শোনামাত্রই—সমুদ্র কিংবা আগুন, পৃথিবী কিংবা আকাশ—যেখানেই থাকুক না কেন, এই অবাধ্য ও দিকবিদিক ঘুরে বেড়ানো আত্মারা যার যার বন্দিশালায় ফিরে যায়। আর এই ঘটনার সত্যতা আজ আমাদের চোখের সামনেই প্রমাণিত হলো।
মার্সেলস
মোরগের ডাক শোনার সাথে সাথেই ওটা মিলিয়ে গেল। লোকে বলে, আমাদের ত্রাণকর্তার (যীশু খ্রিস্টের) শুভ জন্মতিথি উদযাপনের সেই পবিত্র সময়টা যখন ঘনিয়ে আসে, তখন ভোরের এই পাখিটি নাকি সারা রাত ধরে গান গায়। আর সেই দিনগুলোতে, লোকে বলে, কোনো প্রেতাত্মা বাইরে আসার সাহস পায় না; রাতগুলো হয়ে ওঠে পরম পবিত্র, গ্রহ-নক্ষত্রেরা কোনো কুপ্রভাব ফেলে না, ডাইনি বা অপদেবতারা কোনো মায়াজাল বা জাদুটোনা করতে পারে না—এমনই পুণ্যময় আর কল্যাণকর সেই সময়।
হোরাশিও
আমিও এমনটা শুনেছি এবং কিছুটা বিশ্বাসও করি। কিন্তু ওই দেখো, গেরুয়া রঙের চাদর গায়ে জড়িয়ে সকাল কেমন ওই পূর্বদিকের উঁচু পাহাড়ের শিশিরভেজা বুক বেয়ে হেঁটে আসছে! চলো, আমাদের পাহারা এবার শেষ করা যাক। আর আমার পরামর্শ যদি শোনো, আজ রাতে আমরা যা যা দেখলাম, তা তরুণ হ্যামলেটকে জানানো দরকার; কারণ আমার জীবনের কসম, যে প্রেতাত্মা আমাদের সামনে বোবা হয়ে রইল, সে তাঁর সামনে মুখ খুলবেই। তোমরা কি আমার সাথে একমত যে আমাদের ভালোবাসার খাতিরে আর কর্তব্যের টানে এই খবরটা ওঁর কাছে পৌঁছানো উচিত?
মার্সেলস
হ্যাঁ, চলো সেটাই করা যাক। আর আজ সকালে ঠিক কোথায় গেলে সবচেয়ে সহজে ওঁর দেখা মিলবে, তা আমার জানা আছে।
(সবার প্রস্থান)
২য় পরিচ্ছেদ
(রাজা ক্লডিয়াস, রানি গার্ট্রুড, হ্যামলেট, পলোনিয়াস, লায়ের্তিস, ভল্টিমান্ড, কর্নেলিয়াস, দরবারের অভিজাতবর্গ এবং অনুচরবৃন্দের প্রবেশ)
রাজা ক্লডিয়াস
যদিও আমাদের প্রিয় ভ্রাতা হ্যামলেটের মৃত্যুর স্মৃতি আজও সতেজ, এবং শোকাচ্ছন্ন হৃদয়ে সারা রাজ্যকে এক গভীর বেদনার চাদরে ঢেকে রাখাই আমাদের জন্য সমীচীন ছিল, তবুও আমাদের বিবেক প্রকৃতির অমোঘ নিয়মের সাথে লড়াই করে এক বিচক্ষণ ভারসাম্যে এসে পৌঁছেছে। আজ আমরা যেমন গভীর মমতায় ওঁর কথা স্মরণ করছি, ঠিক তেমনই অত্যন্ত বিচক্ষণতার সাথে রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতির কথাও ভাবছি।
আর সেই কারণেই, যিনি একাধারে আমাদের প্রাক্তন ভ্রাতৃজায়া এবং এখন আমাদের রানি—এই যুদ্ধংদেহী সাম্রাজ্যের রাজকীয় অংশীদার—তাঁকে আমরা অর্ধাঙ্গিনী হিসেবে গ্রহণ করেছি। এই সিদ্ধান্ত যেন এক বিষাদগ্রস্ত আনন্দের মতো; যেখানে এক চোখে আমাদের আশার আলো, অন্য চোখে
