মুসলিম ও পাশ্চাত্য সভ্যতা

« <
/ 16
> »

আমার একান্ত কর্তব্য আল্লাহর দেওয়া হিদায়াত আর তাঁর আদেশের ওপর অবিচল থাকার বার্তা দিয়ে নিজেকে, আমার শ্রোতাদের এবং এই লক্ষ্যহীন, বিভ্রান্ত মানবতাকে মুক্তির পথ দেখানো। নিজের সাধ্যমতো ‘ইলমুল ইয়াকীন’ থেকে ‘হাক্কুল ইয়াকীন’-এর স্তরে পৌঁছানো। আমি যতবারই কোনো পাশ্চাত্য দার্শনিকের লেখা পড়েছি, মানুষের যেকোনো মানবিক সংকট বা সামাজিক ব্যাধির জন্য মুসলমানদের কাছেই যে সর্বোত্তম ও একমাত্র নিরাময় রয়েছে সেই বিশ্বাস আমার মনে তত বেশি দৃঢ় হয়েছে। আর একজন শুভাকাঙ্ক্ষী হিসেবে নসীহত করার দায়বদ্ধতাই আমাকে তাগিদ দেয়, আমার জানা সত্যটুকু আমি সবার সামনে তুলে ধরি, আর আমার কোনো খামতি থাকলে তা পূর্ণ করার দায়িত্ব না হয় পরের প্রজন্মের ওপরই ছেড়ে দিলাম। কারণ, মক্কা বিজয়ের আগে যারা অর্থ ব্যয় ও লড়াই করেছেন, আর যারা বিজয়ের পরে তা করেছেন, তারা কখনোই সমান হতে পারেন না।

আল্লাহর অশেষ মেহেরবানী যে, আমি এমন কোনো মানুষের শত্রু নই যে সত্যকে মেনে নেয়; আর একমাত্র আল্লাহ ছাড়া আমি অন্য কারও দাসও নই। আমি তো কেবল প্রতিটি মানুষের এক ব্যাকুল শুভাকাঙ্ক্ষী। প্রাচ্য বা প্রতীচ্যের যেকোনো ভিন্নমতাবলম্বীর সাথে যুক্তির আলোয় বাহাস করতে এবং অকাট্য প্রমাণ খাড়া করতে আমি সদা প্রস্তুত। আমার একমাত্র লক্ষ্য হলো এই লক্ষ্যহীন, অসহায় মানুষকে সেই পরম দয়াময় ও পরম প্রেমময় আল্লাহর দরবারে পৌঁছে দেওয়া, যাঁর অসীম রহমতের গভীরতা বোঝাতে গিয়ে তাঁর প্রিয় রাসূল এক অনন্য উপমা টেনেছিলেন। যুদ্ধবন্দীদের মাঝে এক নারীকে নিজের সন্তানকে হন্যে হয়ে খুঁজতে দেখে এবং শেষমেশ তাকে বুকে জড়িয়ে ধরে দুধ খাওয়াতে দেখে নবীজী তাঁর সাহাবীদের জিজ্ঞেস করেছিলেন, “তোমরা কি মনে করো এই নারী কখনো তার সন্তানকে আগুনে ফেলে দিতে পারে?” সাহাবীরা বললেন, “কখনোই না।” তখন রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন, “আল্লাহ তাঁর বান্দাদের প্রতি এই মায়ের চেয়েও কোটি গুণ বেশি দয়ালু।”

আর তাঁর এই সুবিশাল রহমতেরই দাবি হলো, তিনি আমাদের কাছে একজন রাসূল পাঠিয়েছেন এবং অবতীর্ণ করেছেন এক মহাসত্য কিতাব, যেন আমরা তার অনুসরণ করি এবং জীবনের যাবতীয় মতভেদে তাকেই চূড়ান্ত মীমাংসাকারী মেনে নিই। সহজাতভাবেই মানুষ ন্যায়কে ভালোবাসে, অন্যায়কে ঘৃণা করে; সত্যকে পছন্দ করে আর মিথ্যাকে বর্জন করে। কিন্তু কিতাবের আলো ছাড়া আমরা কীভাবে এই সত্য-মিথ্যার সূক্ষ্ম সীমানাগুলো চিনে নেব? যেমনটি আল্লাহ বলেছেন: “মানবজাতি

« <
/ 16
> »