কিংবা প্রতিশোধ নেওয়ার লালসা নয়; বরং এটি হলো দ্বীনের মৌলিক আদর্শে অবিচল থাকা, মুসলিম উম্মাহর কল্যাণকামনা এবং তাদের ঐক্যবদ্ধ রাখার এক ব্যাকুল প্রয়াস।
রাসূলুল্লাহ ﷺ বায়আতে আকাবার রাতে তাঁর সাহাবীদের কাছ থেকে এই মর্মে শপথ নিয়েছিলেন যে, তারা যেখানেই থাকুন না কেন, সর্বদা সত্য কথা বলবেন এবং আল্লাহর পথে কোনো নিন্দুকের নিন্দাকে ভয় করবেন না। তাঁরা প্রত্যেকে প্রতিটি মুসলমানের কল্যাণকামনার ওপর বায়আত হয়েছিলেন। আল্লাহর নবী হূদ (আ.) তাঁর জাতির সামনে দাঁড়িয়ে ঘোষণা করেছিলেন: “আমি আল্লাহকে সাক্ষী রাখছি এবং তোমরাও সাক্ষী থাকো যে, তোমরা আল্লাহর শরিক হিসেবে যাদের ইবাদত করো, তাদের সাথে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। অতএব, তোমরা সবাই মিলে আমার বিরুদ্ধে যত ইচ্ছা চক্রান্ত করো এবং আমাকে বিন্দুমাত্র অবকাশ দিও না। আমি তো ভরসা করেছি আমার ও তোমাদের প্রতিপালক আল্লাহর ওপর। ভূপৃষ্ঠের এমন কোনো জীব নেই যার ভাগ্য তাঁর মুঠোয় নয়; নিশ্চয়ই আমার প্রতিপালক সরল সঠিক পথে আছেন” (সূরা হূদ: ৫৪-৫৬)। শত্রুরা বড়জোর আমার যা ক্ষতি করতে পারে, তা হলো আমাকে হত্যা করা; আর তা তো হবে শাহাদাতের মর্তবা। আমি নিজেকে এই সম্মানের যোগ্য মনে করি না, তবে আল্লাহ যদি দয়া করে আমাকে তা দান করেন, তবে তা হবে শৈশব থেকে আমার ওপর বর্ষিত তাঁর অফুরন্ত নিয়ামতেরই এক ধারাবাহিকতা।
আমি যে আজ এই কথাগুলো বলছি, তার উদ্দেশ্য হলো, সবাইকে আমার আগের লেখা ‘১১ সেপ্টেম্বরের ঘটনার শরয়ী দৃষ্টিকোণ’ এবং তার সাথে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের কাছে পাঠানো খোলা চিঠিটি পড়ার অনুরোধ করা। সেটি পড়লে আপনারা বুঝতে পারবেন আজ পরিস্থিতির কতটা আমূল পরিবর্তন ঘটেছে। বিশেষ করে যখন আমেরিকা খোদ তুরস্কের ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানের চক্রান্তে জড়িয়ে পড়ল, ইরাকের মাটিতে চরমভাবে পরাস্ত হলো এবং আফগানিস্তানে তাদের লজ্জাজনক পরাজয় আজ দুনিয়াবাসীর সামনে একদম স্পষ্ট হয়ে গেল। আল্লাহ তাদের দালালদের লাঞ্ছিত করেছেন এবং তাদের ওপর চারপাশ থেকে নানামুখী আজাব ও নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে দিয়েছেন, আর সামনে যা আসছে তা তো আরও ভয়াবহ।
প্রিয় নবী ﷺ আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন, যদি কখনো কোনো মুসলমানের সামনে তার দ্বীন রক্ষা করা অথবা ঘাড় কেটে ফেলার মধ্যে যেকোনো একটিকে বেছে নেওয়ার পরিস্থিতি আসে, তবে সে যেন নিজের ঘাড়কেই এগিয়ে দেয়।
