্ভব’—সুপ্রাচীন উক্তিটি একজন মার্কিন রাজনীতিকবিদের। সাধারণত গণতান্ত্রিক পদ্ধতিকে কীভাবে দেখা হয়, এই উক্তিতে একবাক্যে তা মূর্ত হয়ে উঠেছে। সবাই মোটামুটি একমত যে গণতন্ত্রে সমস্যা থাকতে পারে, আমেরিকা-সহ গণতন্ত্রের পশ্চিমা মোড়ল রাষ্ট্রগুলোর সংসদীয় ব্যবস্থায় ত্রুটি থাকতে পারে, হতে পারে সেগুলো পতনের দ্বারপ্রান্তে, কিন্তু গণতন্ত্রের কোনো বিকল্প নেই। গণতন্ত্রের একমাত্র প্রতিষেধক—অধিকতর গণতন্ত্র।

আমাদের সংসদীয় গণতান্ত্রিক পদ্ধতি সংকটপন্ন তা অস্বীকার করার জো নেই। সর্বত্র গণতান্ত্রিক দেশগুলোতে মানুষের মোহমুক্তি ঘটছে, তারা বিভক্ত। রাজনীতিবিদদের অভিযোগ ভোটাররা বধে যাওয়া বাচ্চাদের মতো আচরণ করছে। ওদিকে জনগণের অনুযোগ হচ্ছে রাজনীতিবিদরা কুশর্কণ, জনগণের চাওয়া-পাওয়া তাদের কানে ঢোকে না। ফলে ভোটাররা অস্থিরমতি হয়ে যাচ্ছে। তাদের আনুগত্য বারবার ‘দল পরিবর্তন’ করছে। ক্রমান্বয়ে চরমপন্থী ও পপুলিস্ট দলগুলোর দিকে ঝুঁকছে। রাজনৈতিক পরিমণ্ডল সর্বত্রই বিভক্ত, সেই বিভক্তি কাটিয়ে ওঠে কার্যকর সরকার গঠন দিনদিন দুরূহ হয়ে পড়ছে।

বর্তমান রাজনৈতিক দলগুলোর নিকট এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার কোনো হাতিয়ার নেই। প্রকৃত বিকল্প উদ্ধাবনে অক্ষম তারা। তারা দলকেন্দ্রিক ‘ফাঁদে’ বন্দি। তাদের আদর্শ লুট হয়ে গেছে ইন্টারেস্ট গ্রুপ আর লবিস্টদের হাতে। আদতে কোনো গণতান্ত্রিক সরকারই ব্যয়-নিয়ন্ত্রণে সক্ষম না। তারা ঋণ নিচ্ছে, দেদারসে খরচ করছে, উচ্চমাত্রায় করারোপ করছে, ফলে বারবার অর্থনৈতিক সংকটের কবলে পড়তে হচ্ছে। বহু দেশ দেউলিয়া হওয়ার দ্বারপ্রান্তে।

কদাচিৎ সরকারগুলো খরচ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে থাকে। কিন্তু সমস্যা বাঁধে অন্যত্র। নিতান্ত

« <
/ 11
> »