লাল রাজনীতি

« <
/ 16
> »

গ্রহণযোগ্যতা পেতে এটি ব্যর্থ হয়েছে। তবে পৃথিবীর কিছু কিছু অংশে যে এটি এখনও কিছুসংখ্যক মানুষকে মন্ত্রমুগ্ধ করে রেখেছে, এ কথা অস্বীকার করার জো নেই।

ভারত উপমহাদেশে বাম মতবাদ প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়ার ওপর প্রভাব ফেলেছে পর্যায়ক্রমে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, ভারতের স্বাধীনতা-তোষণ বনাম স্বাধীনতাবিরোধীদের মনোভাব, মস্কো বনাম পিকিং-এর মতাদর্শগত লড়াই ও বিতর্জন, স্বাধীনতার জন্য পরপর দুটি সংগ্রাম প্রভৃতি। এসব ঘটনা বাম আন্দোলনের মোড় বদলে সাহায্য করে। এই মোড় বদলে কোনো কোনো ক্ষেত্রে সংগঠনগুলিকে পরস্পরবিরোধী অবস্থান গ্রহণের দিকে ঠেলে দেয়। এসব টানাপোড়েনের মধ্যে বামপন্থি আন্দোলনকে গণতান্ত্রিক ও স্বাভাবিক প্রক্রিয়া-পদ্ধতির চেয়ে গোপন ও সশস্ত্র কর্মকাণ্ডের প্রতি ঝুঁকতে দেখা যায়। শুরুর দিকে স্বাধীনতাকামীরা সশস্ত্র সংগ্রামের ধারা গ্রহণ করে ‘স্বদেশী’ নামক আন্দোলন গড়ে তোলে। পরবর্তীকালে এই পদ্ধতিকে লক্ষ্য নিয়ে বামপন্থি সংগঠনগুলো এর সঙ্গে একাকার হয়ে যায়। যদিও স্বদেশীদের ভাবধারা ছিল ধর্মীয় ও সাম্প্রদায়িক, কিন্তু বামপন্থিরা এই স্বদেশি আন্দোলনকারীদের নিজেদের অগ্রদূত হিসেবে বর্ণনা করে নেয়। তাদের কর্মতৎপরতাকে ‘বিপ্লবী’ আখ্যা দিয়ে স্বদেশিদের নির্দেশিত করতে থাকে। এক পর্যায়ে এটি ‘লাল রাজনীতি’ থেকে ‘লাল সন্ত্রাস’ এবং ‘বাম রাজনীতি’ থেকে ‘বাম সন্ত্রাস’ নামে পরিচিত হতে থাকে।

১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দের ৩০ জুন ঢাকায় কমিউনিস্ট পার্টি এক জনসভার মাধ্যমে পার্টি প্রকাশ্য রাজনীতির পথ পরিহার করে। এরপর গোপনে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির গৃহীত রণনীতি অনুযায়ী শুরু করে সশস্ত্র সংগ্রাম। মনী সিংহের নেতৃত্বে ময়মনসিংহের দুর্গাপুর অঞ্চলে তেভাগা আন্দোলন, ইলা মিত্রের নেতৃত্বে রাজশাহীর নাচোল অঞ্চলে, সুপ্ত পালের নেতৃত্বে সিলেটের সুনামগঞ্জ এলাকায় কৃষক বিদ্রোহ সংগঠিত হয়। এছাড়াও যশোর ও খুলনা জেলার বিভিন্ন অঞ্চলে কৃষকদের জোতদারি-বিরোধী সংগ্রাম আন্দোলন পরিচালিত হয় কমিউনিস্টদের নেতৃত্বে। ময়মনসিংহের তেভাগা আন্দোলন এবং নাচোলের কৃষক বিদ্রোহ ছিল অপেক্ষাকৃত ব্যাপক ও অধিক সংগঠিত। এখানে উল্লেখ করা আবশ্যক, এসব কৃষক বিদ্রোহ সংগঠিত করা হয়েছিল মূলত উপজাতি ও নিম্নবর্ণের হিন্দুদের ব্যবহার করে। মুসলমান কৃষকদের মধ্যে এসব বিদ্রোহ তেমন কোনো সাড়া জাগাতে পারেনি; বরং মুসলমানরা কমিউনিস্টদের ‘দেশদ্রোহী’ এবং ‘নাস্তিক’ বলে জ্ঞান করত।

পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার মাত্র এক বছরের মধ্যে ভারতীয় পার্টির অনুকরণে কমিউনিস্টরা সশস্ত্র আন্দোলন গড়ে তোলার যে নীতি গ্রহণ করেছিল, তা ছিল প্রকৃতপক্ষে হুকুমদারির নামান্তর। ফলে কমিউনিস্টরা ব্যাপক জনগোষ্ঠীর কাছে হয়ে ওঠে অগ্রহণযোগ্য।

এই ধারায় প্রবেশের জন্য ‘রণনীতির তত্ত্ব’ কাজে লাগানো হয় এবং

« <
/ 16
> »