সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেছেন: “আর সংসারবিরাগ, এটা তো তারা নিজেরাই আবিষ্কার করেছিল” (সূরা হাদীদ: ২৭)। যেখানে আল্লাহর কিতাবের দিকে ফিরে যাওয়া উচিত ছিল, সেখানে তারা আশ্রয় নিল ভোটাভুটির। এভাবে তারা তাদের ধর্মযাজক ও পাদরিদের আল্লাহর পরিবর্তে নিজেদের রব্ব বা বিধানদাতা বানিয়ে নিল। তাদের পণ্ডিতেরা ইতিহাসের প্রথম যে ধর্মীয় মহাসভাটি ডেকেছিল, তা ছিল ৩২৫ খ্রিষ্টাব্দের ‘কাউন্সিল অব নিসিয়া’। আর সেই সভার নেপথ্য নিয়ন্ত্রক ছিল রোমের পৌত্তলিক সম্রাট কনস্টানটাইন। সে তাওহীদ বা একত্ববাদের আকিদার চেয়ে ত্রিত্ববাদ বা ‘তৃত্বত্ব’-এর আকিদাকেই বেশি প্রাধান্য দিল; কারণ ত্রিত্ববাদ তার নিজস্ব পৌত্তলিক বিশ্বাসের অনেক কাছাকাছি ছিল। খ্রিষ্টানরা কেবল এতেই ক্ষান্ত হয়নি, বরং যারা একত্ববাদে বিশ্বাসী ছিল তাদের ওপর অভিশাপ বর্ষণ করল এবং সমাজচ্যুত করল। তারা মসীহ (আ.)-কে খোদা বলে বিশ্বাস করতে শুরু করল, তাঁর ক্রুশবিদ্ধ হওয়ার মনগড়া কাহিনী ফাঁদল এবং তাওরাতের কিছু অস্পষ্ট ও রূপক শব্দের অপব্যাখ্যা করে ত্রিত্ববাদের সপক্ষে প্রমাণ খাড়া করার ব্যর্থ চেষ্টা করল। এভাবেই তারা আল্লাহর দ্বীনের ব্যাপারে মানুষের পরামর্শকে গুরুত্ব দিল এবং আল্লাহর বিধান থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে মানুষের খেয়ালখুশির অনুসরণ করল; ফলে মানুষের এই মনগড়া মতবাদের কলুষতায় বিশ্বাসের মূল উৎসটি ঘোলাটে হয়ে গেল।
তবে মহান আল্লাহ তাঁর সর্বশেষ কিতাব ‘আল-কুরআন’-কে সুরক্ষার দায়িত্ব নিজেই নিয়েছেন এবং এর পবিত্রতা ও অনাবিলতা রক্ষায় যুগে যুগে এমন সব বীরদের নিয়োজিত করেছেন যারা এর পক্ষে বুক চিতিয়ে লড়াই করেছেন। তাঁদেরই একজন হলেন পরম শ্রদ্ধেয় ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল (রহ.)। ইসলামের ইতিহাসে প্রথম খলীফা আবু বকর সিদ্দিক (রা.) যেভাবে প্রথম ইরতিদাদ (দ্বীনত্যাগ)-র ফিতনার মোকাবেলায় দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়েছিলেন, ইমাম আহমাদও ঠিক তেমনিভাবে ইসলামের ‘দ্বিতীয় দ্বীনত্যাগের ফিতনা’ বা বুদ্ধিবৃত্তিক আগ্রাসনের মুখে অটল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন।
এভাবেই আল্লাহর কিতাব আজ অবিকৃত ও সুরক্ষিত রয়ে গেছে, এবং এই তৃষ্ণার্ত মানবতার জন্য তাঁর দ্বীনই একমাত্র আশ্রয়স্থল ও চূড়ান্ত মানদণ্ড হিসেবে টিকে আছে। বিশ্ববাসীর প্রতি আল্লাহর অসীম রহমতেরই এটি দাবি যে, তিনি তাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টি মুহাম্মদ ﷺ-এর রেখে যাওয়া বার্তাকে চির-অভ্রান্ত করেছেন এবং এই বরকতময় উম্মতের মধ্যে একটি দলকে সর্বদা সত্যের ওপর বিজয়ী ও অবিচল রেখেছেন, যারা কখনো সম্মিলিতভাবে কোনো ভ্রষ্টতার ওপর একমত হবে না। তিনি প্রতি শতাব্দীতে এমন সব মানুষদের পাঠিয়েছেন যারা এই মিল্লাতকে পুনরুজ্জীবিত
