নিজেরও দ্বিমত রয়েছে। সুতরাং তাঁর কোনো ভুলের দায়ে সমালোচনা করতে চাইলে তাঁর রচনার সমালোচনা করবেন, এর দায় অযথা সংগঠনকে দেবেন না।’
মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী যখন আমির, তখনও নির্বাহী বৈঠকে আলোচনা করে বর্তমান অ্যাসিস্ট্যান্ট জেনারেল সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুল হালিমের কলমে রেজ্যুলেশনও করেছিলেন এ কথার ওপরে। প্রখ্যাত মুফাসসিরে কুরআন মাওলানা দেলাওয়ার হোসেন সাঈদীও বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন তাঁর আমি কেন জামায়াতে ইসলামী করি বইয়ে।[1]
-
‘মাওলানা সাইয়েদ আবুল আ’লা মওদূদী রহ. জামায়াতে ইসলামীর প্রতিষ্ঠাতা, এটা কোনো গোপন বিষয় নয়। পক্ষান্তরে তাঁকে ইমাম হিসেবে অনুসরণ করতে হবে বা মানতে হবে, অথবা তাঁর যেকোনো মতামতকেই প্রাধান্য দিতে হবে, তাঁর সর্বপ্রকার চিন্তাকেই জামায়াতে ইসলামীর আদর্শ ও উদ্দেশ্যে পরিণত করতে হবে, এমন কোনো কথা জামায়াতে ইসলামীর গঠনতন্ত্রে নেই; বরং কুরআন ও সুন্নাহর আদর্শ জীবনের সর্বক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে এবং এটাই জামায়াতে ইসলামীর মূল উদ্দেশ্য। এ কথাই জামায়াতে ইসলামীর গঠনতন্ত্রের মূল প্রতিপাদ্য বিষয়।’ বই : আমি কেন জামায়াতে ইসলামী করি ভূমিকার অংশ থেকে দ্রষ্টব্য।
‘মাওলানা মওদূদী রহ. জামায়াতে ইসলামীর প্রতিষ্ঠাতা, এ কথা অবশ্যই সত্য। পক্ষান্তরে জামায়াতে ইসলামী প্রতিষ্ঠিত হয়েছে কেবল কুরআন-সুন্নাহ তথা মহান আল্লাহর বিধান ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে; মাওলানা মওদূদী রহ. বা অন্য কারও ব্যক্তিগত মতামত বা চিন্তাধারা প্রতিষ্ঠার জন্য নয়। সুতরাং যারা জামায়াতে ইসলামী সম্পর্কে অপপ্রচার করে থাকেন যে, জামায়াতে ইসলামি মওদূদীবাদ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আন্দোলন করছে বা তারা মওদূদীবাদের অনুসারী, তাদের সম্পর্কে আমি বলব, জামায়াতে ইসলামির কর্মপদ্ধতি, নীতি-আদর্শ ও কর্মসূচির সাথে তারা অবশ্যই পরিচিত নয়। মওদূদীবাদ নামে কোনো মতবাদ-মতাদর্শের অস্তিত্ব বিশ্বের কোথাও নেই। জামায়াত সম্পর্কে ভুল ধারণা সৃষ্টি করার লক্ষ্যেই এ ধরনের ধূম্রজাল সৃষ্টি করা হচ্ছে।’ বই : আমি কেন জামায়াতে ইসলামী করি, পৃষ্ঠা : ২০৩ ↩
