ইতিহাসের এই সন্ধিক্ষণে আমাদের প্রধান দায়িত্ব হলো, ইসলামের এই উদীয়মান ও বরকতময় নবজাগরণের (সাহওয়া) সামনে সত্যকে পরিষ্কারভাবে তুলে ধরা এবং তাদের জন্য একটি সঠিক ও সুদৃঢ় পথনকশা তৈরি করে দেওয়া। ইতিহাসের গভীর পর্যালোচনা এবং ভবিষ্যতের পূর্বাভাস থেকে আমার মনে এই দৃঢ় বিশ্বাস জন্মেছে যে, মুসলমানরা তাদের দীর্ঘদিনের গাফেলত ও ঘুম থেকে জেগে উঠেছে এবং তারা যেকোনো পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে আজ প্রস্তুত। ঘুম থেকে সদ্য জেগে ওঠা মানুষেরা শুরুতে কিছুটা পথ হারাতে পারে, নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্বে জড়াতে পারে এবং এটি খুব স্বাভাবিক; হয়তো এই অবস্থা কিছুকাল স্থায়ীও হতে পারে, তবে শেষ বিজয় কিন্তু মুত্তাকীদের জন্যই নির্ধারিত। আল্লাহ লিখে রেখেছেন: “আমি এবং আমার রাসূলগণ অবশ্যই বিজয়ী হব; নিশ্চয়ই আল্লাহ মহাশক্তিশালী, পরাক্রমশালী” (সূরা আল-মুজাদালাহ: ২১)।
উদাহরণস্বরূপ, আজ তুরস্কের মতো দেশগুলো যেমন পুনরুত্থানের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, ঠিক তেমনি পাশ্চাত্য সভ্যতা দিন দিন পতনের অতল গহ্বরে তলিয়ে যাচ্ছে। আজ যদি কারও জন্য করুণা করতে হয়, তবে সেইসব বিভ্রান্ত মুসলমানদের জন্য করা উচিত, যারা এখনো এই পতনোন্মুখ পাশ্চাত্য সভ্যতা ও তার ধ্বজাধারীদের ওপর আশা ভরসা টিকিয়ে রেখেছে। যারা তাদের দার্শনিক ও চিন্তাবিদদের অন্ধ অনুকরণেই মানবতার কল্যাণ খোঁজে এবং মনে করে যে, পশ্চিমাদের পায়ের ছাপ অনুসরণ না করলে বুঝি প্রগতি আর উন্নয়নের শিখরে পৌঁছানো সম্ভব নয়। অথচ মুসলমানদের ইতিহাস সাক্ষী, যখনই কেউ দর্শনের নামে আকিদার সেই স্বচ্ছ ও নির্মল উৎসকে ঘোলাটে বা বিকৃত করতে চেয়েছে, মুসলমানরা আজীবন তার বিরুদ্ধে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়েছে। যুগে যুগে যারা কিতাব ও সুন্নাহর দিকে মানুষকে আহ্বান জানিয়েছেন, তারা সবাই এই লড়াইটাই করেছেন। ইসলামের ইতিহাসে এমন সাহসী অবস্থানের পেছনে সবচেয়ে উজ্জ্বল হয়ে আছেন তিনজন কালজয়ী ইমাম, যাদের প্রভাব সমসাময়িক কাল থেকে শুরু করে পরবর্তী পুরো মুসলিম বিশ্বের ওপর গভীরভাবে বিস্তার করেছিল, তারা হলেন ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল, শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ এবং সংস্কারক শায়খ মুহাম্মদ বিন আবদুল ওয়াহাব (আল্লাহ তাঁদের সবার ওপর রহমত বর্ষণ করুন)।
আজকের এই দিনে আমাদেরও ঠিক তেমনিভাবে দ্বীনের বিশুদ্ধতাকে রক্ষা করতে হবে, যেভাবে তাঁরা করে গিয়েছিলেন, যদিও তাঁদের সেই মহান কাজগুলো একক কোনো ব্যক্তির নয়, বরং গোটা উম্মাহর কাঁধ মিলিয়ে করার মতো ছিল।
ইমাম আহমাদ (রহ.) অত্যন্ত কঠোর ও
