মুসলিম ও পাশ্চাত্য সভ্যতা

« <
/ 16
> »

বিপর্যস্ত মানবতার মুক্তির একমাত্র পথ একমাত্র ইসলাম। ইসলাম ছাড়া অন্য যেকোনো পথের পেছনে ছোটা মানে মরীচিকা আর মরিচীকার পেছনে ছুটে চলা কেবলই বিভ্রান্তি আর প্রতারণা।

এই উদ্দেশ্য পূরণে আমি যদি সফল হয়ে থাকি, তবে তার সমস্ত গৌরব ও অনুগ্রহ একমাত্র আল্লাহর। আর যদি কোনো ভুলভ্রান্তি হয়ে থাকে, তবে তা আমার নিজস্ব খামতি এবং শয়তানের প্ররোচনা; আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল এ থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত। আর মুসলমানরা তো তাওহীদ, সত্য ও ন্যায়ের জাতি তারা সত্যকে সর্বদা সাদরে গ্রহণ করে, তা যার কাছ থেকেই আসুক না কেন।

আমার জন্য এটুকুই সান্ত্বনা যে, আমি এমন একটি পথের সূচনা করতে পেরেছি। আমি আশা রাখি আল্লাহ মুমিনদের মধ্য থেকে এমন কাউকে দাঁড় করিয়ে দেবেন, যিনি এই পথকে পূর্ণতা দান করবেন। এই বইটিকে আলোর মুখ দেখানোর জন্য অজস্র বাধা-বিপত্তি আর চ্যালেঞ্জ আমাকে পার হতে হয়েছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

প্রথমত: সরকারি অনুমতি

এটি আমার জন্য ছিল এক চরম কঠিন পরীক্ষা। একবার একটি প্রকাশনী যখন আমার একটি বই অনুমোদনের জন্য পেশ করল, তখন সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সরাসরি বলেছিলেন, “সমস্যা বইয়ের বিষয়বস্তু নিয়ে নয়, সমস্যা লেখকের নাম নিয়ে। আপনারা যদি এই নামের জায়গায় অন্য কোনো নাম বা কোনো গবেষণা প্রতিষ্ঠানের নাম বসিয়ে দেন, তবে অনুমতি পেতে বিন্দুমাত্র বেগ পেতে হবে না।”

অথচ নিজের স্পষ্ট ও আসল নামে লেখাই আমার চিরদিনের স্বভাব; নিজের জায়গায় অন্য কারও নাম বসানো আমি কখনোই মেনে নিতে পারি না। এই মহাসংকটের সামনে আমার কাছে কেবল দুটি পথ খোলা ছিল:

ক) ঘুষ দেওয়া; যা আজকাল প্রায় প্রতিটি দপ্তরে একটি সাধারণ নিয়মে পরিণত হয়েছে। কিন্তু আমার নীতিতে এটি একেবারেই না-পসন্দ। আমি জীবনে কখনো তা করিনি এবং করবও না।

খ) সরকারি অনুমতি ছাড়াই বইটি ছাপানো। শেষ পর্যন্ত আমি এই পথটিই বেছে নিলাম; বিশেষ করে আমরা এখন এমন এক যুগে বাস করছি, যেখানে মানুষের কাছে কাগজের নিয়মতান্ত্রিক আনুষ্ঠানিকতা রক্ষার চেয়ে আর্থিক লাভটাই বড় কথা। আর এই পথ বেছে নেওয়া আমার কাছে নিজের চোখ উপড়ে ফেলে স্তাবকদের দলে শামিল হওয়ার চেয়ে অনেক সহজ ছিল। আমি আমার ডিগ্রি আর মেধা-যোগ্যতাকে এমন কারও সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য বিলিয়ে দিতে পারি না, যার স্লোগানই

« <
/ 16
> »