হ্যামলেট

« <
/ 13
> »

তোমাদের দিকেই চোখ জোড়া স্থির করে তাকিয়ে ছিল?

হোরাশিও

হ্যাঁ, একদৃষ্টে, একটানা।

হ্যামলেট

ইশ্‌, আমি যদি তখন ওখানে থাকতাম!

হোরাশিও

তাহলে আপনি চরম বিস্ময়ে হতবাক হয়ে যেতেন।

হ্যামলেট

খুবই স্বাভাবিক, খুবই স্বাভাবিক। ও কি অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে ছিল?

হোরাশিও

ঠিক যতক্ষণ সময়ে খুব তাড়াহুড়ো না করে মোটামুটি স্বাভাবিক গতিতে এক থেকে একশো পর্যন্ত গোনা যায়।

মার্সেলস ও বার্নার্ডো

তার চেয়েও বেশি, আরও অনেক বেশি সময়!

হোরাশিও

আমি যখন দেখেছি, তখন কিন্তু অতটা সময় ছিল না।

হ্যামলেট

ওঁর দাড়িগুলো কি একটু পাকা ছিল—তাই না?

হোরাশিও

ওঁর জীবদ্দশায় আমি যেমনটি দেখেছিলাম ঠিক তেমনই—কালোর বুকে রুপোলি আভা মাখানো।

হ্যামলেট

আমি আজ রাতে পাহারায় বসব। কে জানে, হয়তো ও আবার আসতেও পারে।

হোরাশিও

আমার বিশ্বাস, ও নিশ্চয়ই আসবে।

হ্যামলেট

ও যদি আমার মহান পিতার রূপ ধরে আসে, আমি ওর সাথে কথা বলবই—তা সে নরক নিজে এসে হা করে আমার পথ আগলে দাঁড়াক আর আমাকে চুপ থাকতে বলুক না কেন! তোমাদের সবার কাছে আমার একটা মিনতি—তোমরা এ পর্যন্ত যেভাবে এই দৃশ্যটার কথা গোপন রেখেছ, সেভাবেই এটা নিজেদের মনের মণিকোঠায় চেপে রাখো। আর আজ রাতে অন্য যা কিছু ঘটুক না কেন, তা বুদ্ধি দিয়ে অনুধাবন কোরো, কিন্তু ভুলেও মুখে এনো না। তোমাদের এই ভালোবাসার ঋণ আমি নিশ্চয়ই শোধ করব। তাহলে এখন আসি ভাই; আজ রাত এগারোটা থেকে বারোটার মধ্যে সেই চত্বরে আমি তোমাদের সাথে দেখা করব।

সবাই

আপনার প্রতি আমাদের বিনীত শ্রদ্ধা রইল।

হ্যামলেট

শ্রদ্ধা নয় ভাই, আমাদের পারস্পরিক ভালোবাসা রইল; বিদায়।

(হ্যামলেট ছাড়া সকলের প্রস্থান)

আমার বাবার আত্মা, তাও আবার যুদ্ধসাজে সজ্জিত! সব কিছু ঠিক ঠাহর হচ্ছে না; কোনো এক গভীর ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছি। ইশ্‌, রাতটা যদি আর একটু জলদি আসত! ততক্ষণ পর্যন্ত, হে আমার ব্যাকুল মন, শান্ত হয়ে থাকো। পাপ যত গভীরেই চাপা থাক না কেন, সমস্ত পৃথিবী দিয়ে ঢেকে রাখলেও তা একদিন মানুষের চোখের সামনে প্রকাশ পাবেই।

(প্রস্থান)

 

« <
/ 13
> »