বিয়ন্ড ডেমোক্রেসি

« <
/ 11
> »

লিবার্ট্যারিয়ান চিন্তার ত্রুটি-বিচ্যুতি নিয়ে মূল বইয়ের শেষে নিজ থেকে একটা অধ্যায় যুক্ত করে যারপরনাই প্রশংসাযোগ্য কাজ করেছেন অনুবাদক। এ ছাড়া বাংলাদেশের পাঠকদের দিকে লক্ষ্য করে মূল বইয়ের কিছু জায়গায় সামান্য সংযোজন ও বিয়োজন করা হয়েছে। অনুবাদক হিসেবে রাকিবুল হাসানের কাজ বরাবরই চমৎকার। তার জুড়ি তিনি নিজেই। তার প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা। এ ছাড়াও

বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রিয় কাজিন মহসিনকে, আমাদের অনুরোধে সুদূর আমেরিকা থেকে মূল ইংরেজি বইটি কিনে পাঠিয়েছিলেন তিনি।

পরিশেষে পাঠকদের বলতে চাই, বইটি যদি ভালো লাগে, তাহলে অফলাইনে প্রিয়জনদের মাঝে এবং অনলাইনে বন্ধুদের মাঝে আপনার অভিব্যক্তি প্রকাশ করতে ভুলবেন না। বইটিকে আলোর মুখ দেখাতে এ পর্যন্ত বিভিন্ন স্তরে ও নানা সূত্রে যারা এর সাথে যুক্ত ছিলেন, তাদের সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা এবং প্রিয় পাঠক, আপনার জন্য রইল অগ্রিম শুভেচ্ছা।

প্রকাশনার পক্ষে আবদুর রহমান আদ-দাখিল ডেমরা, ঢাকা


অনুবাদকের কথা

The best argument against democracy is a five-minute talk with the average voter.—Winston Churchill

পৃথিবীর প্রতিটি প্রান্তে বর্তমানে গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় সংকট হচ্ছে—আস্থার সংকট। মার্কিন কোম্পানি গ্যালাপ ২০১২ সালের নভেম্বরে সে দেশের নাগরিকদের মাঝে একটা জরিপ করেছিল, সামাজিক পেশাদার শ্রেণিগুলোর বিশ্বস্ততা নিয়ে। ৫৪ শতাংশ মানুষের মতে কংগ্রেস সদস্যদের বিশ্বস্ততা ভেরি লো বা ‘খুবই কম’। অবিবিশ্বস্থতায় কংগ্রেস সদস্যদের নিচে শুধু একটা শ্রেণি ছিল— গাড়ির সেলসম্যান! তথাকথিত তৃতীয় বিশ্বের কথা বাদই দিলাম। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য-সহ ইউরোপের সমস্ত দেশে সরকার আসে, সরকার যায়। এটি কীসের নিদর্শন? রাজনীতি ও গণতন্ত্রের ওপর জনগণের আস্থার নিদর্শন নাকি অনাস্থা?

এখানে খুব জনপ্রিয় একটি উত্তর হচ্ছে—এটি রাজনৈতিক দলগুলোর সংকট, গণতন্ত্রের অপব্যবহারের সংকট। এই বইতে সেই উত্তর তালাশের চেষ্টা করা হয়েছে যে আদতে এটি কি গণতন্ত্রের অপব্যবহারের সংকট নাকি খোদ গণতন্ত্রের অন্তর্নিহিত সংকট। মনে রাখতে হবে—গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হয়েছিল দুটি উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে। এক, শাসনের বৈধতা। দুই, শাসনের বিশ্বস্ততা। কিন্তু পৃথিবীর কোনো দেশে এই দুই উদ্দেশ্য একীভূত হয়নি। যদি হতো—সেই দল, সেই সরকার চিরকাল ক্ষমতায় থাকত।

শাসনের বৈধতা একটি প্রাতিষ্ঠানিক বা আনুষ্ঠানিক বিষয়। ব্যালট কাগজ ফেলে আমরা সেই বৈধতা প্রদান করি। কিন্তু শাসকের বিশ্বস্ততা কোনো প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম নয়। গণতন্ত্রে বিশ্বস্ততা নিশ্চিতকরণের কোনো উপায় বাতলানো হয়নি। বারবার সরকার পরিবর্তন সেই অবিবিশ্বস্থতার প্রতীক।

প্রসঙ্গট বলি,

« <
/ 11
> »