এবার ধুলোয় ছুড়ে ফেলে দাও। আমাদের নিজের বাবা বলে মনে করো; কারণ সারা বিশ্ব জেনে রাখুক, এই সিংহাসনের সবচেয়ে নিকটবর্তী উত্তরাধিকারী তুমিই। আর একজন স্নেহময় পিতা তার পুত্রকে যতটুকু গভীর ভালোবাসা দিতে পারেন, তার চেয়ে বিন্দুমাত্র কম নয় এমন এক পবিত্র ও সুউচ্চ মর্যাদা নিয়ে আমি তোমাকে আমার বুকে স্থান দিচ্ছি।
আর উইটেনবার্গে তোমার ওই পড়াশোনায় ফিরে যাওয়ার যে ইচ্ছা, তা আমাদের ইচ্ছার সম্পূর্ণ পরিপন্থী। আমরা তোমাকে বিনীত অনুরোধ করছি, নিজের মনটাকে একটু মানিয়ে নিয়ে এখানেই থেকে যাও—আমাদের চোখের সামনে, আমাদের আনন্দ আর আশ্রয়ের মাঝে; আমাদের এই দরবারের প্রধান সভাসদ, আমাদের পরমাত্মীয় এবং আমাদের পুত্র হয়ে।
রানি গার্ট্রুড
তোমার মায়ের এই আকুল প্রার্থনা বৃথা যেতে দিয়ো না, হ্যামলেট। আমি তোমার কাছে মিনতি করছি, আমাদের সাথেই থেকে যাও; উইটেনবার্গে যেয়ো না, বাবা।
হ্যামলেট
আমি আমার সাধ্যমতো সবটুকু দিয়ে আপনার আদেশ পালন করব, মা।
রাজা ক্লডিয়াস
বাহ্, এ তো ভারী মিষ্টি আর চমৎকার একটা জবাব! ডেনমার্কে আমাদের মতোই স্বাধীন ও সমমর্যাদায় থেকো। এসো মহিযী, আসা যাক; হ্যামলেটের এই স্বতঃস্ফূর্ত ও ভদ্র সম্মতি আমার মনে আনন্দের জোয়ার এনে দিয়েছে। আর এই আনন্দের সম্মানে, আজ ডেনমার্কের রাজা যখনই উল্লাসে মদ্যপাত্রে চুমুক দেবেন, তখনই মেঘের পানে চেয়ে গর্জে উঠবে বিশাল সব কামান; আর রাজার সেই আনন্দ-উৎসবের বার্তা আকাশজুড়ে প্রতিধ্বনিত হয়ে মর্ত্যের বুকে ডেকে আনবে কৃত্রিম এক বজ্রনাদ। এসো, যাওয়া যাক।
(হ্যামলেট ছাড়া সকলের প্রস্থান)
হ্যামলেট
ওহ্! এই অতিমাত্রায় নিরেট ও অসাড় মানবদেহটা যদি গলে যেত! গলে গলে যদি রূপ নিত ভোরের একবিন্দু শিশিরে!
কিংবা পরমেশ্বর যদি আত্মহননের বিরুদ্ধে তাঁর ওই অলঙ্ঘনীয় বিধান জারি না করতেন! ওহ ঈশ্বর! হে ভগবান! এই পৃথিবীর সমস্ত আচার-আচরণ, সমস্ত বৈচিত্র্য আজ আমার কাছে কতটা ক্লান্তিকর, একঘেয়ে, পানসে আর অর্থহীন বলে মনে হচ্ছে! ধিক্কার এই জীবনকে! আহ্, শত ধিক্কার! এ যেন আগাছায় ভরা এক পরিত্যক্ত বাগান, যেখানে শুধু জঙ্গল বাড়ে; যত সব পচা আর কুৎসিত জিনিস চারপাশ থেকে এটাকে গ্রাস করে নিয়েছে। পরিস্থিতি শেষ পর্যন্ত এই পর্যায়ে এসে ঠেকল!
অথচ বাবা মারা গেছেন মাত্র দুটো মাস হলো; না, তাও তো নয়, দুটো মাসও তো পুরো হয়নি! কী চমৎকার একজন রাজা ছিলেন
