লাল রাজনীতি

« <
/ 16
> »

না। জনগণের নামে, জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে পুঁজিপতি ও তাদের প্রতিভূরা স্বীয় শ্রেণিার্থেই কাজ করে এবং একচ্ছত্র শোষণ অব্যাহত রাখে।[1]

বুর্জোয়া দালাল

যে সমস্ত বুর্জোয়া বা পুঁজিপতি বিদেশি উৎপাদক ও স্বার্থের এজেন্ট হিসেবে কাজ করে এবং কমিশন বা প্রিমিয়ামপ্রাপ্তির মাধ্যমে সম্পদশালী হয়, তাদের বলে দালাল বুর্জোয়া। দালাল বুর্জোয়ারা তাদের নিজ দেশের শিল্পকারখানার

বিকাশ হোক এবং বিদেশি পণ্যের আমদানি খর্ব হোক, তা কখনোই চায় না। কারণ, যে সকল পণ্যের তারা দালাল, সেসব দেশেই উৎপাদিত হতে শুরু করলে তাদের দালালি বা কমিশনের সুযোগ বন্ধ হয়ে যাবে। তাই দালাল বুর্জোয়ারা সব সময় জাতীয় শিল্পায়ন তথা জাতীয় অর্থনৈতিক বিকাশের অন্তরায় হিসেবে হাজির থাকে।[2]

শ্রেণিশত্রু

কোনো সমাজবিপ্লবের পটভূমিতে যারা চূড়ান্ত শোষক ও তাদের দোসর, তাদেরই বলা হয় শ্রেণিশত্রু। শ্রেণিশত্রুকে উৎখাত ও নির্মূল করা ছাড়া সমাজবিপ্লব সম্পাদন করা যায় না। তাই সমাজবিপ্লবের প্রধান কাজ হলো—শ্রেণিশত্রুকে চিহ্নিত করা এবং তাদের নির্মূল করা। এই নির্মলীকরণ শারীরিক ও সামাজিক দুটোই হতে পারে। সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের ক্ষেত্রে বুর্জোরাই হলো শ্রেণিশত্রু। আবার জাতীয় গণতান্ত্রিক বিপ্লবের ক্ষেত্রে সাম্রাজ্যবাদী-উপনিবেশবাদী গোষ্ঠী, তাদের দেশীয় অনুচর এবং সামন্তবাদী গোষ্ঠীকে চিহ্নিত করা হয়। সমাজের বাদবাকি অংশগুলোকে পক্ষে আনা অথবা নিরপেক্ষ রাখাকে বিপ্লবরা কৌশল হিসেবে গ্রহণ করে।[3]

শ্রেণিগ্রাম

বিরোধী স্বার্থসম্পন্ন শ্রেণিগুলোর পারস্পরিক সংগ্রামই হলো শ্রেণিগ্রাম। অন্য কথায় শোষক ও শোষিতের লড়াইয়ের নাম শ্রেণিগ্রাম। দাসসমাজ থেকে পুঁজিবাদী সমাজ পর্যন্ত প্রতিটি শোষণমূলক সমাজের ইতিহাসই মূলত শ্রেণিগ্রামের ইতিহাস। বস্তুত শোষণমূলক সমাজ পরিবর্তনের মূলেই রয়েছে শ্রেণিগ্রাম। পুঁজিবাদী সমাজে সংগ্রাম মূলত বুর্জোয়া শ্রেণির সঙ্গে সর্বহারা শ্রেণির। রাষ্ট্রক্ষমতা থেকে বুর্জোয়া শ্রেণিকে উৎখাত করে সর্বহারা শ্রেণি কর্তৃক রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের মাধ্যমেই পুঁজিবাদী সমাজ তথা শ্রেণিবিভক্ত সমাজব্যবস্থার অবসান ঘটতে পারে। সর্বহারা শ্রেণির পার্টি কর্তৃক রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের পর শ্রেণি-অস্তিত্ব লোপ পাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেলেও, বেশ কিছুদিন পর্যন্ত শ্রেণির অস্তিত্ব টিকে থাকে বিধায় শ্রেণিগ্রামও বলবৎ থাকে। তবে শোষকশ্রেণি ক্ষমতায় না থাকায় এ পর্যায়ে শ্রেণিগ্রামের রূপও পাল্টায়।

স্ট্যালিনের মতে, সর্বহারা শ্রেণি কর্তৃক রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের পর শ্রেণিসংগ্রামকে বরং তীব্রতর করতে হয়। কিন্তু সংশোধনবাদীদের মতে, সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের পর আর শ্রেণিসংগ্রামের কোনো প্রয়োজনীয়তা নেই। বর্তমান বিশ্বপরিস্থিতিতে শ্রেণিসংগ্রামের ক্ষেত্রেও নবতর বৈশিষ্ট্য সংযোজিত হয়েছে। কারণ, উন্নত পুঁজিবাদী দেশসমূহ শ্রেণিসংগ্রামকে ঠেকানোর অন্যতম পন্থা হিসেবে তাদের স্ব-স্ব

« <
/ 16
> »

  1. প্রাক্তক্ত। ↩
  2. প্রাক্তক্ত। ↩
  3. প্রাক্তক্ত। ↩