লাল রাজনীতি

« <
/ 16
> »

না।

কোনো কোনো বামপন্থি রাজনীতিক স্বীকার করেন—‘অহংকার’ বামপন্থির সুনামের ক্ষতি করছে এবং বামপন্থি রাজনীতিকে অনেক দূরে সরিয়ে দিয়েছে। বাংলাদেশে বহু বামপন্থি সংগঠন নানা কারণে দুর্বল হয়ে পড়েছে, দ্বন্দ্বের জন্য তরুণ নেতৃত্ব তৈরি করা এবং একটি স্থিতিশীল নির্বাচনী এলাকা তৈরি করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এছাড়া প্রায়শই বামপন্থিদের মধ্যে স্থান করে নেয় সুবিধাবাদ। এর ফলে বামপন্থি নেতারাও ক্ষমতার টোপ গিলে ফেলেন অবলীলাক্রমে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় দেশের সার্বিক বামপন্থি আন্দোলন। এ সমস্ত কারণে আজ থেকে প্রায় অর্ধশতাব্দী আগে যে চর্চা শুরু হয়েছিল, সেখানে বামপন্থি রাজনীতি আগের চেয়ে কঠিন থেকে কঠিনতর হয়ে উঠেছে; বরং কখনো কখনো তা গোড়া থেকেই গাঢ় হয়ে গেছে।

১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টির পর পঞ্চাশের দশকে এসে পূর্ববাংলায় কমিউনিস্ট আন্দোলনে নতুন নতুন উপাদান যুক্ত হয়। এক পর্যায়ে দলীয় কোন্দল ও আন্তর্জাতিক কমিউনিস্ট আন্দোলনের প্রভাবে এ দেশের আন্দোলনে ভাঙন সৃষ্টি করে, যার প্রভাব স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে ১৯৬৬ সালের দিকে। এরপর কমিউনিস্ট পার্টি গোপনে চলে যায়। অপরদিকে আশির দশকে নতুন আন্দোলনের সূত্রপাত হয়। তবে ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন কমিউনিস্ট আন্দোলনে চরম বিপর্যয় ঘটায়।

প্রথম অধ্যায়

বামপন্থার আদর্শিক ও রাজনৈতিক পরিচয়

বামপন্থি শব্দটি আধুনিক কালের সচেতন মানুষদের নিকট বহুল পরিচিত। সাধারণভাবে সমাজতন্ত্র বা কমিউনিজমে বিশ্বাসী ও অনুশীলনকারীদের ‘বামপন্থি’ অভিধায় উল্লেখ করা হয়ে থাকে। একে ‘সাম্যবাদ’ নামেও পরিচিত করা হয়। বাংলায় ‘লাল রাজনীতি’ বলতে বামপন্থি নীতি, আদর্শ ও রাজনীতি লালনকারীদের দ্বারা সৃষ্ট সন্ত্রাসমূলক কর্মকাণ্ডকেই বোঝানো হয়েছে। এই অধ্যায়ে ‘বাম’ শব্দের উৎপত্তি, সন্ত্রাসবাদ ও উগ্রপন্থার পরিচয়, ভারতে বামপন্থার আগমন এবং লাল রাজনীতি প্রভৃতি বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হবে।

‘বাম’ শব্দের উৎপত্তি

১৭৮৯ সালের ফরাসি বিপ্লবের সময় ‘Left’ শব্দের উৎপত্তি হয়। তখন পার্লামেন্টে ডান দিকে বসত শাসকদের এবং সভাপতির বাম পাশের আসনগুলোতে বসত বিরোধী দল। বাম দিকে বসার জন্য তাদের বলা হতে থাকে বামপন্থি বা লেফটিস্ট। পরবর্তীকালে ফ্রান্সের অনুকরণে অন্যান্য দেশের আইনসভায়ও বিরোধী দলের বাম দিকে বসার রীতি চালু হয় [1]। কালক্রমে সমাজতন্ত্রীরা এই নামেই অভিহিত হতে থাকেন।

মহিউদ্দিন আহমদ বাম রাজনীতির পরিচয় দিতে গিয়ে বলেছেন—‘বিদ্যমান রাজনৈতিক পদ্ধতি ও শাসনব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের মতামত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে পরিচালিত

« <
/ 16
> »

  1. হালনূর রশিদ : রাজনৈতিক মতবাদ, ঢাকা, ফেব্রুয়ারি ১৯৯৯, পৃ. ২৬৯। ↩