হ্যামলেট

« <
/ 13
> »

কোনো আবদার করে তুমি কখনো বিমুখ হবে না। লায়ের্তিস, তুমি এমন কী চাইতে পারো যা তোমার চাওয়ার আগেই আমি নিজে থেকে তোমাকে দেব না? মানবদেহের মস্তক যেমন হৃদয়ের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত, হাত যেমন মুখের অন্ন জোগাতে সবচেয়ে বড় মাধ্যম, ডেনমার্কের এই রাজসিংহাসনও তোমার বাবার প্রতি ঠিক ততটাই অনুগত ও কৃতজ্ঞ। বলো লায়ের্তিস, তুমি কী চাও?

লায়ের্তিস

আমার পরম পূজনীয় মহারাজ,

ফ্রান্সে ফিরে যাওয়ার জন্য আপনার অনুমতি আর সদয় সম্মতি ভিক্ষা করছি। যদিও আপনার রাজ্যাভিষেকে উপস্থিত থেকে নিজের কর্তব্য পালন করতে আমি স্বেচ্ছায় ডেনমার্কে এসেছিলাম, তবুও আজ আমাকে স্বীকার করতেই হচ্ছে যে, সেই দায়িত্ব শেষ হওয়ার পর আমার মন আর ইচ্ছাগুলো আবারও ফ্রান্সের দিকেই ছুটে যেতে চাইছে। আপনার সদয় অনুমতি আর ক্ষমাপ্রার্থনার সামনে আমি বিনীত মস্তকে দাঁড়িয়ে আছি।

রাজা ক্লডিয়াস

তোমার বাবার অনুমতি পেয়েছ তো? পলোনিয়াস, এ বিষয়ে আপনার কী অভিমত?

পলোনিয়াস

পেয়েছে মহারাজ। বারবার অনুনয়-বিনয় আর সাধ্যসাধনা করে ও আমার কাছ থেকে এই অনিচ্ছুক অনুমতি আদায় করে নিয়েছে। অবশেষে ওর তীব্র জেদের কাছে হার মেনে আমি বেশ কষ্টেই সম্মতি দিয়েছি। আমি আপনাকে বিনীত অনুরোধ করছি, ওকে যাওয়ার অনুমতি দিন।

রাজা ক্লডিয়াস

তবে এই শুভক্ষণ তোমার হোক, লায়ের্তিস; সময় এখন তোমার অনুকূলে। তোমার মেধা আর যোগ্যতা দিয়ে যেভাবে খুশি এই সময়কে সাজিয়ে নাও!

কিন্তু এবার আসি আমাদের প্রিয় ভাইপো হ্যামলেট—এবং আমার পুত্রের প্রসঙ্গে—

হ্যামলেট

(স্বগত) সম্পর্কের দিক থেকে প্রয়োজনের চেয়ে একটু বেশিই আপন, কিন্তু আচরণের দিক থেকে পশুর চেয়েও অধম!

রাজা ক্লডিয়াস

কী ব্যাপার হ্যামলেট, তোমার মনের আকাশে এখনও এমন মেঘ জমে আছে কেন?

 

হ্যামলেট

তা নয়, মহারাজ; আমি আসলে একটু বেশিই রোদের মধ্যে—মহারাজের এই “পুত্রস্নেহের” উত্তাপে আছি।

রানি গার্ট্রুড

লক্ষ্মী বাবা হ্যামলেট, তোমার এই রাতের মতো কালো বিষণ্ণ পোশাক এবার খুলে ফেলো, আর ডেনমার্কের রাজার দিকে অন্তত একটু বন্ধুর চোখে তাকাও। চোখের পাতা দুটো এভাবে সবসময় নিচু করে ধূলিকণার মাঝে তোমার ওই মহান বাবাকে আর কত খুঁজবে? তুমি তো জানো এটাই জগতের নিয়ম; যার জীবন আছে তাকে একদিন মরতেই হবে—প্রকৃতির এই রূপ পার হয়ে যেতে হবে অনন্তের ওপারে।

হ্যামলেট

হ্যাঁ, মা, এটাই তো নিয়ম।

রানি গার্ট্রুড

যদি সেটাই নিয়ম

« <
/ 13
> »