মুসলিম ও পাশ্চাত্য সভ্যতা

« <
/ 16
> »

হলো “আমি যা বুঝি, তোমাদের তা-ই বোঝাই; আর আমি তোমাদের কেবল মঙ্গলের পথই দেখাই” (সূরা গাফির: ২৯)। আর যার মূল দর্শনই হলো “তুমি যদি আমার দাস না হও, তবে তুমি আমার শত্রু; আর তুমি যদি আমার স্তুতি না গাও, তবে তুমি চরমপন্থী।”

দ্বিতীয়ত: আর্থিক সংকট

সবাই জানেন যে, আমার কোনো চাকরি নেই। এমনকি আমার প্রাপ্য ও জমানো টাকা থেকে যে পেনশনের অংশটুকু দেওয়া হতো, তা থেকেও আমাকে বঞ্চিত করা হয়েছে। তবে আল্লাহর দরবারে লাখো শুকরিয়া, যিনি তাঁর প্রতি আমার মুখাপেক্ষীতাকে বাড়িয়ে দিয়ে আমাকে দুনিয়াবি দিক থেকে ধনী করেছেন। আমাকে সম্মানিত করেছেন যেন কোনো সৃষ্টির সামনে হাত পাততে না হয়। আমার কাছে যদি অগাধ অর্থসম্পদ থাকত, তবে আমি তা অভাবী মানুষের কল্যাণে বিলিয়ে দিতাম; বিশেষ করে আল্লাহর সেই পুণ্যভূমিতে যারা আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করছেন, যা তিনি বিশ্ববাসীর জন্য বরকতময় করেছেন, এবং এই পবিত্র ভূমিতে যারা দ্বীনের জ্ঞান অন্বেষণ করছেন।

তৃতীয়ত: সামাজিক প্রতিবন্ধকতা

আমি এমন এক সমাজের সন্তান, যেখানে একধরনের রক্ষণশীলতা আর অন্ধ অতীত-পূজার প্রাধান্য প্রবল। অতীতকে আঁকড়ে ধরার আতিশয্যে সেখানে নতুনের ভালো ও ইতিবাচক দিকগুলোকে মূল্যায়ন করার উদারতাটুকু প্রায় অনুপস্থিত।

চতুর্থত: সময়ের স্বল্পতা

এই বইটির লিখনী আমি মাত্র কিছুদিন আগেই শুরু করেছি। অথচ আমার সামনে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল পবিত্র রমজান মাস আসার আগেই এর কাজ সম্পন্ন করা। কারণ রমজান তো হলো আত্মিক বিজয়, ইসলামের গৌরবময় ফুতুহাত, বরকত আর কবুলিয়তের মাস।

এর সাথে যোগ হয়েছে মৃত্যুর এক অবিরত তাগিদ। আমার ভয় হয়, যেকোনো মুহূর্তে হয়তো জীবনের ডাক চলে আসবে। সাদা চুল আর বার্ধক্যের রূপ ধরে আল্লাহ তো আমাকে আগেই সতর্ক করে দিয়েছেন; যেমনটা তিনি ইরশাদ করেছেন: “আর এ কথাও কি তারা ভেবে দেখে না যে, হতে পারে তাদের বিদায়ের সময়টা একেবারেই ঘনিয়ে এসেছে?” (সূরা আল-আ’রাফ: ১৮৫)। মৃত্যু এমন এক দুর্ভেদ্য ও কঠিন পাহাড়, যা কেবল হালকা ও নির্ভার মানুষেরাই পার হতে পারে। আর মৃত্যুর পরের যে সওয়াল-জওয়াব, তা তো আরও অনেক বেশি কঠিন।

মৃত্যুর পরেই যদি সব চুকেবুকে যেত,

তবে জীবন ধারণের শেষ লক্ষ্য হতো শুধুই মরণ;

কিন্তু মৃত্যুর পরও আমাদের আবার তোলা হবে,

জিজ্ঞাসা করা হবে জীবনের ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র সব আয়োজন।

তাই

« <
/ 16
> »