দৃঢ় অবস্থান নিয়েছিলেন যেন ওহীর সেই পবিত্র ও স্বচ্ছ ঝরনাধারা মানব রচিত দর্শন আর বিকৃত আকিদার কলুষতায় দূষিত হতে না পারে। সমসাময়িক কালের অনেক সমালোচক, যারা মনে করেছিলেন বিষয়টি বোধহয় এতখানি গুরুতর নয়, তাদের চেয়ে ইমাম আহমাদের দূরদর্শিতা ও সিদ্ধান্ত ছিল অনেক বেশি সঠিক ও নিখুঁত। ইমাম আহমাদ তাঁর বিরোধীদের কাছে বারবার শুধু একটি দাবিই জানাতেন, “তোমরা আল্লাহর কিতাব কিংবা রাসূলের সুন্নাহ থেকে একটিমাত্র প্রমাণ এনে আমাকে দেখাও।” কারণ তিনি খুব ভালো করেই জানতেন, সত্যের একমাত্র উৎস এটাই। আলেম সমাজ যদি শুরুতে ছোট কোনো বিদআত বা বিভ্রান্তিকে অবহেলা করে প্রশ্রয় দেয়, তবে তা একসময় ডালপালা মেলে এক বিশাল মহীরুহ ধারণ করে। জ্যামিতির একটি সূক্ষ্ম কোণ যেমন শুরুতে খুব সামান্য দেখায়, কিন্তু তার রেখা দুটি যত দূরে যেতে থাকে, তাদের মধ্যকার ব্যবধান ততটাই বাড়তে থাকে, যা একসময় আর কখনোই মেলানো সম্ভব হয় না। মুসলিম বিশ্বের বিভ্রান্তিগুলোও ঠিক এভাবেই ওহীর উৎসকে সামান্য কলুষিত করার মাধ্যমেই শুরু হয়েছিল, যার চূড়ান্ত পরিণতিতে আজ আমরা প্রকাশ্য নাস্তিক্যবাদ এবং ধর্মের খোলস থেকে সম্পূর্ণ বেরিয়ে যাওয়ার এক ভয়াবহ রূপ দেখতে পাচ্ছি।
ইহুদিরা—আল্লাহ তাদের লাঞ্ছিত করুন—এই সত্যকে খোদ স্বীকার করেছিল, যখন নবীজী ﷺ তাদের ধর্মীয় শিক্ষালয়-এ প্রবেশ করেন এবং তাঁর সাথে ছিলেন তাদেরই প্রাক্তন প্রখ্যাত পণ্ডিত আবদুল্লাহ ইবনে সালাম (রা.)। যখন ইবনে বাউরা নামের এক ইহুদি পণ্ডিত তাওরাতের রজমের (পাথর ছুড়ে মৃত্যুদণ্ড) আয়াতের ওপর থেকে নিজের হাত সরিয়ে নিল, তখন তাদের অন্য ধর্মযাজকরা অজুহাত দিয়ে বলল, রজমের বিধানটি আসলেই আল্লাহর হুকুম, কিন্তু তাদের সমাজপতি ও অভিজাতদের মধ্যে ব্যভিচার ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার পর তারা ভাবল এমন একটা সমঝোতায় আসা দরকার যা ধনী-গরিব সবার ওপর সমানভাবে প্রয়োগ করা যায়। তাই তারা রজমের বদলে মুখ কালো করে দেওয়া এবং চাবুক মারার নিয়ম চালু করল। অর্থাৎ, তারা আল্লাহর বিধানের ওপর নিজেদের স্বরচিত ‘সাম্য’-কে স্থান দিল এবং আল্লাহর শরীয়তের অবমাননা করে এক মনগড়া সমঝোতায় পৌঁছাল; অথচ আল্লাহর স্পষ্ট বিধানের সামনে মানুষের এই জাতীয় কোনো ইজতিহাদ বা মতামতের বিন্দুমাত্র সুযোগ নেই।
অন্যদিকে, তাদের ভাই খ্রিষ্টানরা ইহুদিদের এই বিচ্যুতির সাথে নিজেদের আরও কিছু নতুন বিদআতের সংযোজন ঘটাল। যার মধ্যে অন্যতম হলো ‘রহবানিয়্যাত’ বা সংসারবিরাগ, যার
