করেন, দ্বীনের হারিয়ে যাওয়া ও ভুলে যাওয়া আদর্শকে বাঁচিয়ে তোলেন এবং মানুষকে বাঁকা পথ থেকে ফিরিয়ে এনে সুন্নাহর সরল ও শাশ্বত রাজপথে তুলে দেন।
আর মধ্যযুগীয় ইসলামী স্বর্ণযুগে আল্লাহ তায়ালা মুসলমানদের এক অনন্য প্রতিভা, তীক্ষ্ণ বুদ্ধিমত্তা ও ঐশী মেধা উপহার দিয়েছিলেন শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর রূপ ধরে। তিনি ইসলামের সমস্ত প্রকাশ্য ও গোপন শত্রুদের দাঁতভাঙা জবাব দিয়েছিলেন; খণ্ডন করেছিলেন এমন প্রত্যেককে, যার চিন্তা ও দর্শন সালাফে সালেহীনের আকিদা থেকে বিচ্যুত হয়েছিল। তিনি হাদীস, তাফসীর ও ঈমানিয়্যাতের ক্ষেত্রে এক কালজয়ী বুদ্ধিবৃত্তিক ঘরানার জন্ম দিয়েছিলেন। তাঁর পরবর্তী যুগের সবার জন্য তিনি ছিলেন এক শাশ্বত বাতিঘর; যেমনটি তাঁর অন্যতম সুযোগ্য ছাত্র আল্লামা ইবনুল কাইয়্যেম (রহ.) বলেছিলেন, “আমরা সবাই আসলে তাঁর জ্ঞানের মহাসমুদ্র থেকেই আজলা ভরে পানি নিচ্ছি।”
জ্ঞানের এই সুবিশাল মহাসমুদ্র থেকে যিনি আকণ্ঠ পান করেছিলেন, তিনি হলেন উম্মাহর অন্যতম সংস্কারক ইমাম শায়খ মুহাম্মদ বিন আবদুল ওয়াহাব (রহ.)। তাঁর দাওয়াত ও সংস্কারের আলো পৃথিবীর প্রান্ত থেকে প্রান্তান্তরে ছড়িয়ে পড়েছিল। শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর মতোই তিনিও ছিলেন সত্যের একনিষ্ঠ সেবক। নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তিকে ঢালাওভাবে তাকফীর করার প্রবণতা থেকে তিনি ছিলেন বহুদূরে। তিনি প্রজ্ঞা, উত্তম উপদেশ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ বিতর্কের মাধ্যমে মানুষকে আল্লাহর পথে ডাকতেন। কোনো বিষয় নিজে সরাসরি গভীরভাবে না জেনে সে বিষয়ে তিনি কখনো মন্তব্য করতেন না। এমনকি বলা হয়ে থাকে, ইরাক সফর করে সেখানকার শিয়াদের কাজকর্ম সচক্ষে দেখার এবং তাদের নিজস্ব মূল কিতাবপত্র থেকে তাদের মতামত অধ্যয়নের পর, তিনি ইরানের ‘কোম’ শহরেও গিয়েছিলেন; যেন তাদের কর্মকাণ্ড নিজের চোখে দেখে পরখ করতে পারেন। একই কথা খাটে কবরপূজারী ও মাজারপূজারী এবং এমন প্রত্যেক ব্যক্তির ক্ষেত্রে, যে কি না আমর বিন লুহাইয়ের মতো পৌত্তলিকতার সূচনা করেছিল কিংবা নূহ (আ.)-এর জাতির মতো মূর্তিপূজার বিলুপ্ত পথকে পুনরুজ্জীবিত করেছিল।
অতঃপর আল্লাহর এক অমোঘ ইচ্ছায় মুসলিম উম্মাহর ওপর পাশ্চাত্য সভ্যতার এক মিথ্যে ও চাকচিক্যময় অন্ধকার ধেয়ে এল। ফলশ্রুতিতে, অধিকাংশ মুসলিম ভূখণ্ড এই আধুনিক ক্রুসেডারদের অধীনে চলে গেল। জ্ঞান-বিজ্ঞানের নামে নানা অপব্যাখ্যা তৈরি হলো, সমাজে বিদআতের অনুপ্রবেশ ঘটল এবং মানুষের মাঝে বিভ্রান্তি ও বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ল। তারা মানুষের তৈরি মনগড়া আইন আর খেয়ালখুশির শাসন চালু করল। কিন্তু আল্লাহ তায়ালা তো এই
