লাল রাজনীতি

« <
/ 16
> »

নেতৃত্বদান করে। বর্তমানে সর্বহারা শ্রেণিটি আর আগের মতো ‘ভূমিহীন বর্গ’ আকারে উপস্থিত নেই। বিশেষত সাবেক ঔপনিবেশিক দেশসমূহে এমন অনেক শিল্প শ্রমিক রয়েছে, যারা গ্রাম থেকে ছিন্নমূল নয়; বরং গ্রামে কারোর কারোর নিজস্ব বাড়ি ও কমবেশি জোতজমিও রয়েছে। [1]

সর্বহারার একনায়কত্ব

সমাজতন্ত্রী মতবাদ অনুযায়ী সর্বহারা শ্রেণির আন্দোলনের লক্ষ্য হলো বুর্জোয়া কুসংস্কার, বুর্জোয়া আইন, বুর্জোয়া স্বত্বকে নির্মূল করা। শোষণের ওপর প্রতিষ্ঠিত আধুনিক বুর্জোয়া ব্যক্তিগত মালিকানা উচ্ছেদ করা। বুর্জোয়া রাষ্ট্রশক্তিকে হটিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হবে সর্বহারা শ্রেণির রাষ্ট্রশক্তি। একনায়কত্ব কথাটির দ্বারা একের ওপর অন্য শ্রেণির আধিপত্য বোঝায়। যেহেতু সর্বহারা শ্রেণি রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের পরপরই প্রতিক্রিয়াশীল বুর্জোয়া চক্রের অবসান ঘটে না, সুতরাং শ্রেণি অবসান না হওয়া পর্যন্ত সর্বহারা শ্রেণির একনায়কত্ব অনিবার্য হয়ে পড়ে। সর্বহারা শ্রেণি তার একনায়কত্ব ব্যবহার করে শোষকগোষ্ঠীর বাধাকে প্রতিহত করার জন্য, বিপ্লবের বিজয়কে সুসংহত করার জন্য,

বুর্জোয়াদের পুনরুত্থানের যাবতীয় প্রয়াসকে ব্যাহত করার জন্য এবং আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়ার চক্রান্তকে বানচাল করার জন্য।[2]

বুর্জোয়া

শব্দটি ফরাসি। এর শাব্দিক অর্থ মধ্যবিত্ত। সামন্তযুগের শেষ দিকে যখন শিল্পকারখানা ও ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারণ ঘটেছিল, সমাজে তখন শিল্পপতি ও ব্যবসায়ীদের এক নতুন গোষ্ঠী গড়ে উঠতে থাকে। এরা ভূমিদাসদের মতো নিঃস্ব ছিল না; বরং সকলেই ছিল কমবেশি বিত্তশালী। কিন্তু সামন্ত প্রভুদের বিশাল বিত্তের তুলনায় এদের সম্পদ ছিল অনেক কম। তাই এদেরকে বলা হতো মধ্যবিত্ত বা বুর্জোয়া। শিল্পবিপ্লব তথা শিল্পে যন্ত্রায়নের ফলে অসংখ্য বৃহদাকার কারখানা গড়ে উঠতে থাকে। ফলে একপর্যায়ে শিল্পপতি, ব্যবসায়ীদের সম্পদ সামন্ত প্রভুদের বিত্তকে ছাড়িয়ে যায়। এমনকি একপর্যায়ে সামন্তবাদী ব্যবস্থাও উচ্ছেদ হয়ে যায়। কিন্তু শিল্পপতি ও ব্যবসায়ীরা যত অগাধ সম্পত্তিরই মালিক হোক না কেন, তাদের বুর্জোয়া নামকরণই বহাল থাকে। বর্তমানে বুর্জোয়া বলতে সমগ্র শিল্পপতি-ব্যবসায়ীর গোষ্ঠীকেই বোঝানো হয়।[3]

বুর্জোয়া একনায়কত্ব

এটা বুর্জোয়া গণতন্ত্রেরই অপর নাম। কেননা, বুর্জোয়া গণতন্ত্র যদিও কাগজে-কলমে বলে যে, এই ব্যবস্থায় যে কেউ পার্লামেন্টে নির্বাচিত হয়ে সদস্য, মন্ত্রী, এমনকি সরকারপ্রধান বা রাষ্ট্রপ্রধান পর্যন্ত হতে পারে; কিন্তু কার্যত সমস্ত ব্যবস্থা এমনভাবে বিন্যাস করা থাকে যে, তাতে পুঁজিপতি শ্রেণি বা তাদের প্রতিভূ ছাড়া অপর কেউ কখনো নির্বাচিত হতে পারে

« <
/ 16
> »

  1. ড. সুলতান মাহমুদ ও বিবি মরিয়ম, রাজনীতি ও কূটনীতিকোষ, আলেয়া বুক ডিপো, ঢাকা, ফেব্রুয়ারি, ২০১৫। ↩
  2. প্রাক্তক্ত। ↩
  3. হারুনুর রশীদ : রাজনীতিকোষ, মাওলা ব্রাদার্স, ঢাকা; জুলাই, ২০১৩। ↩