তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে প্রথম সশস্ত্র কমিউনিস্ট পার্টি গঠিত হয়। চাঁপাইনবাবগঞ্জের নামক জনপদে তাদের একটি আক্রমণে চারজন পুলিশ সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। পঞ্চাশের দশকে সদ্য স্বাধীন একটি দেশে এই ঘটনাকে সহজভাবে গ্রহণ করা হয়নি। এই ধারাবাহিকতায় পরবর্তীকালে কমিউনিস্ট পার্টি আরও কিছু সশস্ত্র ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ঘটায়। তাদের পরিচালিত আন্দোলনসমূহ প্রধানত সশস্ত্র ধারায় পরিচালিত হয়। পরবর্তীকালে তারা এই ধারা অব্যাহত রাখে এবং প্রতিষ্ঠিত বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কাঁধে সওয়ার হয়ে নিজেদের লক্ষ্য হাসিলে সচেষ্ট হয়। এ কথা সত্য, বাংলাদেশে পুলিশ হত্যাসহ এ রকম সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রথম প্রবর্তনকারী হিসেবে কমিউনিস্ট পার্টির নাম ইতিহাসে লিপিবদ্ধ হয়েছে।
তৎকালীন পাকিস্তানের রাজনীতিতে যতগুলো মনোভাবপূর্ণ সংগঠন গড়ে উঠেছে, তার সবকটির পেছনে কোনো না কোনোভাবে কমিউনিস্টদের হাত কাজ করেছে। ফলে এই মতবাদ প্রতিষ্ঠার যত সশস্ত্র অধ্যায় এবং রক্তপাত ঘটেছে, তার দায় কমিউনিস্ট পার্টিকেই বহন করতে হবে—এ কথা অস্বীকারের উপায় নেই। অন্য ধারার বামপন্থি দলগুলোর বড় অংশ প্রকাশ্য ও স্বাভাবিক পন্থার বদলে গোপন ও সশস্ত্র পথকেই অব্যাহত রাখে। ক্ষমতা দখলের জন্য শ্রমিক-কৃষকদের খতম, গলা কাটার রাজনীতি, জমি ও গোলার ফসল লুট, পুলিশ ও জনপ্রতিনিধিদের হত্যা, থানা ও ফাঁড়িতে হামলা করে অস্ত্র ও গোলাবারুদ লুট, ঘরে বসে বোমা বানানো, ব্যাংক ও দোকান লুট, দূতাবাসে আক্রমণ, সরকারি কর্মকর্তাদের ধরে ধরে হত্যা করা প্রভৃতি সকল প্রকার সশস্ত্র সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের রোমহর্ষক নজির স্থাপন করে। সমাজতন্ত্র বা কমিউনিজম প্রতিষ্ঠার নামেই এ সকল তৎপরতা পরিচালিত হয়েছে, যার হাজার হাজার উদাহরণ ইতিহাসের পাতায় রক্ষিত আছে।
স্বাধীনতা-উত্তর ও পাকিস্তানের শাসনকালে পুলিশ মারার আন্দোলন—এগুলোকে জনগণের মুক্তির আন্দোলন বলে একটি বৈশিষ্ট্য দেওয়ার সুযোগ আছে। এসব আন্দোলনে হতাহতদের শহিদ কিংবা গাজি অথবা মহান সৈনিক, জাতীয় বীর ইত্যাদি উপাধিও দেওয়া যেতে পারে।
তবে সাধারণ মানুষ এসব তকমা কখনোই গ্রহণ করেনি। যথাযথ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ঘোষিত যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি ছাড়া সশস্ত্র পথ-পদ্ধতি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হয় না। পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা সংগ্রামে বামপন্থিদের অবস্থান ছিল দ্বিধাবিভক্ত। তাদের একটি অংশ সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়, একটি অংশ একইসঙ্গে পাকিস্তানি বাহিনী ও মুক্তিবাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করে এবং অপর একটি অংশ সরাসরি পাক বাহিনীকে সহযোগিতা করে। এটিও ইতিহাসের এক অমোঘ সত্য।
দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় পর ‘গলা
