লাল রাজনীতি

« <
/ 16
> »

হয়েছে।

এই লেখা রচনায় যাদের সহযোগিতা মিলেছে, তাদের কাছে আমি বিশেষভাবে কৃতজ্ঞ। এর মধ্যে কবি ও গবেষক ড. ফজলুল হক তুহিন, গল্পকার দেওয়ান মোহাম্মদ শামসুল আলম, কবি ও গবেষক অধ্যাপক খুরশীদ আলম বাবু প্রমুখের নাম উল্লেখ করতে হয়। এছাড়া প্রতিটি প্রসঙ্গে সবিশেষ কৃতজ্ঞতা জানাই। বইটি প্রকাশে এগিয়ে আসায় ঢাকার অভিজ্ঞতা প্রকাশনী গাজিয়ান পাবলিকেশন্সকে ধন্যবাদ জানাই। বইটি পাঠকমহলে বিশেষভাবে সমাদৃত হবে বলে আমরা আশাবাদী।

সরদার আবদুর রহমান
জানুয়ারি, ২০২৩

ভূমিকা

১৯১৭ সালের রুশ বিপ্লব ছিল মূলত সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব। এই বিপ্লবের মূল স্লোগানসমূহ ছিল—’মজুরদের বিরুদ্ধে মজুরদের লড়াই’, ‘ধনিকতন্ত্রের বিরুদ্ধে সর্বহারার লড়াই’, ‘পুঁজিপতির বিরুদ্ধে পুঁজিহীনের লড়াই’ প্রভৃতি। এই বিপ্লব সমাজতন্ত্রকে একটি মতাদর্শ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে পরবর্তী প্রায় শতাব্দীব্যাপী এক আলোচনা সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এটি টিকে থাকতে পারেনি। কারণ, সমাজতন্ত্রের মূল তত্ত্ব যেমন বহুবিধ মতভেদের কারণে বিচ্ছিন্নতার শিকার হয়, তেমনই এর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া-পদ্ধতি নিয়ে মতভেদও অনুসারীদেরকে খণ্ডবিখণ্ড করে দেয়। ফলে প্রায় সারা বিশ্বেই এটি তার গৌরব হারিয়ে ফেলে।

পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, যে রাজনীতির সৃষ্টি হয়েছে দুই জার্মান মনীষী কার্ল মার্কস ও ফ্রিডরিখ এঙ্গেলসের চিন্তাধারা থেকে, তাদের চিন্তাধারা সাধারণভাবে মার্কসবাদ নামে এবং মার্কসবাদের অনুসারীরা কমিউনিস্ট নামে পরিচিত। নানা পরিচয় ও অবস্থানে উপমহাদেশের রাজনীতিতে সক্রিয় থেকে কমিউনিস্টরা যে রাজনৈতিক ধারার সৃষ্টি করেছেন, তা বাম রাজনীতি নামে পরিচিত। অর্থাৎ, সাধারণ অর্থে মার্কসবাদ-লেনিনবাদের ভিত্তিতে সমাজতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার নীতিতে বিশ্বাসীদের বামপন্থি বলা হয়। তবে কমিউনিস্টদের এক বিরাট অংশ পরবর্তীকালে মাও সে-তুং-এর চিন্তাধারাকে বিশেষভাবে অনুসরণ করেছে। গণতন্ত্রের অনুসারীরা যেমন গণতন্ত্রী এবং সমাজতন্ত্রের অনুসারীরা যেমন সমাজতন্ত্রী নামে পরিচিত, বামপন্থিদের বোঝাতে তেমন সুনির্দিষ্ট কোনো অভিধা নেই। তবে এ কথা সত্য যে, বামপন্থি শব্দটি রাজনৈতিক অবস্থানজ্ঞাপক শব্দ।

এই মতাদর্শের অনুসারীরা মোটাদাগে ‘বামপন্থী’ ও ‘বামপন্থি’ অভিধায় পরিচিত। বলতে দ্বিধা নেই, এই মতাদর্শের প্রচার ও প্রসার ঘটতে গরিবের কল্যাণচিন্তা থেকেই অগ্রসর হয়েছে। কালের আবর্তনে রাষ্ট্র, সমাজ ও সংস্কৃতিতে এর কিছু প্রভাব প্রতিফলিত হয়েছে। তবে ‘শ্রেণিহীন সমাজের’ আবেদন সমকালে এর মানসিক প্রতিক্রিয়াও লক্ষ করা যায়। কোনো কোনো রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের ভেতরও তার প্রভাব বিদ্যমান। মানুষের সাধারণ কিছু আবেগ,

চিন্তাভাবনা ও মূল্যবোধের দিকগুলিকে উপেক্ষা করে এটি এগিয়ে যেতে চেয়েছে। ফলে মানুষের কাছে

« <
/ 16
> »