লাল রাজনীতি

« <
/ 16
> »

চিন্তার প্রতি অসহিষ্ণুতা এবং অহিংস অনীহা প্রকাশও চরমপন্থার অন্তর্গত। বিক্ষোভ, বিদ্রোহ, ক্ষমতা দখল ও সন্ত্রাসবাদী কৌশল প্রয়োগের চেষ্টাও চরমপন্থা হতে পারে।[1]

উপমহাদেশে ‘লাল রাজনীতি’র উত্থান

ভারতে বামপন্থার আগমন প্রসঙ্গে জানা যায়, সোভিয়েত রাশিয়ার তাসখন্দে কমিউনিস্ট পার্টি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর এর বিভিন্ন সদস্য গোপনে ভারতে আসেন। তারপর তারা কলকাতা, বোম্বাই, মাদ্রাজ, লাহোর প্রভৃতি স্থানে বিভিন্ন কমিউনিস্ট গোষ্ঠী গড়ে তোলেন। এই গোষ্ঠীগুলো কানপুরে এক সম্মেলনে মিলিত হয়ে ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টি প্রতিষ্ঠা করে ১৯২৫ খ্রিষ্টাব্দে। এই সম্মেলনের সভাপতি ছিলেন সিঙ্গারাভেলু চেটিয়ার, অভ্যর্থনা কমিটির সভাপতি ছিলেন হসরৎ মোহানী এবং সাধারণ সম্পাদক হন সচ্চিদানন্দ বিষ্ণুঘাটে। ১৯১৭ খ্রিষ্টাব্দে রাশিয়ায় মার্কসবাদী বলশেভিক বিপ্লব সম্পন্ন হলে ভারতেও এর প্রভাব পড়ে। বিশ শতকে ভারতের জাতীয় রাজনীতিতে কংগ্রেসের প্রাধান্য সত্ত্বেও বামপন্থি ভাবধারা, রাজনীতি ও আন্দোলনের যথেষ্ট প্রসার ঘটে। এ দেশে বামপন্থি রাজনীতি ও আন্দোলনের চরিত্র কংগ্রেসি রাজনীতি ও আন্দোলন থেকে অনেক ক্ষেত্রে পৃথক ছিল।[2]

এই উপমহাদেশে বাম রাজনীতির ইতিহাসের শুরু বিশ শতকের বিশের দশকে। মানবেন্দ্রনাথ রায়ের (এম.এন. রায়) উদ্যোগে কিছু নির্বাসিত ভারতীয় ১৯২০ খ্রিষ্ট্দে ১৭ অক্টোবর সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের তাসখন্দ শহরে ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টি (সি.পি.আই) গঠন করেন। চল্লিশের দশকের শেষ পর্যন্ত বর্তমান বাংলাদেশ এলাকায় এ পার্টির তেমন তৎপরতা ছিল না। বিশ ও ত্রিশের দশকে মধ্যবিত্ত শ্রেণির, বিশেষত তরুণদের বিপ্লবী জাতীয়তাবাদী আন্দোলন ব্রিটিশ শাসকদের বিরুদ্ধে প্রধানত সন্ত্রাসবাদী রূপ পরিগ্রহ করে এবং ব্রিটিশ নাগরিক, পুলিশ ও কর্মকর্তা হত্যাই তাদের প্রধান লক্ষ্য হয়ে ওঠে।

বৃহত্তর ঢাকা, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা ও বরিশাল জেলা ছিল এ ধরনের তৎপরতার মূলকেন্দ্র। অনেক সন্ত্রাসবাদী তখন পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত হন, একাংশকে জেলখানায় ফাঁসি দেওয়া হয়। এছাড়া শত শত কর্মী বছরের পর বছর জেলখানায় আটক থাকেন এবং অনেককে দ্বীপান্তর দণ্ড দিয়ে আন্দামানে পাঠানো হয়। জেলখানায় আটক এই সন্ত্রাসবাদীরা কমিউনিস্ট পত্রপত্রিকা পাঠের সুযোগ পান এবং অনেকে কমিউনিস্ট দলে যোগ দেন। ১৯৪০ খ্রিষ্টাব্দে ভারত বিভাগের পর পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টির অধিকাংশ হিন্দু সদস্য সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ও সরকারের দমনমূলকব্যবস্থার কারণে ভারতে চলে যান।[3]

« <
/ 16
> »

  1. ড. সুলতান মাহমুদ ও বিবি মরিয়ম, রাজনীতি ও কূটনীতিকোষ, আলেয়া বুক ডিপো, ঢাকা, ফেব্রুয়ারি, ২০১৫। ↩
  2. https://history4u3.blogspot.com/2019/07/nature-and-characteristics-of-communist.html ↩
  3. মহিউদ্দিন আহমদ, বাংলাপিডিয়া (খণ্ড-৭), (প্রধান সম্পাদক-সিরাজুল ইসলাম), বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি, ঢাকা, ২০০৪, পৃ. ২৯। ↩