সাইয়্যেদ আবুল আ‘লা মওদূদীর কলমে জামায়াতে ইসলামীর আকিদা

« <
/ 4
> »

ওয়া তাআলা তার কলমকে আরও তীক্ষ্ণ ও শানিত করুন।

নূর মোহাম্মদ আবু তাহের


মুখবন্ধ

শুরু করছি মহান আল্লাহর নামে। সমস্ত প্রশংসা তাঁর। সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক মহানবি সাইয়্যিদুনা মুহাম্মদ মুসতাফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর। পৃথিবীতে কেউই ভুলের ঊর্ধ্বে নয়। আরবি ভাষা শিক্ষার গ্রন্থ রাওয়াতুল আদাব-এ একটা প্রবাদ রয়েছে, ‘আউয়ালুন নাসি আউয়ালুন নাসিন’ অর্থাৎ প্রথম মানুষ প্রথম ভুলে যাওয়া ব্যক্তি। এমনকি কেউ কেউ আরবি শব্দ ইনসান (মানুষ) শব্দের ব্যাখ্যাই করেছেন এভাবে যে, শব্দটি ‘নিসইয়ান’ থেকে এসেছে, যার অর্থ ভুলে যাওয়া। সুতরাং মানুষের জন্য ভুলে যাওয়া ও ভুল করা মোটেও অস্বাভাবিক নয়।

এ কারণেই ইমাম মালেক রহ. রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের রওজায়ে আতহারের সামনে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন, ‘প্রতিটি ব্যক্তিই এমন, যার কিছু কথা গ্রহণীয় এবং কিছু কথা বর্জনীয়; শুধু এই কবরের বাসিন্দা অর্থাৎ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ব্যাপারটি ভিন্ন।’

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘আল্লাহ আমার উম্মতের ভুলত্রুটি, বিস্মৃতি এবং যা জোরপূর্বক করিয়ে নেওয়া হয়, তা ক্ষমা করে দিয়েছেন।’ [1]

সাইয়েদ আবুল আ’লা মওদূদী রহ.; যিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বংশধর এবং চিশতিয়া তরিকার প্রখ্যাত বুজুর্গ সাইয়েদ কুতুবুদ্দীন মওদুদ রহ.-এর উত্তরসূরি। এই বুজুর্গের দিকে নিসবত করেই তিনি ও তাঁর পিতৃপুরুষগণ নামের শেষে মওদূদী শব্দটি ব্যবহার করেন।

মাওলানা মওদূদী রহ. এক জীবনে মৌলিক অসংখ্য বিষয়ে প্রচুর লিখে গেছেন, তত্ত্বের পসরা সাজিয়েছেন, বর্তমান বিশ্বের সর্ববৃহৎ ইসলামী আন্দোলন দাঁড় করিয়েছেন। কাজ বেশি হলে যে কারও ভুলের পরিমাণও বেশি হয়। সুতরাং তাঁকে ভুলের ঊর্ধ্বে মনে করার সুযোগ কোথায়!

এ কারণেই তাঁর জীবদ্দশায় জামায়াতে ইসলামী এই নীতি গ্রহণ করেছে, তাঁর কোনো বিচ্ছিন্ন বা ব্যক্তিগত মতের দায় সংগঠন নেবে না এবং সংগঠনের নেতাকর্মীাড়াও তা অনুসরণ করতে বাধ্য থাকবে না। বাংলাদেশ জামায়াতে

ইসলামীর কর্ণধাররাও সর্বদা ই এটা স্পষ্ট করে গেছেন। অধ্যাপক গোলাম আযম তাঁর ইকামাতে দ্বীন গ্রন্থে স্পষ্ট লিখে গেছেন, ‘মাওলানা মওদূদীকে আমরা আকিদা বা ফিকহি মাজহাবের ইমাম মনে করি না। তার প্রতিটি কথার সঙ্গে আমরা একমত হতে বাধ্য না। এমনকি কিছু বিষয়ে আমার

« <
/ 4
> »

  1. সুনানে ইবনে মাজাহ : ২০৪৩ ↩