এটি একটি রাজনৈতিক উদ্যোগ। সাধারণভাবে এই উদ্যোগটি প্রয়োজনে চরমপন্থা অবলম্বন করে রাজনৈতিক, আইনগত ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমের মৌলিক পরিবর্তনের লক্ষ্যে পরিচালিত একটি রাজনৈতিক আন্দোলন। টমাস পেইন (১৭৩২-১৮০৯), ভলতেয়ার (১৬৯৪-১৭৭৮), বেনথাম (১৭৪৮-১৮৩২), কার্ল মার্কস (১৮১৮-১৮৮৩) প্রমুখ চিন্তাবিদ আধুনিক বাম ভাবাদর্শিক রাজনীতির প্রবক্তা।[1]
কমিউনিজম–এর পরিচয়
মুর্শিদা বিনতে রহমান ‘কমিউনিজম’-এর পরিচয় দিতে গিয়ে উল্লেখ করেছিলেন—
‘মানবসভ্যতার অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক অবস্থার একটি আদর্শগত রূপ হলো কমিউনিজম। রাষ্ট্রীয়, শ্রেণী, প্রতিষ্ঠান পরিবর্তন ও সর্বজনীন মালিকানার প্রতিষ্ঠা হলো কমিউনিস্ট সমাজের মূলতত্ত্ব। কমিউনিজম (Communism) শব্দটির উৎপত্তি হয়েছে ল্যাটিন শব্দ ‘Communis’ থেকে; যার অর্থ ভাগ বা সাধারণ। ইতিহাসে কমিউনিজম শব্দটি প্রথম ব্যবহার করা হয় ১৮৪১ সালে এবং সাম্যবাদ শব্দটি ব্যবহৃত হয় ১৮৪৩ সালে। কমিউনিজম-এর ব্যাপক ও সংকীর্ণ অর্থ আছে। ব্যাপকভাবে তা বোঝায় সমাজতন্ত্রকে আর সংকীর্ণ অর্থে সমাজতন্ত্রের উচ্চতর পর্যায়কে। এ ধারণা দিয়ে মুলত একটি সামাজিক ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমকে বোঝানো হয়, যার বিকাশের দৃষ্টান্ত ইতিহাসে রয়েছে। সমাজতন্ত্র হলো এই গঠনের নিম্নতম পর্যায় আর কমিউনিজম হলো উচ্চতর। একটি আদর্শিক উদ্যোগ হিসেবে কমিউনিজম উনিশ ও বিশ শতকে বিভিন্ন মহলকে আকৃষ্ট করে।'[2]
বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র
সমাজতন্ত্রের সাধারণ ধারণা ছাড়াও বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রীগণ মনে করেন—
১. কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী প্রাকৃতিক সম্পদ যেমন: জমি, জল, জঙ্গল প্রভৃতি সৃষ্টি করেন না। সুতরাং সেগুলোর ওপর কোনো ব্যক্তির মালিকানা থাকা উচিত নয়। তাই বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র বলে—এইসব প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর সকলের সমান অধিকার রয়েছে।
২. বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রীগণ সকলের কাজের অধিকার দাবি করেন। তারা মনে করেন, বেকারদের কাজের ব্যবস্থা করা রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব।
৩. পুঁজিবাদী সমাজব্যবস্থায় অল্পসংখ্যক মানুষের কাছে বিপুল পরিমাণ অর্থসম্পদ জমা হয়, ফলে শ্রমিক শ্রেণি থাকে নিগৃহীত ও রিক্ত। তাই বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রীরা বলেন, সম্পদের বণ্টনে সাম্য প্রতিষ্ঠিত হলে মালিক ও শ্রমিক শ্রেণির বৈষম্যের অবসান ঘটবে।
৪. বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রের লক্ষ্য হলো—উৎপাদন ব্যবস্থায় ব্যক্তিগত মালিকানার অবসান ঘটানো এবং রাষ্ট্রীয় মালিকানা স্থাপন করা। এর ফলে পুঁজিবাদ ও উৎপাদন নিয়ে প্রতিযোগিতা ও শোষণের অবসান ঘটবে।
৫. বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রবাদীরা শ্রেণিহীন, শোষণহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা করার কথা বলেন।
